৪৪ বছর বয়সে ক্রিকেটকে বিদায় জেমস অ্যান্ডারসনের!!
দীর্ঘ ২৫ বছরের ক্রিকেটজীবনে অসংখ্য ব্যাটারকে নিজের সুইংয়ে পরাস্ত করেছেন জেমস অ্যান্ডারসন। ইংল্যান্ডের সর্বকালের অন্যতম সেরা এই পেসারের কেরিয়ার এবার শেষের পথে। ৪৪ বছর বয়সে পেশাদার ক্রিকেট থেকে পাকাপাকি ভাবে অবসর নিতে চলেছেন তিনি। আগামী মরসুমের জন্য তাঁকে দলে রাখেনি ল্যাঙ্কাশায়ার। ছোটবেলার কাউন্টি দলেও জায়গা না পাওয়ায় ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অ্যান্ডারসন।
ল্যাঙ্কাশায়ারে জায়গা হল না অ্যান্ডারসনের
ইংল্যান্ডের জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার পর ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে কাউন্টি ক্রিকেট খেলছিলেন অ্যান্ডারসন। ২০২৫ সালে মরসুমের মাঝপথে দলের অধিনায়কত্বের দায়িত্বও নেন তিনি। ২০২৬ সালের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে তাঁর নেতৃত্বেই খেলেছিল ল্যাঙ্কাশায়ার।
গত মরসুমে দলের পারফরম্যান্স প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলেও ব্যক্তিগত ভাবে সফল ছিলেন অ্যান্ডারসন। ১৭.৬৮ গড়ে ৫০টি উইকেট নেন তিনি। বয়স যে তাঁর বোলিংয়ের ধার খুব একটা কমাতে পারেনি, সেই প্রমাণও দেন মাঠে। তবু আগামী মরসুমের দল গঠনের পরিকল্পনায় তাঁকে রাখেনি ক্লাব।
ল্যাঙ্কাশায়ারের নতুন চিফ এগজ়িকিউটিভ রিচার্ড কেনিয়ন দায়িত্ব নেওয়ার পর দলকে নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা করছেন। সেই পরিকল্পনায় অ্যান্ডারসনের জায়গা হয়নি। ফলে যে ক্লাবের হয়ে তাঁর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পথচলা শুরু হয়েছিল, সেখান থেকেই কার্যত বিদায় নিতে হচ্ছে তাঁকে।
টেস্টে ৭০৪ উইকেট, পেসারদের মধ্যে শীর্ষে
২০০১ সালে ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় অ্যান্ডারসনের। এর দু’বছর পর, ২০০৩ সালে ইংল্যান্ডের টেস্ট দলে জায়গা পান তিনি। তার পর দীর্ঘ ২১ বছর ধরে দেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেট খেলেছেন এই ডানহাতি পেসার।
ইংল্যান্ডের হয়ে ১৮৮টি টেস্টে তাঁর সংগ্রহ ৭০৪টি উইকেট। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বাধিক উইকেটশিকারিদের তালিকায় মুথাইয়া মুরলিধরন ও শেন ওয়ার্নের পরেই রয়েছেন তিনি। পেসারদের মধ্যে টেস্টে সর্বাধিক উইকেট নেওয়ার কৃতিত্বও তাঁর দখলে।
শুধু টেস্ট নয়, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও তাঁর পরিসংখ্যান ঈর্ষণীয়। দীর্ঘ কেরিয়ারে মোট ১১৯৩টি উইকেট নিয়েছেন অ্যান্ডারসন। ধারাবাহিকতা, সুইং এবং নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের জন্য ক্রিকেটবিশ্বে বিশেষ পরিচিতি পেয়েছেন তিনি।
লর্ডসে শেষ টেস্ট, এবার চূড়ান্ত বিদায়
২০২৪ সালের জুলাই মাসে লর্ডসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে শেষ টেস্ট খেলেছিলেন অ্যান্ডারসন। সেই ম্যাচের পর আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। তবে কাউন্টি ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে গিয়েছিলেন। এবার ল্যাঙ্কাশায়ারের আগামী মরসুমের পরিকল্পনায় জায়গা না পাওয়ায় তাঁর পেশাদার ক্রিকেটজীবনও শেষ হতে চলেছে।
একসময় নতুন বলে ব্যাটারদের আতঙ্কের কারণ ছিলেন অ্যান্ডারসন। বয়স বাড়ার পরেও উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা ধরে রেখে বুঝিয়ে দিয়েছেন, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ইংল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাসে তাঁর অবদান দীর্ঘ দিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।