জোড়া পেনাল্টি বাঁচিয়ে বিশালের বাজিমাত!!
টাইব্রেকারে আবারও মোহনবাগানের ত্রাতা বিশাল কাইথ। পঞ্জাব এফসির দু’টি পেনাল্টি আটকে দিয়ে দলকে ফাইনালে তুলে দিলেন সবুজ-মেরুন গোলরক্ষক। নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে গোল না হওয়ায় টাইব্রেকারে ম্যাচের ফয়সালা হয়। সেখানে পঞ্জাবকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে উঠল মোহনবাগান।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল রক্ষণকে গুরুত্ব দিয়ে খেলছিল। ৮ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় মোহনবাগানের আশিস রাইকে। তাঁর জায়গায় নামেন অভিষেক সূর্যবংশী। এর পর ফ্রি কিক থেকে লি ইরউইনের শট অল্পের জন্য গোল হয়নি। বল পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
পঞ্জাবও সুযোগ তৈরি করেছিল। ৩৭ মিনিটে বিশুর শট আলবের্তো রদ্রিগেজ়ের গায়ে লেগে দিক বদলে গোলে ঢুকে যেতে পারত। কিন্তু দ্রুত প্রতিক্রিয়ায় বল আটকে দেন বিশাল। পরের মিনিটে লালিয়ানজুয়ালা ছাংতের ভলিও লক্ষ্যে থাকেনি। গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় দু’দল।
দ্বিতীয়ার্ধেও ছবিটা বদলায়নি। আক্রমণে উঠলেও বক্সের মধ্যে গিয়ে কার্যকর সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না কোনও দল। মোহনবাগান কোচ পানাজিয়োটিস দিমপেরিস একের পর এক পরিবর্তন করে আক্রমণে গতি আনার চেষ্টা করেন। দ্বিতীয়ার্ধে মিগুয়েল ফিগুয়েরাকেও নামানো হয়।
৮৫ মিনিটে মনে হয়েছিল ম্যাচের ফল মোহনবাগানের পক্ষেই চলে গিয়েছে। মিগুয়েলের ফ্রি কিক থেকে হেডে বল জালে পাঠান অধিনায়ক শুভাশিস বসু। কিন্তু ফ্রি কিক নেওয়ার সময় অফসাইডে থাকায় গোল বাতিল করে দেন সহকারী রেফারি। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
শেষ ৩০ মিনিটেও কোনও দল গোলের মুখ খুলতে পারেনি। সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুহেল ভাটকে নামিয়েও মোহনবাগান গোল পায়নি। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারই ভরসা।
সেখানেই ম্যাচের নায়ক বিশাল। পঞ্জাবের প্রথম শটে মেসিবৌলি গোল করেন। মোহনবাগানের হয়ে রাহুল ভেকে গোল করে সমতা ফেরান। অর্শবীর সিংহের পর শুভাশিসও গোল করেন। তার পর পর পর পঞ্জাবের শাইজ়া ও বিশাল যাদবের শট আটকে দেন বিশাল কাইথ।
মোহনবাগানের হয়ে আলবের্তো রদ্রিগেজ় গোল করেন। পঞ্জাবের পঞ্চম শটে ঋষিকান্ত গোল করলেও মোহনবাগানের শেষ শটে মিগুয়েল ফিগুয়েরা কোনও ভুল করেননি। কয়েক দিন আগে নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে পেনাল্টি ফস্কালেও এ দিন ঠান্ডা মাথায় গোল করে দলকে ফাইনালে তুলে দেন তিনি।
এক দিন আগে ব্রাজ়িলের বিরুদ্ধে ভারতের গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিংহ সান্ধু দু’টি গোল হজম করেছিলেন। সেই ম্যাচে বিশাল কাইথ জাতীয় দলে ছিলেন না। অথচ ক্লাবের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আবারও দেখিয়ে দিলেন, চাপের মুহূর্তে কেন তাঁকে ভারতের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক বলা হয়।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।