অসমে প্রলয়ের ছবি!
অসমে ফের ভয়াবহ বন্যার থাবা। টানা ভারী বৃষ্টিতে ব্রহ্মপুত্র-সহ একাধিক নদীর জল বিপদসীমার উপরে বইছে। বিস্তীর্ণ এলাকা জলের তলায় চলে যাওয়ায় রাজ্যের একাধিক জেলা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, কৃষিজমি— সবই ডুবে গিয়েছে বন্যার জলে। হাজার হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন ত্রাণশিবিরে বা রাস্তার ধারে অস্থায়ী শিবিরে। প্রাণ হারিয়েছে বহু মানুষ, পাশাপাশি অসংখ্য গবাদি পশু ও বন্যপ্রাণীর মৃত্যুর ঘটনাও সামনে এসেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বন্যার প্রভাবে ১১টিরও বেশি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত শিবসাগর, চরাইদেও, গোলাঘাট, জোরহাট এবং শোনিতপুর জেলা। প্রায় ৭ লক্ষ ২১ হাজার মানুষ এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ডুবে গিয়েছে প্রায় ৯০০টি গ্রাম এবং প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর কৃষিজমির ফসল নষ্ট হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন ৪৮৭টি ত্রাণশিবির চালু করেছে, যেখানে হাজার হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। পাশাপাশি ৩৮১টি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে। উদ্ধারকাজে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর পাশাপাশি বায়ুসেনার হেলিকপ্টার এবং কয়েক ডজন নৌকা মোতায়েন করা হয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হল প্রাণহানির সংখ্যা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত অন্তত ৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভেসে গিয়েছে শত শত গবাদি পশু এবং বহু খামারও জলের তলায় চলে গিয়েছে। বন্যার ভয়াবহতার ছবি ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে জলমগ্ন গ্রাম, ভেসে থাকা পশুর দেহ এবং সর্বস্ব হারানো মানুষের অসহায় জীবনসংগ্রাম।
ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নেওয়া বহু পরিবারের কাছে খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় জল এবং স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখার সুযোগ এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। অনেকেই রাস্তার উঁচু অংশে অস্থায়ী আশ্রয় তৈরি করে দিন কাটাচ্ছেন। অসংখ্য পরিবার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হারিয়েছে বহু বছরের গড়ে তোলা বসতভিটে।
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যের কিছু এলাকায় এমন ভয়াবহ বন্যা আগে দেখা যায়নি। ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মাথায় রেখে আরও উন্নত দুর্যোগ মোকাবিলা পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দ্রুত কেন্দ্রীয় সহায়তার দাবি তুলেছে বিরোধী শিবিরও। তাদের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ এবং কৃষকদের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, শুধু অতিবৃষ্টিই নয়, জলবায়ু পরিবর্তন, বনভূমি ধ্বংস, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা এবং অনিয়ন্ত্রিত নগরায়নের মতো কারণও এ বারের ভয়াবহ বন্যাকে আরও মারাত্মক করে তুলেছে। তাই ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় রুখতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নীতির উপর জোর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?