অমৃতসরের মন্দিরে গ্রেনেড হামলা!
দু’মাস আগে পাঞ্জাবের অমৃতসরের এক নিরীহ মন্দিরে যখন রাতের নিস্তব্ধতা ভাঙে গ্রেনেড বিস্ফোরণে, তখন গোটা অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। আর সেই ঘটনার পর থেকেই একের পর এক জড়িতদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। সেই তল্লাশিরই অগ্রগতি হিসেবে এবার ধরা পড়ল আরও এক মূল অভিযুক্ত, যিনি হামলাকারীদের আশ্রয় দিয়েছিলেন নিজের বাড়িতে।
এই অভিযুক্তের নাম ভগবন্ত সিংহ ওরফে মান্না ভাট্টি। তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে অমৃতসরের অকালগড় গ্রাম থেকে। এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেনেড হামলার মূল দুই অভিযুক্ত গুরসিদক সিংহ এবং বিশাল, হামলার ঠিক আগে ও পরে ভগবন্তের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল। সেখানেই বসে হামলার পরিকল্পনা হয় এবং সেই বাড়িই হয়ে ওঠে ষড়যন্ত্রের আঁতুড়ঘর।
প্রসঙ্গত, গত ১৫ মার্চ রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে ঠাকুরদ্বারা মন্দির চত্বরের নীরবতা ভাঙে জোরালো বিস্ফোরণে। দুই যুবক একটি মোটরবাইকে চেপে এসে মন্দির লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজে সেই দৃশ্য ধরা পড়ে। পরে এই ঘটনার দায় স্বীকার করে খলিস্তানপন্থী জঙ্গিগোষ্ঠী খলিস্তান লিবারেশন ফোর্স (KLF)। তদন্তে উঠে আসে, গ্রেফতার হওয়া দুই হামলাকারীই ছিল কেএলএফ-এর সক্রিয় সদস্য।
এই ঘটনার পর থেকেই পাঞ্জাব পুলিশ এবং এনআইএ একযোগে অভিযান শুরু করে। কিছুদিনের মধ্যে গুলির লড়াইয়ে নিহত হয় প্রধান অভিযুক্ত গুরসিদক সিংহ। অন্য অভিযুক্ত বিশালকে জীবিত অবস্থায় পাকড়াও করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার কাছ থেকেই বেরিয়ে আসে দিওয়ান সিংহ ওরফে সানি এবং সাহিব সিংহ ওরফে সাবার নাম, যারা পরে ধরা পড়ে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল ভগবন্ত সিংহ ওরফে মান্নার নাম।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হামলার দিন থেকেই গা ঢাকা দিয়েছিলেন মান্না। বিভিন্ন জায়গা ঘুরে শেষ পর্যন্ত তিনি আশ্রয় নেন অকালগড় গ্রামে, সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এনআইএর দাবি, মান্না শুধু আশ্রয়ই দেননি, হামলার আগে হামলাকারীদের সঙ্গে কৌশলগত আলোচনা ও পরিকল্পনায়ও অংশ নিয়েছিলেন।
এই ঘটনা আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, পাঞ্জাবের মাটিতে আবারও মাথাচাড়া দিচ্ছে খলিস্তানপন্থী চক্র। ধর্মস্থানে এই ধরনের হামলা শুধুমাত্র আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্নই নয়, তা মানুষের বিশ্বাস ও নিরাপত্তার মূলে আঘাত হানে। কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর মতে, এই ধরনের ঘটনা রুখতে হলে শুধু বাহ্যিক তল্লাশি নয়, প্রয়োজন স্থানীয় স্তরে সচেতনতা এবং কড়া নজরদারি।
এখনও তদন্ত চলছে, এবং আরও জড়িতদের খোঁজে অভিযান অব্যাহত। এনআইএ জানিয়েছে, তারা হামলার পেছনের সমস্ত জাল ভেদ করে মূল মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছাতে বদ্ধপরিকর। ভারতের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না—এই বার্তাই স্পষ্ট।
বার্লি আর চিয়ার জল: কিডনির যত্নে সুস্বাদু ওজন কমানোর নয়া উপায়