অর্শদীপ-নমনদের দাপটে ইনদওরে হার ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের!
রাঁচীতে ২৪৯ রান তুলেও জিততে পারেনি ভারত। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ব্যাটারেরা সহজেই সেই রান তাড়া করে ফেলেছিলেন। কিন্তু ইনদওরে ছবিটা বদলে দিলেন ভারতের বোলারেরা। অর্শদীপ সিংহ, নমন ধীরদের দাপটে ১৪ রানে জিতল ভারত। প্রথমে ব্যাট করে ২২৩ রান তুলেছিল শ্রেয়স আয়ারের দল। জবাবে ২০৯ রানে থেমে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ইনিংস। চলতি টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ে এই প্রথম রান তাড়া করতে নেমে হারল কোনও দল।
অভিষেক-ঈশানের ঝোড়ো শুরু
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ভারত। দ্বিতীয় ওভারেই মাত্র ৩ রানে আউট হন সঞ্জু স্যামসন। এর পর ইনিংসের হাল ধরেন অভিষেক শর্মা ও ঈশান কিশন। দু’জনে মাত্র ৪০ বলে ১০৮ রানের জুটি গড়েন।
আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বোলারদের চাপে ফেলে দেন অভিষেক। মাত্র ১৮ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৩০ বলে ৬৯ রান করে আউট হন ভারতীয় ওপেনার। এই ইনিংসের পথে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম ২০০০ রান করার নজিরও গড়েন তিনি। মাত্র ১০২৪ বলে এই মাইলফলকে পৌঁছে সূর্যকুমার যাদবকে পিছনে ফেলেন অভিষেক।
অন্য দিকে, ঈশান করেন ১৮ বলে ৩৭ রান। তাঁদের ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল, ভারত অনায়াসেই আড়াইশো রান পার করে যাবে। কিন্তু আচমকাই বদলে যায় ম্যাচের ছবি।
পর পর উইকেট, রান তোলার গতি কমল
রস্টন চেজ়ের এক ওভারে ছক্কা মারতে গিয়ে স্টাম্প আউট হন ঈশান। সেই ওভারেই মাত্র ১ রান করে আউট হন অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার। পরের ওভারে শামার স্প্রিঙ্গারের বাউন্সারে পরাস্ত হন অভিষেক। এর পর গুডাকেশ মোটির বলে বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন নমন ধীর।
মাত্র ১৫ বলের মধ্যে চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ভারত। তিলক বর্মা ও নীতীশ রেড্ডি ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করলেও তিলক অদ্ভুত ভাবে রান আউট হন। বল বাউন্ডারি পার হয়েছে ভেবে মাঝপিচে থেমে গিয়েছিলেন তিনি ও অক্ষর পটেল। কিন্তু কামিল পুরান বলটি আটকে উইকেটকিপার শাই হোপের কাছে পাঠিয়ে দেন। হোপের কাছ থেকে বল পেয়ে উইকেট ভেঙে দেন মোটি। তৃতীয় আম্পায়ার তিলককে রান আউট ঘোষণা করেন।
নীতীশ ২১ রান করে আউট হওয়ার পর আবার রান আউট হন অক্ষর। ফলে শেষ দিকে দ্রুত রান তোলার সুযোগ হারায় ভারত। অর্শদীপ সিংহের ১১ এবং প্রিন্স যাদবের ১৩ রানের সাহায্যে কোনও রকমে ২০ ওভারে ২২৩ রানে অলআউট হয় দল। একটা সময় আড়াইশো রান পেরোনোর সম্ভাবনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।
পুরান-হেটমায়ারের লড়াই, তবু জিতল না ওয়েস্ট ইন্ডিজ়
রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ়। দ্বিতীয় ওভারেই শাই হোপকে ৫ রানে ফেরান অর্শদীপ। তবে শিমরন হেটমায়ার ও কামিল পুরান পাল্টা লড়াই শুরু করেন। হেটমায়ার ২৬ বলে ৪৩ রান করে নমনের বলে আউট হন। রভম্যান পাওয়েলও বেশি ক্ষণ টিকতে পারেননি।
পুরান পরে আগ্রাসী ব্যাটিং শুরু করেন। নমনের এক ওভারে তিনটি ছক্কাও মারেন তিনি। কিন্তু ৪২ রানে আউট হয়ে যান পুরান। এর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের জয়ের আশা টিকিয়ে রেখেছিলেন শারফেন রাদারফোর্ড। আগের দুই ম্যাচে দুর্দান্ত ব্যাট করা রাদারফোর্ড এ দিনও লড়াই করছিলেন। শেষ ১৮ বলে যখন ৫৬ রান প্রয়োজন, তখন অর্শদীপের বলে ৩২ রানে বোল্ড হন তিনি।
শামার স্প্রিঙ্গার শেষ পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যান। শেষ ওভারে ২২ রান তুললেও দলকে জেতাতে পারেননি। অর্শদীপ তিনটি, নমন দুটি এবং অক্ষর ও নীতীশ একটি করে উইকেট নেন। বোলারদের সম্মিলিত দাপটেই ১৪ রানে ম্যাচ জিতে সিরিজ়ে এগিয়ে গেল ভারত।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।