সকালের তিন উপকরণের পানীয়েই ফিট সৌম্যা?
চল্লিশ পেরিয়েও নিজের ফিটনেস ধরে রেখেছেন অভিনেত্রী সৌম্যা টন্ডন। ‘ভাবীজী ঘর পর হ্যায়’-এর অনীতা ভাবী থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক ‘ধুরন্ধর’—বিভিন্ন চরিত্রে তাঁকে দেখে তাঁর ফিটনেস নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে অনুরাগীদের মধ্যে। কিন্তু সৌম্যার দাবি, এর জন্য কোনও কঠোর ডায়েটের উপর নির্ভর করেন না তিনি। বরং প্রতিদিনের খাবারে নিয়ম মেনে চলাই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সৌম্যা জানিয়েছেন, দিনের শুরুতে তিনি একটি বিশেষ মিশ্রণ খান। এক চামচ ঘি, এক চিমটে হলুদ এবং সামান্য গোলমরিচ একসঙ্গে নেন তিনি। এর পর মিহি করে কুচোনো আদা জলে ফুটিয়ে সেই জল ঈষদুষ্ণ অবস্থায় পান করেন। তাঁর মতে, এই অভ্যাস পেটের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
তবে শুধু এই পানীয় নয়, সৌম্যার গোটা খাদ্যাভ্যাসেই রয়েছে কিছু নিয়ম। তিনি চিনি, মধু এবং গুড়ের মতো মিষ্টি উপাদান এড়িয়ে চলেন। দিনের খাবারে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি রাখার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি বাদাম এবং বিভিন্ন ধরনের বীজ থেকে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট নেওয়াও তাঁর খাদ্যতালিকার অংশ।
খাওয়ার পরিমাণের ক্ষেত্রেও সচেতন সৌম্যা। অতিরিক্ত খাওয়া বা ‘বিঞ্জ ইটিং’ করেন না। রাতের খাবারও বেশ তাড়াতাড়ি সেরে ফেলেন। সাধারণত সন্ধ্যা ৭টার আগেই নৈশভোজ শেষ করে রাতে আর কিছু খান না বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
ঘি, হলুদ, গোলমরিচ বা আদা—প্রতিটি উপাদান নিয়েই স্বাস্থ্যগুণের নানা দাবি রয়েছে। হলুদের কারকিউমিনের প্রদাহনাশক ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা হয়েছে। আদা হজমের ক্ষেত্রে কিছু মানুষের উপকার করতে পারে। তবে এই উপাদানগুলির মিশ্রণকে ‘ডিটক্স’ হিসেবে ব্যবহার করলে শরীরের মেদ ঝরে যাবে, খারাপ কোলেস্টেরল কমবে বা গ্যাস-অম্বল আর হবে না—এমন নিশ্চয়তা দেওয়ার মতো প্রমাণ নেই।
বরং কারও শরীরে আগে থেকেই কোনও সমস্যা থাকলে বা নিয়মিত ওষুধ খেলে নিজের মতো করে এমন মিশ্রণ শুরু না করাই ভাল। বিশেষ করে রক্ত পাতলা করার ওষুধ বা কিছু হৃদ্রোগের ওষুধ সেবন করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। একই ভাবে, ঘি-জাতীয় উচ্চ ফ্যাটের খাবার সবার জন্য সমান উপযোগী নয়।
তাই সৌম্যার সকালের অভ্যাস তাঁর ব্যক্তিগত রুটিন হিসেবেই দেখা ভাল। ফিট থাকার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা, সুষম খাবার এবং নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস—সবকিছুরই ভূমিকা রয়েছে। শুধু একটি পানীয় খেলেই ওজন নিয়ন্ত্রণ বা অম্বল থেকে নিশ্চিত মুক্তি সম্ভব, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।