অবশেষে ধরা পড়লেন মেহুল চোক্সী!
বহু প্রতীক্ষার পর পিএনবি কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত পলাতক হীরে ব্যবসায়ী মেহুল চোক্সীকে অবশেষে গ্রেফতার করল বেলজিয়াম পুলিশ। ভারতের অনুরোধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্র। দেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম বড় আর্থিক তছরুপের মামলার মূল অভিযুক্ত চোক্সী এত দিন ধরা-ছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। এবার বেলজিয়ামে তাঁর গ্রেফতারির মধ্য দিয়ে তদন্তে বড় অগ্রগতি আশা করছেন সিবিআই ও ইডির আধিকারিকরা।
চোক্সীর বিরুদ্ধে প্রায় ১৩ হাজার ৮৫০ কোটি টাকার তছরুপের অভিযোগ রয়েছে। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কে এই বিশাল কেলেঙ্কারি সামনে আসার পর থেকেই দেশ ছেড়ে পালান তিনি। প্রথমে আশ্রয় নেন ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ অ্যান্টিগা ও বারবুডায় এবং সেখানে নাগরিকত্বও গ্রহণ করেন।
ভারত থেকে পালানোর পর মুম্বইয়ের আদালত চোক্সীর বিরুদ্ধে দু’টি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে—একটি ২০১৮ সালের ২৩ মে এবং আরেকটি ২০২১ সালের ১৫ জুন। ওই পরোয়ানা দেখিয়েই শনিবার তাঁকে গ্রেফতার করেছে বেলজিয়াম পুলিশ।
প্রাথমিকভাবে চোক্সী এখন বেলজিয়ামের একটি জেলে বন্দি রয়েছেন। তিনি শারীরিক অসুস্থতা ও অন্যান্য কারণ দেখিয়ে শীঘ্রই জামিনের আবেদন জানাতে পারেন বলে জানা গিয়েছে।
অ্যান্টিগা থেকে বেলজিয়াম—পলাতক জীবনের ছক
২০১৮ থেকে অ্যান্টিগা ও বারবুডায় থাকাকালীন, ভারতের হাতে চোক্সীকে তুলে দেওয়ার কোনও অনুমতি দেয়নি সেদেশের আদালত। এমনকি ২০২৩ সালে অ্যান্টিগা সরকার জানিয়ে দেয়, তাঁকে দেশের বাইরে পাঠানো যাবে না। ফলে সেখান থেকে ভারতে ফেরানো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে।
এরপর চোক্সী ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে বেলজিয়ামে পাড়ি দেন। জানা গিয়েছে, তাঁর বেলজিয়ান স্ত্রী থাকায় ‘এফ রেসিডেন্সি কার্ড’-এর সুবিধা নিয়ে তিনি সেখানে বসবাস শুরু করেন। এই কার্ড বিদেশিদের জন্য নির্দিষ্ট শর্তে বেলজিয়ামে বসবাসের অনুমতি দেয়।
দেশে ফিরতে হবে?
এবার ভারত সরকার আশা করছে, বেলজিয়াম সরকার সহযোগিতা করলে চোক্সীকে দেশে ফেরানো সম্ভব হবে। সিবিআই ইতিমধ্যেই আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং নয়াদিল্লি থেকে বেলজিয়াম সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, চোক্সীর ভাগ্নে নীরব মোদীও এই কেলেঙ্কারির অন্যতম অভিযুক্ত। তিনি বর্তমানে ব্রিটেনে আছেন এবং তাঁর প্রত্যর্পণ নিয়েও ভারত সরকার আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে।
চোক্সীর গ্রেফতারি নিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে আমজনতা—সবাই এক প্রশ্ন তুলছেন, এত দিন পর অবশেষে যখন তাঁকে ধরা গেল, তবে কি এবার ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হবেন তিনি? নাকি আবারও আইনের ফাঁক গলে জামিন নিয়ে উধাও হবেন?
সময় বলবে চোক্সীর ভবিষ্যৎ, কিন্তু আপাতত দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার পক্ষে এটি এক বড় পদক্ষেপ।
অগ্নিগর্ভ মুর্শিদাবাদ, আর ইউসুফ পঠান ‘ফুরফুরে চা’-এ মশগুল! ক্ষোভে ফুঁসছে জনতা