একাই লড়ছেন তিলক, শামি-মুকেশের দাপটে চালকের আসনে পূর্বাঞ্চল! দলীপ ফাইনালে জয়ের গন্ধ ঈশানদের

একাই লড়ছেন তিলক চেন্নাইয়ের এমএ চিদম্বরম স্টেডিয়ামের পিচে প্রথম তিন দিনে ব্যাটারদেরই দাপট দেখা গিয়েছিল। সেই উইকেটেই বল পুরনো হওয়ার পর রিভার্স সুইং কাজে লাগিয়ে ম্যাচের ছবি বদলে দিলেন বাংলার…

September 8, 2026
1 min read

একাই লড়ছেন তিলক

চেন্নাইয়ের এমএ চিদম্বরম স্টেডিয়ামের পিচে প্রথম তিন দিনে ব্যাটারদেরই দাপট দেখা গিয়েছিল। সেই উইকেটেই বল পুরনো হওয়ার পর রিভার্স সুইং কাজে লাগিয়ে ম্যাচের ছবি বদলে দিলেন বাংলার দুই পেসার মহম্মদ শামি ও মুকেশ কুমার। তাঁদের দাপটে দলীপ ট্রফির ফাইনালে দক্ষিণাঞ্চল এখন প্রবল চাপে।

তৃতীয় দিনের শেষে দক্ষিণাঞ্চলের স্কোর ৬ উইকেটে ২৪২ রান। পূর্বাঞ্চল প্রথম ইনিংসে তুলেছিল ৭০৮ রান। ফলে এখনও ৪৬৬ রানে পিছিয়ে তিলক বর্মার দল। দিনের শেষে ৫৬ রানে অপরাজিত তিলকই এখন দক্ষিণাঞ্চলের শেষ বড় ভরসা।

চেন্নাইয়ের উইকেট দেখে প্রথম দু’দিন মনে হয়েছিল, বোলারদের জন্য খুব বেশি সাহায্য নেই। বাউন্স বা গতি প্রায় নেই, স্পিনও বিশেষ ভয়ঙ্কর নয়। পূর্বাঞ্চলের ব্যাটাররা বড় রান করার পরে তাই দক্ষিণাঞ্চলের কাছ থেকেও বড় ইনিংসের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু শুরুতেই মুকেশের বলে ধাক্কা খায় তারা।

রিকি ভুঁই লেগ স্টাম্পের বাইরের একটি বলে ব্যাট ছোঁয়ান। আম্পায়ার আউট দেননি। কিন্তু স্লিপে থাকা বৈভব সূর্যবংশী নিশ্চিত ছিলেন যে ব্যাটে বল লেগেছে। তিনি অধিনায়ক ঈশান কিশনকে রিভিউ নিতে বার বার বলেন। শেষ পর্যন্ত রিভিউয়ে দেখা যায়, বল ব্যাটের কানায় লেগেছিল। দক্ষিণাঞ্চল প্রথম উইকেট হারায় মাত্র ১ রানে।

দেবদত্ত পডিক্কল ও নারায়ণ জগদীশন কিছুটা সামলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগে শিখর মোহনের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ৩২ রানে ফেরেন জগদীশন। এর পর বল ৩৫ ওভার পুরনো হতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে চলে যায় পূর্বাঞ্চলের হাতে।

পুরনো বলে রিভার্স সুইং করাতে শুরু করেন শামি ও মুকেশ। সেই সুইংয়ের সামনে সমস্যায় পড়েন সাইক রশিদ। শামির বলে ২৭ রানে আউট হন তিনি। কিছু পরে পডিক্কলও মুকেশের বলে উইকেট দিয়ে ফেরেন। ৬২ রানে থাকা পডিক্কল ছক্কা মারতে গিয়ে ফিল্ডারের হাতে ক্যাচ তুলে দেন। আউট হওয়ার পর তাঁর হতাশা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

এর পর দায়িত্ব গিয়ে পড়ে তিলক ও স্মরণ রবিচন্দ্রনের উপর। কিন্তু শামির বিরুদ্ধে বার বার আক্রমণাত্মক শট খেলতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত ৪০ রানে আউট হন স্মরণ। আম্পায়ার প্রথমে তাঁকে আউট দেননি। শামিও খুব একটা আবেদন করেননি। সেই সময় ঈশান মাঠের বাইরে থাকায় অধিনায়কত্ব করছিলেন বৈভব। তাঁর জোরাজুরিতেই ফের রিভিউ নেওয়া হয় এবং সিদ্ধান্ত পূর্বাঞ্চলের পক্ষেই যায়।

দিনের শেষে তিলক ৫৬ রানে অপরাজিত। তাঁর সামনে এখন একদিকে বড় রান করার চাপ, অন্য দিকে দলকে ইনিংসের বিশাল ব্যবধান থেকে উদ্ধার করার কঠিন চ্যালেঞ্জ।

তৃতীয় দিনে শামি ১১ ওভার বল করে চারটি মেডেন-সহ মাত্র ১৭ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন। মুকেশ ১২ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। দুই বাংলার পেসারের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়েই মূলত ম্যাচের রাশ এখন পূর্বাঞ্চলের হাতে।

একটি মজার ঘটনা অবশ্য ঘটেছে। মুকেশের বলে শ্রেয়স গোপালের ব্যাটের কানায় বল লেগেছিল, কিন্তু স্লিপে থাকা বৈভব ক্যাচটি ফেলেন। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি পূর্বাঞ্চল। শেষ পর্যন্ত ২৬ রানে মহম্মদ কুরেশির বলে আউট হন গোপাল।

তবে দিনের শেষে ছবিটা পরিষ্কার—তিলক একাই লড়ছেন, আর শামি-মুকেশের হাতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ। দক্ষিণাঞ্চলকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে এখন অসম্ভব কঠিন কাজ করতে হবে। তাই পাঁচ দিনের ফাইনালে চতুর্থ দিনের আগেই পূর্বাঞ্চলের শিবিরে জয়ের আশার আলো আরও উজ্জ্বল।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *