চিনা হ্যাঙ্গর ডুবোজাহাজে পাকিস্তানের শক্তিবৃদ্ধি!
চিন থেকে পাওয়া নতুন হ্যাঙ্গর-শ্রেণির ডুবোজাহাজ থেকে প্রথম বার সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা করল পাকিস্তান। উত্তর আরব সাগরে পাক নৌসেনার নতুন ডুবোজাহাজ ‘পিএনএস/এম হ্যাঙ্গর’ একটি জাহাজ-বিধ্বংসী ক্রুজ় ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক জনসংযোগ দফতর আইএসপিআর। পাক নৌসেনার প্রধান অ্যাডমিরাল নাভিদ আশরফ পরীক্ষাটি প্রত্যক্ষ করেন।
চিনের সঙ্গে ২০১৫ সালের চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তান মোট আটটি হ্যাঙ্গর-শ্রেণির ডুবোজাহাজ পাচ্ছে। প্রথম চারটি চিনে এবং বাকি চারটি পাকিস্তানে প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে তৈরি হওয়ার কথা। প্রথম হ্যাঙ্গর ২০২৬ সালের এপ্রিলে কমিশন করা হয় এবং জুনে করাচিতে পৌঁছয়।
নতুন এই ডুবোজাহাজে উন্নত সেন্সর, স্টেলথ বৈশিষ্ট্য এবং এয়ার-ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রপালশন বা AIP প্রযুক্তি থাকার কথা জানিয়েছে পাকিস্তান। ফলে দীর্ঘ সময় জলের নীচে থেকে নজরদারি ও আক্রমণ চালানোর ক্ষেত্রে পাক নৌসেনার সক্ষমতা বাড়তে পারে। তবে পাকিস্তান প্রকাশ্যে হ্যাঙ্গরে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র বা তার পাল্লা সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়নি।
ভারত-পাকিস্তান, নৌসেনায় মূল ফারাক কোথায়?
পাকিস্তানের নতুন ডুবোজাহাজ নিঃসন্দেহে তার সাবমেরিন বাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। কিন্তু দুই দেশের নৌসেনার চরিত্র এক নয়। ভারতের নৌবাহিনী বৃহত্তর ভারত মহাসাগরীয় এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি অভিযান, দূর সমুদ্রে উপস্থিতি এবং বিমানবাহী রণতরীকেন্দ্রিক শক্তি প্রদর্শনের জন্য গড়ে উঠেছে। পাকিস্তানের নৌসেনার প্রধান গুরুত্ব তুলনায় বেশি আরব সাগর, উপকূলীয় প্রতিরক্ষা এবং সমুদ্রপথ সুরক্ষায়।
ভারতের হাতে বর্তমানে দুটি বিমানবাহী রণতরী—আইএনএস বিক্রমাদিত্য এবং দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি আইএনএস বিক্রান্ত। ২০২৩ সালে দুই রণতরীকে একসঙ্গে নিয়ে ভারতীয় নৌবাহিনী মাল্টি-ক্যারিয়ার অপারেশনও প্রদর্শন করেছিল।
আইএনএস বিক্রান্তে মিগ-২৯কে-সহ বিভিন্ন বিমান ও হেলিকপ্টার পরিচালনার ব্যবস্থা রয়েছে। ২০২৫ সালে ভারত ২৬টি রাফাল-মেরিন যুদ্ধবিমান কেনার জন্য ফ্রান্সের সঙ্গে প্রায় ₹৬৩,০০০ কোটি টাকার চুক্তিও করেছে।
পাকিস্তানের হাতে বিমানবাহী রণতরী নেই। ফলে সমুদ্রে বিমান-শক্তি প্রদর্শনের ক্ষেত্রে তাকে মূলত স্থলভিত্তিক বিমান ও নৌবাহিনীর টহল ও হেলিকপ্টার ব্যবস্থার উপর নির্ভর করতে হয়। এই জায়গায় ভারতের সঙ্গে ফারাক স্পষ্ট।
ডুবোজাহাজের ক্ষেত্রেও ভারত শুধু প্রচলিত সাবমেরিনে সীমাবদ্ধ নয়। আইএনএস অরিহান্ত ও আইএনএস অরিঘাতের মতো পারমাণবিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ডুবোজাহাজ ভারতের সমুদ্রভিত্তিক পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভারতের কালভারি-শ্রেণির প্রচলিত আক্রমণাত্মক সাবমেরিনও রয়েছে।
পাকিস্তানের হাতে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন নেই। বর্তমানে তার সাবমেরিন বহরে অগস্টা ৯০বি-সহ প্রচলিত ডুবোজাহাজ রয়েছে। হ্যাঙ্গর-শ্রেণির আটটি সাবমেরিন সম্পূর্ণ ভাবে যুক্ত হলে সেই বহরের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়বে।
তবে নৌক্ষমতার বিচার শুধু জাহাজ বা ডুবোজাহাজের সংখ্যা দিয়ে হয় না। রণতরীর বিমানক্ষমতা, সাবমেরিনের প্রযুক্তি, সেন্সর, যুদ্ধবিমান, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, রসদ সরবরাহ, ঘাঁটি এবং দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার ক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ।
সেই বিচারে হ্যাঙ্গর পাকিস্তানের জন্য বড় সংযোজন হলেও, সামগ্রিক নৌক্ষমতা ও দূর সমুদ্রে শক্তি প্রদর্শনের পরিধিতে ভারত এখনও অনেক বিস্তৃত সক্ষমতা ধরে রেখেছে। তবে নতুন চিনা ডুবোজাহাজগুলি আরব সাগরে সাবমেরিন-ভিত্তিক ‘সি ডিনায়াল’ বা শত্রুর সমুদ্র ব্যবহার কঠিন করে তোলার ক্ষমতা বাড়াবে—এটিও ভারতের নৌপরিকল্পনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?