সৌরভ, লক্ষ্মী ও শামির পরামর্শ নিয়ে নিউজিল্যান্ড যাচ্ছেন মুকেশ!
চোট ও অফ ফর্মের কারণে দীর্ঘ দিন ভারতীয় দল থেকে দূরে ছিলেন মুকেশ কুমার। এ বার ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদে জাতীয় দলে ফেরার লড়াইয়ে নতুন করে উঠে এসেছেন বাংলার এই পেসার। নিউজিল্যান্ড সফরে ভারতীয় ‘এ’ দলের হয়ে সুযোগ পেয়েছেন তিনি। সেই সফরে সাফল্য পেতে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, লক্ষ্মীরতন শুক্ল এবং মহম্মদ শামির পরামর্শকে কাজে লাগাতে চান মুকেশ।
তিন বছর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ় সফরে ভারতের তিন ফরম্যাটেই অভিষেক হয়েছিল তাঁর। একটা সময় জাতীয় দলে নিয়মিত খেললেও চোট ও ফর্মের সমস্যায় ছিটকে যান মুকেশ। তবে হাল ছাড়েননি। তাঁর কথায়, ‘‘তেমন কিছু না। শুধু চেষ্টা করে গিয়েছি।’’
ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা ফিরিয়েছে আত্মবিশ্বাস
১২ অক্টোবর ৩৩ বছরে পা দেবেন মুকেশ। সাম্প্রতিক সময়ে দলীপ ট্রফিতে পূর্বাঞ্চলের হয়ে ১২টি উইকেট নেওয়ার পর ইংল্যান্ডে কাউন্টি ক্রিকেট খেলেন তিনি। নটিংহ্যামশায়ারের হয়ে সাসেক্সের বিরুদ্ধে একটি উইকেট পান। এর পর ইরানি কাপে অবশিষ্ট ভারতীয় দলের হয়ে নেন আটটি উইকেট। এই পারফরম্যান্সই জাতীয় নির্বাচকদের নজর কাড়তে সাহায্য করেছে।
চলতি মরসুমে এখনও পর্যন্ত তাঁর উইকেটসংখ্যা ২২। এর মধ্যে ২১টি এসেছে ভারতে তৈরি এসজি বলে, আর একটি কাউন্টি ক্রিকেটে। নিউজিল্যান্ডে পরিবেশ, পিচ এবং বলের ধরন আলাদা হলেও মানিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী তিনি। অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলার অভিজ্ঞতাও কাজে লাগাতে চান।
বোলিংয়ে তিনটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব
চোট থেকে ফেরার পর বোলিংয়ে কিছু পরিবর্তন এনেছেন মুকেশ। বল ছাড়ার সময় কব্জির অবস্থান উন্নত করার পাশাপাশি সিমের অবস্থানের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। সুইংয়ের বদলে বলের সিম ঠিক জায়গায় ফেলাই তাঁর প্রধান শক্তি বলে জানিয়েছেন তিনি।
নিজের প্রস্তুতি সম্পর্কে মুকেশ বলেন, ফিটনেস বজায় রাখতে নিয়মিত কঠোর অনুশীলন করেন। পাশাপাশি লাইন ও লেংথ ঠিক রাখার জন্য নেটে বিশেষ পরিশ্রম করেন। সেই সঙ্গে আগের তুলনায় বলের গতিও কিছুটা বাড়িয়েছেন। এই তিনটি বিষয়কেই ধারাবাহিক ভাবে ধরে রাখতে চান বাংলার পেসার।
সৌরভ-শামির পরামর্শে বাড়তি ভরসা
নিউজিল্যান্ডে বোলিংয়ের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে ধারণা পেতে অভিজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছেন মুকেশ। বাংলার বোলিং কোচ রণদেব বসু এবং কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লর কাছ থেকে নিয়মিত পরামর্শ নেন তিনি। কয়েক দিন আগে দীর্ঘক্ষণ কথা হয়েছে শামির সঙ্গেও। নিউজিল্যান্ডে বল করার অভিজ্ঞতা থেকে শামি তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গেও কথা বলেছেন মুকেশ। ভারতের অন্যতম সফল অধিনায়কের কাছ থেকে নিউজিল্যান্ডের পরিবেশ সম্পর্কে নানা তথ্য পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
চোট এড়াতে বিশ্রামও জরুরি
দীর্ঘ দিন মাঠের বাইরে থাকার অভিজ্ঞতা থেকে ফিটনেস ও বিশ্রামের গুরুত্ব বুঝেছেন মুকেশ। তাঁর মতে, জোরে বোলারদের পক্ষে সব সময় শতকরা ১০০ ভাগ ফিট থাকা কঠিন। শরীরের সংকেত বুঝে প্রয়োজন হলে বিশ্রাম নেওয়া উচিত। ব্যথা বা অস্বস্তি হলে কোচ, ফিজিয়ো কিংবা সাপোর্ট স্টাফদের তা জানানোও জরুরি।
দু’বছরেরও বেশি সময় জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর নিউজিল্যান্ড সফর মুকেশের কাছে বড় সুযোগ। বয়স ও প্রতিযোগিতা—দুটির চাপই রয়েছে। তাই ফিটনেস, সঠিক লাইন-লেংথ এবং বলের গতি—এই তিন অস্ত্রকে সঙ্গী করে আবার ভারতীয় দলে ফেরার স্বপ্ন দেখছেন বাংলার পেসার।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।