অনলাইনে বাড়ছে শিশুদের ঝুঁকি!
ডিজিটাল যুগে শিশু-কিশোরদের জীবনের বড় অংশ জুড়ে এখন ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া, অনলাইন গেমিং এবং ভার্চুয়াল শিক্ষার জগৎ। প্রযুক্তির এই বিস্তৃত ব্যবহারের ফলে যেমন নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে, তেমনই বেড়েছে নানা ধরনের ঝুঁকিও। অনলাইন হেনস্থা, সাইবার বুলিং, ভুয়ো তথ্য, মানসিক চাপ এবং শোষণের মতো সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে অনেক শিশু-কিশোর। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের আরও সচেতন ও দক্ষ করে তুলতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ইউনেস্কো।
UNESCO এবং National Council of Educational Research and Training-এর অধীনস্থ Central Institute of Educational Technology যৌথভাবে ‘শিশুদের বিরুদ্ধে অনলাইন হিংসা’ বিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করেছে। এর মূল লক্ষ্য হল শিক্ষক, শিক্ষাবিদ এবং শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট পেশাদারদের এমন জ্ঞান ও ব্যবহারিক দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করা, যাতে তাঁরা শিশুদের নিরাপদ ও দায়িত্বশীলভাবে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করতে সাহায্য করতে পারেন।
পাঁচ দিনের এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ইংরেজি সংস্করণ ১ থেকে ৫ জুন সম্প্রচারিত হয়েছে। পাশাপাশি ৮ থেকে ১২ জুন পর্যন্ত হিন্দি ভাষাতেও একই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষকরা এনসিইআরটির সরকারি ইউটিউব চ্যানেল, ‘পিএম ই-বিদ্যা’ প্ল্যাটফর্ম এবং দূরদর্শনের একাধিক ডিটিএইচ চ্যানেলের মাধ্যমে এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারছেন। প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ করলে ‘দীক্ষা’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শংসাপত্রও দেওয়া হবে।
এই উদ্যোগের প্রাসঙ্গিকতা আরও বেড়েছে কারণ বর্তমানে ভারতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০০ কোটিরও বেশি। তরুণ প্রজন্মই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির সবচেয়ে সক্রিয় ব্যবহারকারী। ফলে তাদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পরিসংখ্যানও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। National Crime Records Bureau-এর তথ্য অনুযায়ী, শিশুদের বিরুদ্ধে নথিভুক্ত সাইবার অপরাধের সংখ্যা ২০১৮ সালে ছিল ২৩২। ২০২২ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১,৮২৩-এ। অর্থাৎ মাত্র চার বছরের মধ্যে অভিযোগ প্রায় আট গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু ২০২১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যেই এমন ঘটনার সংখ্যা ৩২ শতাংশ বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের অপরাধের মধ্যে রয়েছে সাইবার বুলিং, অনলাইন গ্রুমিং, ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্যের অপব্যবহার, ঘৃণাত্মক প্রচার, ভুয়ো তথ্য ছড়ানো এবং ক্ষতিকর কনটেন্টের সংস্পর্শে আসা। এসবের প্রভাব শুধু অনলাইন জগতেই সীমাবদ্ধ থাকে না; শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য, আত্মবিশ্বাস, সামাজিক আচরণ এবং পড়াশোনার উপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি শিশুদের নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষক, অভিভাবক এবং সমাজের সকলের সচেতনতা ও সক্রিয় ভূমিকা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জরুরি। ইউনেস্কোর এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সেই সচেতনতা গড়ে তোলার দিকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?