অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় আইসিইউ-তে
বিজেপি সাংসদ এবং কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। সোমবার বিকেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, তিনি অ্যাকিউট প্যানক্রিয়াটাইটিসে (তীব্র অগ্ন্যাশয় প্রদাহ) ভুগছেন এবং বর্তমানে তাঁর শরীরে ‘গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টিন্যাল সেপসিস’-এর লক্ষণও দেখা দিয়েছে। তাই তাঁকে আইসিইউ-তে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
৬৩ বছরের এই সাংসদের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও চিকিৎসকদের মতে, তিনি এখনও সঙ্কটমুক্ত নন। তাঁকে সুস্থ করে তুলতে হাসপাতাল গঠন করেছে একটি বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড, যেখানে রয়েছেন ক্রিটিকাল কেয়ার, পালমোনোলজি এবং হৃদরোগ বিভাগের অভিজ্ঞ চিকিৎসকেরা।
গত শনিবার রাতে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের হঠাৎ পেটে তীব্র ব্যথা ও বমি শুরু হয়। পরিস্থিতির অবনতি দেখে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে আলিপুরের একটি মাল্টিস্পেশ্যালিটি হাসপাতালে ভর্তি করান। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা প্যানক্রিয়াটাইটিসের আশঙ্কা প্রকাশ করেন, যা পরে নিশ্চিত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাকিউট প্যানক্রিয়াটাইটিসের ক্ষেত্রে পেটের যন্ত্রণা পিঠের দিকেও ছড়িয়ে পড়ে এবং বুকেও অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। এর সঙ্গে অনেক সময়ে বমি, খাদ্য গ্রহণে অরুচি এবং জ্বরও যুক্ত হয়। অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে ‘গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিন্যাল সেপসিস’ সংক্রমণ দেখা দিয়েছে, যা অন্ত্রের প্রদাহ থেকে সৃষ্টি হয়ে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে প্রভাবিত করতে পারে। এই ধরণের সংক্রমণ অত্যন্ত জটিল এবং তা দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন করে।
চিকিৎসকদের দাবি, একাধিক পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় এবং ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি যাতে সঠিকভাবে বিশ্রামে থাকেন এবং শরীরে জল ও পুষ্টির ঘাটতি না হয়, তার জন্য পুষ্টিবিদদের পরামর্শেও চলছে চিকিৎসা।
অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এই অসুস্থতা ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও উদ্বেগ ছড়িয়েছে। তমলুকের সাংসদ হিসেবে তিনি সদ্য লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। রাজনীতিতে যোগদানের আগেও তিনি ছিলেন এক আলোচিত মুখ—হাই কোর্টের বিচারপতি হিসেবে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রায় ও পর্যবেক্ষণ তাঁকে পরিচিত করে তুলেছিল সারা রাজ্যজুড়ে।
চিকিৎসকরা আপাতত তাঁকে কমপক্ষে আরও কয়েকদিন আইসিইউ পর্যবেক্ষণে রাখবেন বলে জানিয়েছেন। পরবর্তী শারীরিক উন্নতির ওপর নির্ভর করবে তাঁর সাধারণ ওয়ার্ডে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত।
চলমান চিকিৎসা প্রক্রিয়ার পাশাপাশি দলের পক্ষ থেকেও নিয়মিত খবর নেওয়া হচ্ছে বলেই সূত্রের খবর। চিকিৎসকেরা জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টা তাঁর শারীরিক অবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিপন্ন ‘ওয়াই’ ক্রোমোজোম! পুরুষের ভবিষ্যৎ কি তবে বিবর্তনের ছাঁকনিতে?