অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়া সিধো-কানহুর কথা বলতেই ‘হুল’!
স্বাধীনতার ৭৮ বছর পেরিয়েও যাঁদের নাম উচ্চারিত হয় না, যাঁদের অবদান আজও বইয়ের পাতায় অলক্ষ্যে রয়ে গেছে—তাঁদের নিয়েই তৈরি হচ্ছে ব্যতিক্রমী বাংলা ছবি হুল। ঝাড়খণ্ডের জমি থেকে গড়ে ওঠা এই ছবির পটভূমি ১৭০ বছর পুরনো এক বিস্মৃত বিদ্রোহ—সাঁওতাল বিদ্রোহ। এই বিদ্রোহের দুই মহান নেতা সিধো ও কানহু মুর্মুর জীবনের ওপর ভিত্তি করেই ছবির নির্মাণ, যা বাংলা ছবির ইতিহাসে এক দৃষ্টান্ত গড়তে চলেছে।
পরিচালক আবীর রায় এবং প্রযোজক অনুপল সাউ এমন সময় এই ছবির পরিকল্পনা করলেন, যখন গোটা বিনোদন দুনিয়া রহস্য, রোমাঞ্চ ও হরর ঘরানার ছবিতে মশগুল। কিন্তু আবীর বলছেন, “১৭০ বছর পেরিয়ে গেলেও কেউ সিধো-কানহুর কথা বলেন না। ইতিহাস তাঁদের বিস্মৃত করেছে। এই ছবি তাঁদের স্মরণ করার একটা প্রয়াস।” এমন সাহসী প্রচেষ্টা সম্ভব হয়েছে প্রযোজকের অকুণ্ঠ সমর্থনের জন্যই, তা নিজেই স্বীকার করেছেন তিনি।
সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে হুল ছবির প্রথম পোস্টার। মুখ্য চরিত্রে রয়েছেন দেবাশিস মণ্ডল ও কিঞ্জল নন্দ। তাঁদের সঙ্গে আছেন চন্দন সেন, বিশ্বরূপ বিশ্বাস, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, উমা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শ্রীতমা দে। একটি গানে দেখা যাবে ছোটপর্দার পরিচিত মুখ দীপান্বিতা রক্ষিতকেও।
ছবির শুটিং হয়েছে ঝাড়গ্রামের বিভিন্ন এলাকায়, যেখানে আজও সাঁওতাল সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশের বসবাস। পরিচালক জানালেন, “বহু কিছু বদলেছে ঠিকই। বিদ্যুৎ এসেছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্ত হচ্ছে নতুন প্রজন্ম। কিন্তু সামগ্রিক জীবনমান এখনও অনেক উন্নতির দাবি রাখে। শুটিংয়ের সময় সেই বাস্তবকে খুব কাছ থেকে দেখেছি।”
তারকাখচিত ছবি হলে হয়তো আরও বেশি দর্শক মিলত, এমন প্রশ্নে প্রযোজক ও পরিচালক একমত। তাঁরা বলেন, “সিধো-কানহুর মতো চরিত্রে তারকাদের মানিয়ে নিতে প্রচুর বদল আনতে হত। গায়ের রং, উচ্চারণ, চেহারার গঠন—এসব সবই প্রাসঙ্গিক। সেই কারণেই বেছে নেওয়া হয়েছে দেবাশিস ও কিঞ্জলকে। তাঁরা অভিনয়ে যথেষ্ট দক্ষ, চরিত্রের সঙ্গে মানানসই।”
হুল নামের এই ছবিটি কেবল বিনোদন নয়—এ এক সামাজিক দায়বদ্ধতা, এক ইতিহাসচর্চা, যা ভুলে যাওয়া সংগ্রামীদের নতুন আলোয় তুলে ধরতে চায়। সেই লক্ষ্যে তারকা নয়, চরিত্রের সত্য ও আবেগকেই বেছে নিয়েছেন পরিচালক-প্রযোজক।
‘আমার জীবনের চালিকাশক্তি তুমি’ – জন্মদিনে রুক্মিণীকে আদর করে দেব দিয়েছে স্পেশাল শুভেচ্ছা