অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে অভিষেকের অপেক্ষা!!
ভারতীয় ক্রিকেটের সঙ্গে তাঁর যোগ বহু দিনের। এক সময় পঞ্জাবের হয়ে খেলেছেন, সতীর্থ ছিলেন শুভমন গিল ও অভিষেক শর্মার মতো ক্রিকেটারদের। সেই নিখিল চৌধরি এ বার অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে ইতিহাস গড়ার সামনে দাঁড়িয়ে।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছে যে, ব্যক্তিগত কারণে দলের বাইরে থাকা ট্রেভিস হেডের পরিবর্তে বাংলাদেশ সফরের টি-টোয়েন্টি দলে নেওয়া হয়েছে ৩০ বছর বয়সি ভারতীয় বংশোদ্ভূত অলরাউন্ডার নিখিলকে। বর্তমানে তিনি ইউরোপিয়ান টি-টোয়েন্টি লিগে ব্রুজ দলের হয়ে খেলছেন। শুক্রবার তাঁর ঢাকায় গিয়ে অস্ট্রেলিয়া দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা।
সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে এবং প্রথম একাদশে সুযোগ পেলে, নিখিল ৬২ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার হতে পারেন। এর আগে ১৯৬৪ সালে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলেছিলেন লেগস্পিনার রেক্স সেলারস।
অস্ট্রেলিয়া শিবিরে নিখিলকে মূলত মিডল অর্ডার ব্যাটার ও অলরাউন্ডার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে প্রথম একাদশে জায়গা পেতে তাঁকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে জোয়েল ডেভিস এবং অ্যারন হার্ডির মতো ক্রিকেটারদের সঙ্গে।
অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচক টনি ডোডমেড অবশ্য নিখিলের উপর যথেষ্ট আস্থা রাখছেন। তাঁর কথায়, দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাচকদের নজরে ছিলেন নিখিল। বাংলাদেশ সফরের জন্য তাঁকে প্রথমে স্ট্যান্ডবাই ক্রিকেটার হিসেবে ভাবা হয়েছিল। ব্রিসবেনে প্রাক-মরসুম শিবিরেও তিনি ছিলেন। বিগ ব্যাশ এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণেই শেষ পর্যন্ত জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছেন তিনি।
নিখিলের ক্রিকেটযাত্রার গল্পও কম আকর্ষণীয় নয়। দিল্লিতে জন্ম হলেও তিনি ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেছেন পঞ্জাবের হয়ে। সেই সময় তাঁর সতীর্থদের মধ্যে ছিলেন বর্তমান ভারতীয় দলের তারকা ব্যাটার Shubman Gill এবং Abhishek Sharma। এছাড়াও অভিজ্ঞ স্পিনার Harbhajan Singh-এর সঙ্গেও ড্রেসিংরুম ভাগ করেছেন তিনি।
আইপিএলেও সুযোগের কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন নিখিল। এক সময় Mumbai Indians-এর ট্রায়ালেও অংশ নিয়েছিলেন। তবে তাঁর জীবনের মোড় ঘুরে যায় কোভিড মহামারির সময়ে। কুইন্সল্যান্ডে কাকার কাছে বেড়াতে গিয়ে লকডাউনের কারণে অস্ট্রেলিয়াতেই আটকে পড়েন। সেই সময়ই সিদ্ধান্ত নেন, সেখানেই নিজের ক্রিকেটজীবন গড়বেন।
পরবর্তী কয়েক বছরে অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে নজর কাড়েন। বিশেষ করে বিগ ব্যাশ লিগে তাঁর পারফরম্যান্স নির্বাচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সেই পরিশ্রমের পুরস্কার হিসেবেই এ বার জাতীয় দলের ডাক।
বাংলাদেশ সফরে যদি মাঠে নামার সুযোগ পান, তা হলে নিখিল চৌধরি শুধু নিজের স্বপ্নপূরণই করবেন না, অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসেও নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করবেন।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?