ভারতের বিরুদ্ধে বাজিমাতের মন্ত্র ফাঁস করলেন ৫ উইকেট নেওয়া কিমো পল!
ভারতের বিরুদ্ধে হায়দরাবাদে চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ২৪ রানে জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়। ক্যারিবিয়ানদের জয়ের অন্যতম নায়ক কিমো পল। বল হাতে পাঁচ উইকেট নিয়ে ভারতের রান তাড়ার গতি থামিয়ে দেন তিনি। ম্যাচের পর পল জানালেন, খেলা শুরুর পাঁচ ওভার পরেই পিচের চরিত্র বুঝে জয়ের পরিকল্পনা তৈরি করে ফেলেছিলেন তাঁরা।
ব্যাটারদের বার্তাতেই বদলে যায় পরিকল্পনা
প্রথমে ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ় তিন উইকেটে ২৪৭ রান তোলে। পরে ভারতের ইনিংসে বল করতে নেমে ক্যারিবিয়ান বোলারেরা বুঝেশুনে আক্রমণ করেন। পলের কথায়, প্রথম পাঁচ ওভার খেলার পরেই দলের ব্যাটারেরা জানিয়ে দিয়েছিলেন, পিচ ব্যাটিংয়ের পক্ষে ভাল হলেও কয়েকটি বল পড়ে থমকে যাচ্ছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই বোলিংয়ের কৌশল ঠিক করেন তাঁরা।
পল বলেন, “প্রথম পাঁচ ওভার পরেই ব্যাটারেরা বলে পাঠিয়েছিল, উইকেট খুব ভাল। দু’-একটা বল পিচে পড়ে থমকাচ্ছে। কিন্তু মোটের উপর পিচ ব্যাটিং-সহায়ক। তখনই আমরা পরিকল্পনা করে ফেলেছিলাম।”
মন্থর বল ও ইয়র্কারেই সাফল্য
পিচের চরিত্র বুঝে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বোলারেরা গতি কমিয়ে বল করা এবং ইয়র্কারের উপর জোর দেন। তাঁদের লক্ষ্য ছিল ব্যাটারদের বড় শট খেলতে বাধ্য করা, কিন্তু বলের গতি কমিয়ে সেই শটের সময় ও নিয়ন্ত্রণ নষ্ট করে দেওয়া। তাতেই একাধিক ক্যাচ ওঠে এবং উইকেট আসে।
পল বলেন, “আমরা বুঝতে পেরেছিলাম, এই পিচে মন্থর বল কাজে লাগবে। সিরিজ়ের বাকি ম্যাচগুলোয় পিচে বল থমকাচ্ছিল না। কিন্তু এখানে সেটা হচ্ছিল। তাই উইকেটেই বল রাখার চেষ্টা করেছি। যতটা সম্ভব ইয়র্কার ও মন্থর বলের উপর জোর দিয়েছি। তাতেই কাজ হয়েছে।”
ভারতের বোলারদের ক্ষেত্রে ছবিটা ছিল আলাদা। ময়ঙ্ক যাদব ও অর্শদীপ সিংহের মতো বোলারেরা নিয়মিত বেশি গতিতে বল করার চেষ্টা করেন। সেই গতি কাজে লাগিয়ে শাই হোপ ও শারফেন রাদারফোর্ডের মতো ব্যাটারেরা বড় শট খেলেন। বিপরীতে ক্যারিবিয়ান বোলারেরা পরিস্থিতি অনুযায়ী বলের গতি বদলে ভারতীয় ব্যাটারদের সমস্যায় ফেলেন।
শিশির না পড়াও ছিল বড় সুবিধা
হায়দরাবাদের ম্যাচে শিশির না পড়ায় দ্বিতীয় ইনিংসে বল করতে সুবিধা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন পল। সাধারণত শিশিরের কারণে বল ভিজে গেলে বোলারদের নিয়ন্ত্রণ রাখতে সমস্যা হয়। এই ম্যাচে সেই সমস্যা না থাকায় পরিকল্পনা কার্যকর করা সহজ হয়েছিল।
পলের কথায়, “এই সিরিজ়ে বড় বড় রান তাড়া হয়েছে। তার বড় কারণ শিশির। কিন্তু হায়দরাবাদে শিশির পড়েনি। ফলে দ্বিতীয় ইনিংসে বল করতে সমস্যা হয়নি। আশা করছি বেঙ্গালুরুতেও এই ছন্দ আমরা ধরে রাখতে পারব।”
বেঙ্গালুরুতে সিরিজ় নির্ধারণী লড়াই
পর পর দু’বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতা ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজ়ে লড়াই জমিয়ে দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়। হায়দরাবাদের জয়ের ফলে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ় এখন ২-২ সমতায়। শনিবার বেঙ্গালুরুতে শেষ ম্যাচেই নির্ধারিত হবে সিরিজ়ের ফল।
পলের ব্যাখ্যা থেকে স্পষ্ট, শুধু গতি বা শক্তির উপর নির্ভর না করে পিচের চরিত্র বুঝে বোলিং করাই ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের কৌশল। শেষ ম্যাচেও সেই পরিকল্পনা কাজে লাগাতে চাইবে ক্যারিবিয়ান দল।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।