আইপিএলের নায়ক থেকে বাদ পড়ার ধাক্কা, তবু হার মানেনি বৈভব!!
মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য আর কঠিন হতাশা— দু’টোরই স্বাদ পেয়েছে বৈভব সূর্যবংশী। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক, আইপিএলে ঝড় তোলা ব্যাটার, তারপর ভারতীয় দলে অভিষেক। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শুরুটা আশানুরূপ হয়নি। তিন ম্যাচ পরেই দল থেকে বাদ পড়তে হয়েছে। তবু ১৫ বছরের এই তরুণ ক্রিকেটার পিছনে তাকাতে নারাজ। জ়িম্বাবোয়ে সফরের আগে তাঁর একটাই লক্ষ্য— দেশের হয়ে নিজের সেরাটা দেওয়া।
আয়ারল্যান্ড সফরের টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা হয়নি বৈভবের। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সুযোগ পেলেও তিন ম্যাচে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত পঞ্চম ম্যাচের আগে একাদশ থেকেও বাদ পড়তে হয়। তবে জ়িম্বাবোয়ে সফরে আবার সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাঁর।
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের ওয়েবসাইটে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বৈভব বলেন, “গত চার মাসে অনেক উত্থান-পতনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছি। তবে এটাই ক্রিকেটের অংশ। ভাল-মন্দ সময় আসবেই। আমার কাজ হল নিজের প্রক্রিয়ার উপর ভরসা রাখা এবং দেশের জন্য শতভাগ দেওয়া।”
দল থেকে বাদ পড়ার সময় বৈভবকে বেশ আবেগপ্রবণ দেখিয়েছিল। এত অল্প বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপ সামলানো সহজ নয়। তবে পরিবারের পাশাপাশি কোচিং স্টাফের সমর্থনই তাঁকে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর আত্মবিশ্বাস দিয়েছে।
তাঁর কথায়, “আমি যে ধরনের অনুশীলন করতে চেয়েছি, কোচেরা সব সময় সেই সুযোগ করে দিয়েছেন। তাঁদের সমর্থন আমাকে অনেক আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। এখন অনেক বেশি প্রস্তুত মনে হচ্ছে নিজেকে।”
জ়িম্বাবোয়ে সফর বৈভবের কাছে আরও বিশেষ একটি কারণে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এই দেশেই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে ১৭৫ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। সেই একই মাঠে আবার ভারতের জার্সিতে নামার সুযোগ মিলতে চলেছে।
স্মৃতিচারণ করে বৈভব বলেন, “এই মাঠটা আমার কাছে খুবই বিশেষ। কয়েক মাস আগেই এখানে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতেছিলাম। ভারতের হয়ে আবার এই মাঠে খেলতে নামা সত্যিই দারুণ অনুভূতি। সেই মুহূর্তগুলো আজও মনে আছে।”
তবে অতীতের সাফল্যে ভেসে থাকতে চান না তিনি। বরং সেই অভিজ্ঞতাকেই কাজে লাগিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন।
বৈভবের বিশ্বাস, জ়িম্বাবোয়ের পরিবেশ ও উইকেট সম্পর্কে আগের অভিজ্ঞতা এবার তাঁর বাড়তি সুবিধা হবে। তিনি বলেন, “এখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কে আমার ভাল ধারণা রয়েছে। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে খেলার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাই। অনুশীলনে যা করেছি, সেটাই মাঠে প্রয়োগ করতে চাই। সুযোগ পেলে দলের জয়ে যতটা সম্ভব অবদান রাখাই আমার লক্ষ্য।”
কয়েক মাসে অনেক কিছু বদলেছে। কিন্তু বৈভব সূর্যবংশীর আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরেনি। বরং ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়েই আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরতে প্রস্তুত ভারতের এই তরুণ প্রতিভা।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?