খোলামেলা আড্ডায় নিজের ক্রিকেটদর্শন জানালেন বিরাট কোহলি!
Virat Kohli সম্প্রতি Royal Challengers Bengaluru-এর পডকাস্টে ক্রিকেটজীবনের নানা দিক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। উপস্থাপক Mayanti Langer-এর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনায় উঠে এসেছে টেস্ট ক্রিকেট, অধিনায়কত্ব, আইপিএল জয়, অবসর এবং নিজের ফিটনেস দর্শনের মতো একাধিক বিষয়।
টেস্ট ক্রিকেটের ‘সোনালি সময়’
ভারতীয় টেস্ট দলের অধিনায়ক থাকার সময়কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন কোহলি। তাঁর মতে, সেই সময় ভারতীয় টেস্ট ক্রিকেট এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছেছিল। চেতেশ্বর পুজারা, অজিঙ্ক রাহানে, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, ইশান্ত শর্মা, মহম্মদ শামি ও রবীন্দ্র জাডেজাদের মতো ক্রিকেটারদের সঙ্গে খেলাকে তিনি “সোনালি অধ্যায়” বলে উল্লেখ করেছেন।
কোহলির কথায়, সেই দলের অন্যতম শক্তি ছিল ক্রিকেটারদের বয়সের কাছাকাছি হওয়া। ফলে সিনিয়র-জুনিয়রের দূরত্ব কম ছিল এবং সকলে মিলে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি হয়েছিল। বিদেশের মাটিতে ধারাবাহিক সাফল্যের পিছনেও সেই ঐক্যের ভূমিকা ছিল বলে মনে করেন তিনি।
অধিনায়কত্বের অভিজ্ঞতা
২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে প্রথম বার টেস্ট দলের নেতৃত্ব পান কোহলি। সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, দল পরিচালনা কখনও এক জনের কাজ ছিল না। বরং তরুণ ক্রিকেটারদের একটি দল একসঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করেই এগিয়েছিল।
তাঁর মতে, দলের প্রত্যেক ক্রিকেটার নিজেকে দায়বদ্ধ মনে করতেন। সবাই একে অপরকে প্রশ্ন করতেন— কী ভাবে আরও ভাল হওয়া যায়, কী ভাবে আগামী কয়েক বছরের জন্য শক্তিশালী দল তৈরি করা যায়।
আইপিএল জয়ের অনুভূতি
আরসিবির হয়ে বহু বছরের অপেক্ষার পর আইপিএল জয়ের অনুভূতি এখনও আবেগতাড়িত করে কোহলিকে। তিনি বলেন, ফাইনালের শেষ ওভারের শেষ কয়েক বলের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
তাঁর কথায়, যদি ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে আইপিএল জিততেন, তা হলে হয়তো এত গভীর আনন্দ অনুভব করতেন না। ১৮ বছরের অপেক্ষা, চাপ, সমালোচনা এবং প্রত্যাশা— সব মিলিয়ে সেই ট্রফির মূল্য অনেক বেশি।
তবে আইপিএল না জিতলেও জীবনভর আফসোস নিয়ে বাঁচতেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি। যদিও একটা অপূর্ণতা হয়তো থেকে যেত।
ক্রিকেটের বদল, কিন্তু ভিত্তি একই
বর্তমান টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের যুগেও টেকনিক ও ভারসাম্যের গুরুত্ব কমেনি বলে মনে করেন কোহলি। গ্রেম স্মিথ, সচিন তেন্ডুলকর, এবি ডিভিলিয়ার্স কিংবা লোকেশ রাহুলদের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সফল হওয়ার রাস্তা একটাই নয়।
ক্রুণাল পাণ্ড্য এবং ভুবনেশ্বর কুমারের মতো সিনিয়র ক্রিকেটারদের সাফল্যের প্রশংসা করে কোহলি জানান, ক্রিকেটের কিছু মৌলিক দিক কখনও পুরনো হয় না। সঠিক টেকনিক ও প্রস্তুতি থাকলে যে কোনও ফরম্যাটে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব।
অবসর নিয়ে স্পষ্ট ভাবনা
অবসর প্রসঙ্গে কোহলি জানিয়েছেন, নিজের মানদণ্ডের সঙ্গে আপস করতে চান না তিনি। যদি কখনও মনে হয়, তাঁকে আর নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিতে হচ্ছে বা দলের জন্য যথেষ্ট অবদান রাখতে পারছেন না, তা হলে সরে দাঁড়াবেন।
তাঁর মতে, ক্রিকেট তাঁকে জীবনে অনেক কিছু দিয়েছে এবং সেই জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। মাঠে নামলে এখনও শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।
৩৭ বছরেও একই রকম প্রস্তুতি
ফিটনেস ও প্রস্তুতির বিষয়ে এখনও অত্যন্ত কঠোর কোহলি। তিনি জানান, কোনও সিরিজ় শুরুর আগে আলাদা করে প্রস্তুতি নেন না। বরং সারা বছর নিজেকে ম্যাচ ফিট রাখেন।
নিয়মিত শরীরচর্চা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপনই তাঁর প্রস্তুতির মূল চাবিকাঠি। কোহলির কথায়, যে কোনও সময় তাঁকে সিরিজ় খেলতে বলা হলে তিনি মাঠে নামতে প্রস্তুত।
২০২৭ বিশ্বকাপের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে আলোচনায়। যদিও এখনই সে বিষয়ে বেশি ভাবতে চান না তিনি। তাঁর ফোকাস এখনও বর্তমান ক্রিকেটেই।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা