খিঁচুনির কবলে অভিনেত্রী ফাতিমা!
চোখে মুখে আত্মবিশ্বাস, পর্দায় অনবদ্য উপস্থিতি। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন অভিনেত্রী ফাতিমা সানা শেখ। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বিমানযাত্রার সময় হঠাৎই প্রবল খিঁচুনির কবলে পড়েছিলেন তিনি। এমন অবস্থায় সাধারণ চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যর্থ হওয়ায় তাঁকে দিতে হয়েছিল অতিরিক্ত মাত্রার ওষুধ—যা পরে তাঁর শরীরে আরও জটিল প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।
ঘটনাটি ঘটেছিল এক আন্তর্জাতিক সফরের সময়। আমেরিকায় যাওয়ার পথে দুবাই বিমানবন্দরে ট্রানজিটে ছিলেন ফাতিমা। সেখানেই হঠাৎ তাঁর মৃগীর খিঁচুনি শুরু হয়। অবস্থা এতটাই আশঙ্কাজনক হয়ে ওঠে যে তাঁকে তৎক্ষণাৎ বিমানবন্দরের মেডিক্যাল ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। ফাতিমা বলেন, “খুব দ্রুত আমার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। একটানা খিঁচুনি উঠছিল। চিকিৎসকেরা প্রথমে সাধারণ ওষুধ দেন। কিন্তু কোনও কাজ হচ্ছিল না। তখন আমাকে আরও কড়া ডোজ়ের ওষুধ দিতে হয়।”
কিন্তু এখানেই শেষ নয় বিপদের। মৃগীর চিকিৎসায় সাধারণত একটি ওষুধের কার্যকারিতা কমে গেলে অন্যটি দেওয়া হয়, কিন্তু ফাতিমা একই সময়ে দুটি ভিন্ন ওষুধ খাওয়ায় শরীরে তার প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। “আমি একেবারে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলাম। শরীর চলছিল না, মাথা ঝিমঝিম করছিল। বিছানা থেকে উঠতেও পারছিলাম না,”—বলছিলেন অভিনেত্রী।
এই ঘটনার পর তাঁর চলতি দুই সিনেমার শুটিং—সাম বাহাদুর ও ধক ধক—বাতিল করতে হয়। ফাতিমা বলেন, “একজন ফোন করে জানতে চেয়েছিলেন আমি শুটিং করতে পারব কি না। তখন আমি কেঁদে ফেলেছিলাম। সত্যিই ভেঙে পড়েছিলাম। শারীরিকভাবে এতটা দুর্বল ছিলাম যে কিছুই করতে পারছিলাম না।”
তবে ফাতিমার এই সাহসিকতা প্রশংসার যোগ্য, কারণ তিনি এই অভিজ্ঞতা গোপন রাখেননি। বরং সকলকে সতর্ক করতে এই ঘটনা সামনে এনেছেন তিনি। ওষুধের মাত্রা ও প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে সচেতনতার অভাব এখনও বহু মানুষের সমস্যা সৃষ্টি করে। ফাতিমা চান, তাঁর অভিজ্ঞতা অন্যদের চোখ খুলে দিক।
একদিকে ফাতিমার জীবনসঙ্গী হল বাস্তবের কঠিনতা, অন্যদিকে রূপালি পর্দায় তিনি থাকছেন দর্শকের ভালোবাসার কেন্দ্রে। খুব শীঘ্রই তাঁকে দেখা যাবে অনুরাগ বসুর বহু প্রতীক্ষিত ছবি মেট্রো… ইন দিনো-তে। অভিনয় জীবনের সাফল্যের আড়ালে এই লড়াইয়ের গল্প ফাতিমাকে করে তোলে আরও মানবিক, আরও অনুপ্রেরণাদায়ী।
স্মৃতি ধরে রাখার জাদু: মস্তিষ্কে অ্যাসিটোকোলিন সচল রাখতে রোজকার অভ্যেসে আনুন এই পাঁচ পরিবর্তন