আইপিএলে নতুন কড়াকড়ি!
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। তাই প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। সেই লক্ষ্যেই এ বার ক্রিকেটার, সাপোর্ট স্টাফ এবং ম্যাচ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য আরও কঠোর নিয়ম চালু করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ম্যাচ চলাকালীন স্টেডিয়ামের নির্দিষ্ট এলাকায় স্মার্ট ঘড়ি, স্মার্ট চশমা এবং স্মার্ট সানগ্লাস ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিসিসিআইয়ের দুর্নীতি দমন শাখার পরামর্শেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
আসলে আধুনিক স্মার্ট ডিভাইসগুলি এখন শুধু সময় দেখার কাজেই সীমাবদ্ধ নয়। এগুলির মাধ্যমে মেসেজ পাঠানো, ফোনে কথা বলা, ভিডিও কল করা কিংবা বিভিন্ন তথ্য আদানপ্রদান করা সম্ভব। ফলে ম্যাচ চলাকালীন এগুলি যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। আর সেই সম্ভাবনাকে পুরোপুরি বন্ধ করতেই কড়া অবস্থান নিয়েছে বোর্ড।
আইপিএলে বহু দিন ধরেই স্টেডিয়ামের কিছু নির্দিষ্ট অংশকে ‘রেস্ট্রিকটেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই এলাকাগুলিতে বাইরের কারও সঙ্গে যোগাযোগ রাখা যায় না। মোবাইল ফোন ব্যবহারও নিষিদ্ধ থাকে। শুধুমাত্র ক্রিকেটার, দলের সাপোর্ট স্টাফ, ম্যাচ অফিসিয়াল এবং দুর্নীতি দমন শাখার অনুমোদিত কর্মীরাই সেখানে প্রবেশ করতে পারেন।
নতুন নিয়মে সেই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত হল স্মার্ট প্রযুক্তিনির্ভর আরও কয়েকটি ডিভাইস। বোর্ডের মতে, প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে স্মার্ট ঘড়ি বা স্মার্ট চশমার মাধ্যমেও তথ্য আদানপ্রদান করা সম্ভব। তাই ম্যাচের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এগুলিকেও সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই ধরনের ডিভাইসগুলি অনিচ্ছাকৃত বা ইচ্ছাকৃত ভাবে যোগাযোগের জন্য ব্যবহার হতে পারে। ফলে কোনও ধরনের সন্দেহ বা বিতর্কের সুযোগ না রাখতেই বিসিসিআইয়ের এই পদক্ষেপ।
ক্রিকেটে গড়াপেটা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বরাবরই কঠোর অবস্থান নিয়েছে বোর্ড। অতীতের কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতার পর থেকে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। নতুন এই নির্দেশিকাকে সেই প্রচেষ্টারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তির যুগে খেলার সততা রক্ষা করতে নিয়মগুলিকেও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলাতে হয়। আর সেই কারণেই আইপিএলে স্মার্ট ডিভাইসের উপর এই নতুন নিষেধাজ্ঞা ভবিষ্যতে আরও নিরাপদ ও স্বচ্ছ পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?