অপারেশন সিঁদুরে দুর্দান্ত লড়াই — বদলাতে পারে অগ্নিবীরদের ভবিষ্যৎ, বাড়তে পারে চাকরির মেয়াদ

অপারেশন সিঁদুরে দুর্দান্ত লড়াই! গত মে মাসে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পরিচালিত ভারতীয় সেনার ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুধুমাত্র কৌশলগত সাফল্যের জন্য নয়, বরং এক বিশেষ কারণে আরও আলোচনায় এসেছে — সেই অভিযানে অসাধারণ…

August 15, 2025
1 min read

অপারেশন সিঁদুরে দুর্দান্ত লড়াই!

গত মে মাসে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পরিচালিত ভারতীয় সেনার ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুধুমাত্র কৌশলগত সাফল্যের জন্য নয়, বরং এক বিশেষ কারণে আরও আলোচনায় এসেছে — সেই অভিযানে অসাধারণ ভূমিকা রেখেছিলেন দেশের তরুণ অগ্নিবীররা। তাঁদের সাহস, দক্ষতা ও আত্মত্যাগ সেনাবাহিনীর শীর্ষ মহলকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।

বর্তমানে অগ্নিবীরদের মেয়াদ মাত্র চার বছর। নিয়ম অনুযায়ী, চার বছর পূর্ণ হওয়ার পর কেবলমাত্র ২৫ শতাংশকে স্থায়ীভাবে রাখা হয়, বাকিদের বাহিনী থেকে বিদায় নিতে হয়। তবে অপারেশন সিঁদুরে তাঁদের কর্মদক্ষতা এতটাই নজরকাড়া ছিল যে, সেনা নেতৃত্ব এখন এই সময়সীমা এবং স্থায়ী হওয়ার শতাংশ — দুই ক্ষেত্রেই পরিবর্তনের কথা বিবেচনা করছে।

অগ্নিপথ প্রকল্পের পুনর্মূল্যায়ন
২০২২ সালে চালু হওয়া ‘অগ্নিপথ’ প্রকল্পের মাধ্যমে ১৭ থেকে ২১ বছর বয়সি তরুণ-তরুণীদের চার বছরের জন্য সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দেওয়া হয়। স্থায়ী হওয়ার সুযোগ পায় মাত্র এক-চতুর্থাংশ, বাকিরা চার বছর পর অবসর নেয়। যাঁরা থেকে যান, তাঁরা আরও ১১ বছর চাকরি করতে পারেন। শুরু থেকেই এই প্রকল্প নিয়ে নানা মহলে বিতর্ক ছিল, তবে গত তিন বছরে প্রকল্পে বড় পরিবর্তন আনা হয়নি।

অপারেশন সিঁদুরের সাফল্যের পর সেই অবস্থান বদলাতে পারে। সেনাবাহিনী মনে করছে, অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত অগ্নিবীরদের ধরে রাখা হলে বাহিনীর সক্ষমতা আরও বাড়বে, পাশাপাশি যুদ্ধক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ভারসাম্য বজায় থাকবে।

কোন কোন ক্ষেত্রে বাড়তে পারে সুযোগ
সূত্রের খবর, স্থায়ী হওয়ার শতাংশ ২৫ থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হতে পারে। পদাতিক বাহিনীতে প্রায় ৭০-৭৫ শতাংশ, বিমান প্রতিরক্ষা ও বিশেষ প্রশিক্ষণ বিভাগে ৮০ শতাংশ এবং স্পেশ্যাল ফোর্সে প্রায় ১০০ শতাংশ অগ্নিবীরকেই রাখা হতে পারে। এই প্রস্তাব কার্যকর হলে সেনার বহু বিভাগেই অভিজ্ঞ তরুণদের স্থায়ীভাবে পাওয়া যাবে, যা বাহিনীর জন্য বড় সুবিধা।

সময় এখনও হাতে
অগ্নিবীরদের প্রথম ব্যাচ ২০২৬ সালের শেষের দিকে চার বছরের মেয়াদ পূর্ণ করবে। অর্থাৎ সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য এখনও এক বছরের বেশি সময় আছে। এই সময়ের মধ্যেই আর্মি কমান্ডার্স কনফারেন্সে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে এবং প্রস্তাব আকারে তা সরকারের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।

নৌসেনা ও বায়ুসেনার অবস্থান
স্থলবাহিনীতে এই পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকলেও নৌসেনা ও বায়ুসেনায় একই পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে গত বছর বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিংহ প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন, বায়ুসেনায় অগ্নিবীরদের পারফরম্যান্স ইতিবাচক এবং ২৫ শতাংশের বেশি সদস্যকে রাখা সম্ভব। ফলে বায়ুসেনাতেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা অ否 করা যাচ্ছে না।

শুধু চাকরি নয়, গর্বের লড়াই
অগ্নিবীরদের জন্য এই সিদ্ধান্ত শুধু চাকরির সুযোগ নয়, বরং তাঁদের ত্যাগ ও সাহসিকতার স্বীকৃতি। অপারেশন সিঁদুরে শত্রুর বিরুদ্ধে অগ্নিবীরদের প্রাণপণ লড়াই প্রমাণ করেছে— চার বছরের সীমাবদ্ধতা তাঁদের যোগ্যতার সঙ্গে সুবিচার করে না। যদি প্রস্তাবিত পরিবর্তন কার্যকর হয়, তবে তা শুধু তাঁদের ভবিষ্যৎই বদলাবে না, বরং ভারতীয় সেনাবাহিনীর শক্তিকেও নতুন মাত্রা দেবে।

শুল্কযুদ্ধের মাঝেই আমেরিকা সফরে মোদী? ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *