নন্দীগ্রাম জয়ের পর বিজেপি নেতাদের সতর্ক করলেন শুভেন্দু!
নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর দলের নেতা-নেত্রীদের আত্মতুষ্টি ও ঔদ্ধত্য থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা এবং আচরণ সংযত রাখার বার্তা দিতে গিয়ে তিনি টেনে আনলেন নন্দীগ্রামের বহুচর্চিত ‘জাহাজবাড়ি’র প্রসঙ্গ। তাঁর স্পষ্ট সতর্কবার্তা, ভবিষ্যতে কেউ যেন বিজেপি নেতাদের সম্পর্কে বলতে না পারেন যে তাঁরাও এমন বাড়ি তৈরি করেছেন।
পাঁচ মাসের ব্যবধানে ফের নন্দীগ্রামে জয়ের মুখ দেখেছে বিজেপি। উপনির্বাচনে রেকর্ড ভোটে জয়ী হয়েছেন দলের প্রার্থী হাসিরানি রথ। রবিবার সন্ধ্যায় রেয়াপাড়ায় শহিদ ও আহতদের পরিবারের সম্মানজ্ঞাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ভোটারদের ধন্যবাদ জানান শুভেন্দু। উপস্থিত ছিলেন নবনির্বাচিত বিধায়ক হাসিরানি এবং শুভেন্দুর ভাই তথা সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারী-সহ অন্যরা।
কেন বার বার আলোচনায় ‘জাহাজবাড়ি’?
নন্দীগ্রাম সদর থেকে গোকুলনগরের দিকে এগোলেই চোখে পড়ে জাহাজের মতো দেখতে একটি বিশাল বাড়ি। মাথায় রয়েছে প্রকাণ্ড জলের ট্যাঙ্ক। বাড়িটির মালিক তৃণমূল নেতা শেখ সুফিয়ান। একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী এজেন্ট ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই এই বাড়িকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা চলছে। বাড়ি তৈরিতে বিপুল অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা, বিশেষ করে শুভেন্দু।
২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলনের সময় প্রথম সারিতে ছিলেন সুফিয়ানও। স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, সে সময় তাঁর ছোট একটি পাকা বাড়ি ছিল। নন্দীগ্রামে এলে সেই বাড়িতে বিশ্রাম নিতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর সুফিয়ানের বিশাল ‘জাহাজবাড়ি’ তৈরি হয় বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি। একবার সেখানে গিয়ে বাড়ির আকার দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন মমতা, এমন কথাও প্রচলিত রয়েছে।
সম্প্রতি বিপুল ঋণ পরিশোধ না করার অভিযোগে ওই বাড়ির মালিক সুফিয়ানকে ব্যাঙ্কের তরফে আইনি নোটিস দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘ঔদ্ধত্য চলবে না’, বার্তা দলের নেতাদের
বিজয়ের পর নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে শুভেন্দু বলেন, মানুষের সঙ্গে নিয়েই কাজ করতে হবে। পঞ্চায়েত পরিচালনার ক্ষেত্রেও ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর কথায়, “ঔদ্ধত্য চলবে না, আচরণ-চালচলন সংযত রাখবেন। পরে কেউ যাতে না বলেন যে আপনারাও ‘জাহাজবাড়ি’ তৈরি করেছেন।”
শুভেন্দু আরও জানান, তিনি ভবানীপুরের বিধায়ক হলেও আজীবন নন্দীগ্রামের ভোটার থাকবেন বলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নন্দীগ্রামের মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ অটুট থাকবে বলেও আশ্বাস দেন। উন্নয়নের প্রসঙ্গে তিনি দ্রুত রেলপথ ও সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করার কথা বলেন। নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে সব ধরনের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আশ্বাসও দিয়েছেন।
আগে জনগণ, তার পর দলের কর্মীরা
শুভেন্দুর বার্তায় উঠে এসেছে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও। তিনি বলেন, প্রথমে জনগণের প্রয়োজন দেখতে হবে, তার পর দলের কর্মীদের স্বার্থ। নির্বাচিত পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের আচার-আচরণ ঠিক রাখার উপরেও জোর দেন তিনি।
শুক্রবার ষষ্ঠীর দিন সকাল থেকে নন্দীগ্রামে থাকার কথা জানিয়েছেন শুভেন্দু। দুপুর পর্যন্ত একাধিক পুজোর উদ্বোধন করবেন তিনি। পাশাপাশি, তাঁর ছেড়ে দেওয়া বিধানসভা আসনে নতুন বিধায়ক হাসিরানির মাধ্যমে আগের মতোই পরিষেবা চালু থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।