ব্রাজ়িলের পর এ বার পর্তুগাল-ফ্রান্স!!
ব্রাজ়িলের পর এ বার আরও বড় স্বপ্ন। ভারতে পর্তুগাল, ফ্রান্সের মতো ফুটবল শক্তিকে খেলানোর পরিকল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে পর্তুগালের জার্সিতে ভারতে দেখা যাবে কি না, তা অবশ্য এখনই বলা সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে তাঁর অবসর নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে বড় দলকে ভারতে আনার কাজ থেমে নেই। বরং ব্রাজ়িল-উরুগুয়ের ম্যাচ সফল হলে সেই দরজা আরও খুলবে বলে মনে করছেন ফিফা স্বীকৃত ফুটবল এজেন্ট অনুজ কিচলু।
‘বেস্ট অফ ইউ’ সংস্থার সিইও অনুজই কলকাতায় ব্রাজ়িলকে আনার অন্যতম প্রধান কারিগর। সংস্থার ফাউন্ডার-ডিরেক্টর সৌরভ চট্টোপাধ্যায় আগেই জানিয়েছিলেন, এই উদ্যোগের নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে অনুজের। ভিনিসিয়াস জুনিয়রদের যুবভারতীতে খেলানোর পর এ বার তাঁর নজর আরও বড় দলগুলির দিকে।
অনুজ জানালেন, পর্তুগাল এবং ফ্রান্সের সঙ্গে ইতিমধ্যেই যোগাযোগ শুরু হয়েছে। তাঁর কথায়, ব্রাজ়িল ও উরুগুয়ের ম্যাচ সফল হলে ভবিষ্যতে আরও বড় দলকে ভারতে আনার কাজ অনেক সহজ হবে। তাঁর দাবি, বিশ্বের যে কোনও দলকে যে কোনও জায়গায় খেলানোর মতো যোগাযোগ এবং পরিকাঠামো তৈরির চেষ্টা চলছে।
তবে বড় তারকাদের আনাই তাঁদের সংস্থার মূল কাজ নয়। অনুজের বক্তব্য, ‘বেস্ট অফ ইউ’-এর আসল লক্ষ্য তৃণমূল স্তরের ফুটবল। বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রতিভাবান ফুটবলার তুলে এনে তাঁদের সুযোগ করে দেওয়াই মূল উদ্দেশ্য। বড় দলকে মাঝে মাঝে ভারতে এনে ম্যাচ আয়োজন করার পিছনেও রয়েছে অন্য ভাবনা—মানুষের নজর টানা, ফুটবলের প্রচার বাড়ানো এবং স্পনসরদের আকৃষ্ট করা।
অনুজ মনে করেন, শুধু বেসরকারি স্পনসর দিয়ে ভারতে ফুটবলের বাজার তৈরি করা সম্ভব নয়। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের আর্থিক বিনিয়োগও প্রয়োজন। তাঁর মতে, দেশে এখনও ফুটবলের সেই বড় বাজার তৈরি হয়নি।
বিশ্বের অন্যতম বড় দলকে ভারতে আনতে যে বিপুল অর্থের প্রয়োজন, তারও ইঙ্গিত দিয়েছেন অনুজ। তাঁর হিসাবে, ব্রাজ়িলের মতো দলের একটি ম্যাচের মূল্যায়ন প্রায় ৬০ লক্ষ ডলার, অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় ৫৭ কোটি টাকারও বেশি। তবে এই পুরো অর্থ কোনও একটি সংস্থা বা ফেডারেশনকে দিতে হয় না। টিকিট বিক্রি, স্পনসরশিপ, মিডিয়া স্বত্ব-সহ বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ উঠে আসে। এআইএফএফ-কে পুরো ৬০ লক্ষ ডলার দিতে হয়নি বলেও পরিষ্কার করেছেন তিনি।
ব্রাজ়িলকে রাজি করানোর প্রক্রিয়াটাও সহজ ছিল না। বিশ্বকাপের ঠিক আগে ব্রাজ়িলকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তার পর যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠেন কোচ কার্লো আনচেলোত্তি। অনুজের সংস্থার এক ডিরেক্টর তাঁর কোচিংয়ে খেলেছেন। সেই ব্যক্তিগত যোগাযোগও আলোচনাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।
আর একটি বড় সমস্যা ছিল ভারতের বিশ্বকাপ না খেলা। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলি নিয়মিত বিশ্বকাপ খেলে। ভারত সেই তালিকায় নেই। তাই বড় দলগুলিকে ভারতে আনতে স্বাভাবিক ভাবেই বাড়তি চ্যালেঞ্জ ছিল।
এই সফরের সময়টাও তাই গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপের পর বড় দলগুলির জন্য প্রীতি ম্যাচের উইন্ডো খুব সীমিত। ব্রাজ়িল, পানামা এবং উরুগুয়ে একই সময়ে এশিয়া সফরে থাকায় সুযোগ তৈরি হয়। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার পর ভারতের ভৌগোলিক অবস্থানও কাজে এসেছে।
ব্রাজ়িল-উরুগুয়ের পর এ বার সেই সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে পর্তুগাল, ফ্রান্সের দরজা খোলার চেষ্টা। রোনাল্ডো থাকুন বা না থাকুন, ভারতের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বড় দলকে দেশের মাটিতে দেখার স্বপ্নটা কিন্তু আরও বড় হচ্ছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।