দেবলীনার পাশে বসে মায়ের অকপট স্বীকারোক্তি!
সামাজিক মাধ্যমে মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়েছিল ছবিটা—হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে সঙ্গীতশিল্পী দেবলীনা নন্দী। তারপর থেকেই উদ্বেগ, প্রশ্ন আর জল্পনায় তোলপাড়। কী করে এমন হল? কেমন আছেন তিনি এখন? সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে মেয়ের পাশেই বসে শান্ত গলায় কথা বললেন দেবলীনারের মা।
রবিবার গভীর রাতে দেবলীনা নিজেই একটি লাইভ ভিডিয়ো করেছিলেন। সেখানে তিনি তাঁর দাম্পত্য জীবনের টানাপড়েনের কথা প্রকাশ্যে আনেন। সেই মানসিক চাপের পরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। দেহরক্ষীরাই তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। আপাতত সেখানেই চিকিৎসাধীন গায়িকা।
আনন্দবাজার ডট কম-কে দেবলীনারের মা জানালেন, মেয়ের শারীরিক অবস্থা আগের থেকে কিছুটা ভাল। তবে পুরোপুরি সুস্থ হতে এখনও সময় লাগবে। “এখনও ও খুব দুর্বল,” বললেন তিনি। “কিছু খেতে চাইছে না। মাঝে মাঝে গলাব্যথার কথাও বলছে। চিকিৎসকেরা বলছেন আরও তিন-চার দিন হাসপাতালে থাকতে হবে।”
সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটা ঘুরে ফিরে আসছে—দেবলিনা কি তাঁর স্বামীর কাছে ফিরতে চান? এই প্রসঙ্গ তুলতেই মায়ের গলায় স্পষ্টতা। তিনি বলেন, “মেয়েটা তো এখনও স্বামীর কাছেই ফিরতে চাইছে। প্রবাহের সঙ্গে থাকতে চায়।” তবে এই সিদ্ধান্তে পরিবার কোনও চাপ দিচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নে তাঁর উত্তর আরও পরিষ্কার, “আমরা কিছু চাপিয়ে দিতে পারি না। এটা ওর জীবন, ওর সিদ্ধান্ত। ও যেটা চাইবে, সেটাই করবে।”
একটা আক্ষেপও লুকোননি দেবলীনারের মা। অসুস্থ মেয়ের খবর পাওয়ার পর এখনও পর্যন্ত শ্বশুরবাড়ির তরফে কেউ যোগাযোগ করেননি বলে জানান তিনি। তবু অভিযোগের সুর নয়—বরং মেয়ের সুস্থ হয়ে ওঠাই এখন তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় কথা।
হাসপাতালে সারাক্ষণ মেয়ের পাশেই রয়েছেন তিনি। কখনও মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন, কখনও আবার চুপচাপ বসে থাকছেন। “কয়েকটা দিন যাক,” বললেন তিনি, “তার পর দেখা যাবে।”
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের শেষ দিকে দেবলীনার স্বামী শ্রীনন্দাশঙ্কর সমাজমাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদের ঘোষণা করেছিলেন। তখনই তিনি বলেছিলেন, অনলাইনে যা দেখা যায়, বাস্তব জীবন তার থেকে অনেক আলাদা। দেবলীনারের এই অসুস্থতার ঘটনার পর সেই কথাই যেন নতুন করে মনে পড়ছে অনেকের।
এখনও পর্যন্ত দেবলীনারের স্বামী বা তাঁর পরিবারের তরফে কোনও প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এই মুহূর্তে সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু একটাই—দেবলিনার সুস্থ হয়ে ওঠা। আর সেই আশাতেই হাসপাতালের এক কোণে, মেয়ের হাত ধরে বসে আছেন তাঁর মা।