ভেন্টিলেটরে রোগীর টুথপেস্টের বিল!!
বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার খরচ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রোগী ও তাঁদের পরিজনদের নানা অভিযোগ রয়েছে। এ বার সেই বিতর্ক আরও জোরালো হল কম্বল, চিরুনি এমনকি ভেন্টিলেটরে থাকা রোগীর টুথপেস্টের মতো সামগ্রীর দাম বিলের সঙ্গে যোগ করার অভিযোগ ঘিরে। এমনই এক প্রতিবেদন প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য স্বাস্থ্য কমিশন। বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে এ ধরনের বিলের কারণ জানতে চাওয়া হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে কলকাতার একাধিক বেসরকারি হাসপাতালের বিলের উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছিল। একবালপুরের একটি হাসপাতালে ১১ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন অপর্ণা সাহা। তাঁর পরিবারের দাবি, মোট বিল হয়েছিল ৯ লক্ষ ১৭ হাজার টাকা। সেই বিলে বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রীর যে দাম নেওয়া হয়েছিল, তা খোলা বাজার বা পাইকারি দামের তুলনায় অনেক বেশি বলে অভিযোগ।
আরও একটি উদাহরণ ফুলবাগান থানা এলাকার বাইপাসের ধারের একটি বেসরকারি হাসপাতালের। স্নায়ুরোগে আক্রান্ত সুজাতা পালের চার দিনের বিল হয়েছিল ১ লক্ষ ৬ হাজার ৬৮৩ টাকা। সেখানে একটি ডিজিটাল থার্মোমিটারের দাম ১৭৩ টাকা ৫০ পয়সা এবং পেট্রোলিয়াম জেলির দাম ৭৫ টাকা ধরা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সংশ্লিষ্ট বিক্রেতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই থার্মোমিটারের পাইকারি দাম ছিল প্রায় ৭৪ টাকা ২০ পয়সা এবং জেলির বিক্রয়মূল্য ছিল তার চেয়ে অনেক কম।
শুধু চিকিৎসাসামগ্রী নয়, বেড বা স্যুইটের দৈনিক ভাড়া নেওয়ার পরেও কম্বল, চাদর বা অন্য সাধারণ ব্যবহারের সামগ্রীর জন্য আলাদা টাকা নেওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এক রোগীর পরিবারের দাবি, দৈনিক ১৪ হাজার ৫০০ টাকা বেড ভাড়া দেওয়ার পরেও কম্বলের জন্য আলাদা করে ৪৪৩৫ টাকা নেওয়া হয়েছিল। অন্য একটি বিলে চিরুনির জন্য ৩১ টাকা ২৫ পয়সা নেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে।
স্বাস্থ্য কমিশনের এক চিকিৎসক সদস্যের বক্তব্য, এমন বিলের ক্ষেত্রে পরিষেবার ধরন এবং আলাদা করে নেওয়া চার্জের যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কমিশনের প্রাক্তন সদস্য চিকিৎসক সুকুমার মুখোপাধ্যায়েরও দাবি, তিনি এমন বিল দেখেছেন যেখানে ভেন্টিলেটরে থাকা রোগীর টুথপেস্টের দাম পর্যন্ত ধরা হয়েছে। তাঁর মতে, নিয়মিত নজরদারি না থাকলে এ ধরনের অভিযোগ ঠেকানো কঠিন।
চিকিৎসাসামগ্রীর সর্বোচ্চ বিক্রয়মূল্য এবং হাসপাতালের নেওয়া দামের মধ্যে ফারাক নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। চিকিৎসাসামগ্রী প্রস্তুতকারকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল ডিভাইজ় ইন্ডাস্ট্রি জানিয়েছে, বর্তমান মূল্য নিয়ন্ত্রণ কাঠামোয় আরও স্পষ্ট নিয়ম প্রয়োজন। তাদের বক্তব্য, বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রীর ক্ষেত্রে পাইকারি মূল্য ও রোগীর কাছ থেকে নেওয়া দামের ব্যবধান নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখা উচিত।
পশ্চিমবঙ্গে বেসরকারি হাসপাতাল সংক্রান্ত রোগীদের অভিযোগের নিষ্পত্তির জন্য ২০১৭ সালে ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্ট আইন চালু হয়। কোভিডের সময় চিকিৎসাসামগ্রী ও ওষুধের দাম নিয়ে স্বাস্থ্য কমিশন একাধিক পরামর্শও দিয়েছিল। তবে সেই সব পরামর্শকে আইনি কাঠামোয় আনার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও অতীতে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বার স্বাস্থ্য কমিশন বিভিন্ন হাসপাতালের বক্তব্য জানতে শুরু করায় নতুন করে নজরে এসেছে রোগীর বিলের স্বচ্ছতার বিষয়টি। কোন সামগ্রীর জন্য আলাদা টাকা নেওয়া যুক্তিসঙ্গত এবং কোন ক্ষেত্রে তা বেড বা পরিষেবা-খরচের মধ্যেই থাকার কথা—এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতেই কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।