জানুন কোন বাদামে কী পুষ্টি
সকালের খাবারে কয়েকটি বাদাম রাখার অভ্যাস শরীরের জন্য পুষ্টিকর হতে পারে। কাঠবাদাম, আখরোট কিংবা পেস্তা—তিনটিই প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ফাইবার, ভিটামিন ও বিভিন্ন খনিজের উৎস। কিন্তু প্রশ্ন হল, এই তিনটির মধ্যে কোনটি সবচেয়ে উপকারী? আসলে প্রত্যেক বাদামের পুষ্টিগুণ আলাদা। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী বেছে নেওয়াই ভাল।
কাঠবাদাম
১০০ গ্রাম কাঠবাদামে প্রায় ৫৭৯ কিলোক্যালরি, ২১ গ্রাম প্রোটিন, ৪৯ গ্রাম ফ্যাট, ২২ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট এবং ১২.৫ গ্রাম ফাইবার থাকে। এ ছাড়াও এতে ভিটামিন ই, বি২, বি৩, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ়, কপার, ফসফরাস ও পটাশিয়াম রয়েছে।
কাঠবাদামে থাকা মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং ফাইবার সুষম খাদ্যের অংশ হিসাবে হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। ভিটামিন ই ত্বকের স্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখে। ক্যালশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো খনিজ হাড় এবং শরীরের বিভিন্ন স্বাভাবিক কার্যকলাপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
আখরোট
১০০ গ্রাম আখরোটে প্রায় ৬৫৪ কিলোক্যালরি, ১৫.২ গ্রাম প্রোটিন, ৬৫.২ গ্রাম ফ্যাট, ১৩.৭ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট এবং ৬.৭ গ্রাম ফাইবার থাকে। এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল এতে উদ্ভিজ্জ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে।
আখরোটে ভিটামিন বি৬, ফোলেট, ভিটামিন ই, ম্যাঙ্গানিজ়, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস ও জ়িঙ্কও পাওয়া যায়। ওমেগা-৩-সহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসাবে হৃদ্যন্ত্র ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যকারিতায় সহায়ক হতে পারে।
পেস্তা
পেস্তায় প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায় ৫৬২ কিলোক্যালরি, ২০ গ্রাম প্রোটিন, ৪৫ গ্রাম ফ্যাট, ২৮ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট এবং ১০.৩ গ্রাম ফাইবার থাকে। ভিটামিন বি৬, বি১, কে-এর পাশাপাশি পটাশিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, কপার, ম্যাঙ্গানিজ় ও ম্যাগনেশিয়ামও রয়েছে।
পেস্তার পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। আয়রন ও কপার শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে প্রয়োজনীয়। ফসফরাস ও ভিটামিন কে হাড়ের স্বাস্থ্যের সঙ্গেও যুক্ত।
তা হলে কোনটি সেরা?
তিন ধরনের বাদামের মধ্যে একটিকে সার্বিক ভাবে ‘সেরা’ বলা কঠিন। বেশি প্রোটিন ও ভিটামিন ই চাইলে কাঠবাদাম, উদ্ভিজ্জ ওমেগা-৩-এর জন্য আখরোট এবং বৈচিত্র্যময় পুষ্টির জন্য পেস্তা রাখা যেতে পারে। অর্থাৎ, একটির বদলে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে তিন ধরনের বাদামই খাদ্যতালিকায় রাখা সম্ভব।
সকালে ৪-৫টি ভিজিয়ে রাখা কাঠবাদাম এবং দিনের অন্য সময়ে কয়েকটি আখরোট বা পেস্তা খাওয়া যেতে পারে। তবে বাদামে ক্যালরির পরিমাণ যথেষ্ট হওয়ায় বেশি খাওয়ার প্রয়োজন নেই। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে মোট পরিমাণের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। ব্যক্তিভেদে প্রয়োজন আলাদা হওয়ায় নিয়মিত বেশি পরিমাণ বাদাম খাওয়ার আগে পুষ্টিবিদ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।