১১৫ অভিযোগের ১১৪টিতেই দোষী সিটি!
ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে ওঠা ১১৫টি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের মধ্যে ১১৪টিতেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছে ক্লাবটি। প্রায় ন’বছর ধরে আর্থিক তথ্য গোপন, ফুটবলার ও কোচদের দেওয়া অর্থের হিসাব প্রকাশ না করা এবং আর্থিক নিয়ম ভাঙার মতো অভিযোগ রয়েছে এই মামলায়। রায় সামনে আসার পরই তাই প্রশ্ন উঠছে, এ বার কী অপেক্ষা করছে ইংল্যান্ডের অন্যতম সফল ক্লাবটির জন্য?
শাস্তি অবশ্য এখনই ঘোষণা হচ্ছে না। আইনি প্রক্রিয়া, আবেদন এবং পরবর্তী শুনানির কারণে বিষয়টি আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সিটি যে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে লড়াই চালিয়ে যাবে, তার ইঙ্গিতও ক্লাবের তরফে ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে।
প্রিমিয়ার লিগের হাতে একাধিক ধরনের শাস্তির সুযোগ রয়েছে। বড় অঙ্কের জরিমানা থেকে শুরু করে পয়েন্ট কেটে নেওয়া, এমনকি লিগ থেকে বাদ দেওয়ার মতো শাস্তিও আলোচনায় রয়েছে। তবে কোন শাস্তি দেওয়া হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
এখানেই তৈরি হচ্ছে আরও বড় প্রশ্ন। শাস্তির সিদ্ধান্ত আসার আগে যদি সিটি মাঠে সাফল্য ধরে রাখে, সেই ফলাফলকে কী ভাবে দেখা হবে? গত এক দশকে ক্লাবটির জেতা ট্রফি, শেষ মুহূর্তের গোল কিংবা ইউরোপের মঞ্চে সাফল্য—সব কিছুর মূল্যায়ন নিয়েই নতুন করে বিতর্ক তৈরি হতে পারে।
সিটির বিরুদ্ধে তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগও রয়েছে। তদন্তকারীদের সঙ্গে ক্লাবের আচরণ, তথ্য গোপন এবং বিভিন্ন সময়ে তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ মামলাটিকে আরও জটিল করেছে। ফলে শাস্তি ঘোষণার পরেও বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ানোর সম্ভাবনা থাকছে।
এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সিটির মালিকানার বিষয়টিও। ক্লাবটির মালিক শেখ মনসুর বিন জায়েদ আল নাহিয়ান সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের ভাই। শেখ মনসুর নিজেও আমিরশাহির ভাইস-প্রেসিডেন্ট এবং উপপ্রধানমন্ত্রী। ফলে সিটিকে দেওয়া কোনও বড় শাস্তির রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক প্রভাব নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।
ক্লাবের চেয়ারম্যান খালদুন আল মুবারক অবশ্য এখনও সিটির নির্দোষ হওয়ার দাবিতেই অনড়। তাঁর বক্তব্য, তদন্ত শুরুর পর থেকেই ক্লাব প্রমাণ করে আসছে যে তারা নির্দোষ এবং সেই অবস্থান থেকে সরে যাওয়ার প্রশ্ন নেই।
কিন্তু চূড়ান্ত শাস্তি হলে মালিকানা ও পরিচালন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ কী হবে, সেটাও বড় প্রশ্ন। ২০১৯ সালে আমেরিকার সংস্থা সিলভার লেক প্রায় ৪৮০০ কোটি টাকায় সিটি ফুটবল গ্রুপের অংশীদারিত্ব কিনেছিল। শাস্তির প্রভাব পড়লে সেই বিনিয়োগকারীদের অবস্থান কী হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন থাকছে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হল ফুটবলারদের ভবিষ্যৎ। সিটি যদি প্রিমিয়ার লিগ বা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার যোগ্যতা হারায়, তা হলে তার প্রভাব দল গঠনের উপর পড়তে পারে। একই সঙ্গে আবু ধাবির বিনিয়োগে পূর্ব ম্যাঞ্চেস্টারে যে বিপুল পরিমাণ পরিকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে, তার ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
এই মামলার প্রভাব শুধু সিটির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনাও নেই। অন্য ক্লাবগুলি যদি মনে করে, সিটির আর্থিক সুবিধার কারণে তারা অতীতে প্রতিযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা হলে নতুন করে ক্ষতিপূরণের দাবি উঠতে পারে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, টটেনহ্যাম হটস্পার কিংবা আর্সেনালের মতো ক্লাবের অতীত ফলাফল নিয়েও তখন প্রশ্ন উঠবে।
বিশেষ করে যে সময়কালের অনিয়মের অভিযোগ, সেই সময় সিটির সঙ্গে অন্য ক্লাবগুলির লড়াইয়ের ফলাফল নতুন করে খতিয়ে দেখা হতে পারে। সিটির কাছ থেকে ফুটবলার নেওয়া ক্লাবগুলিও ভবিষ্যতে সেই লেনদেন নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
তবে আপাতত সবটাই সম্ভাবনার স্তরে। শাস্তির ধরন, ক্লাবের আবেদন, আদালতের সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে এই বিতর্কের নিষ্পত্তি হতে আরও সময় লাগবে। ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে রায়ের পর তাই উত্তর পাওয়ার চেয়ে নতুন প্রশ্নই যেন আরও বেশি তৈরি হয়েছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।