সিরাজদের শর্ট বলের মোকাবিলার কৌশল জানালেন ঈশান
দলীপ ট্রফির ফাইনালে ব্যাট হাতে দুরন্ত ইনিংস খেললেন পূর্বাঞ্চলের অধিনায়ক ঈশান কিশন। প্রথম ইনিংসে ৩৩৪ বলে ২৭০ রান করে দলকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে দেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ৩০টি চার এবং সাতটি ছক্কা। প্রায় তিন দশক পর দলীপে পূর্বাঞ্চলের কোনও ব্যাটার আবার দ্বিশতরান করলেন।
ম্যাচের পর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রকাশিত ভিডিয়োয় নিজের ইনিংসের পরিকল্পনা নিয়ে মুখ খুলেছেন ঈশান। বড় ম্যাচের চাপকে তিনি বরং নিজের সেরাটা দেওয়ার সুযোগ হিসাবেই দেখেন। তাঁর কথায়, কঠিন পরিস্থিতিতে খেলতেই তিনি বেশি উপভোগ করেন। শুরুতে চাপ থাকলেও খারাপ বল পেলেই আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।
ব্যাটে শুরু থেকেই বল ভাল ভাবে আসছিল বলে আত্মবিশ্বাসও দ্রুত বেড়ে যায় ঈশানের। পরিস্থিতি এবং ফিল্ডিং দেখে শট বেছে নিয়েছেন তিনি। রানের গতি ধরে রাখার পাশাপাশি বড় ইনিংস খেলার লক্ষ্যও ছিল তাঁর।
তবে বল পুরনো হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাটিংয়ের ধরন বদলাতে হয়। নরম বল থেকে বড় শট খেলা কঠিন হয়ে পড়ায় বেশি নিয়ন্ত্রিত ভাবে খেলতে হয়েছে তাঁকে। ঈশানের মতে, অনুশীলনেই এমন পরিস্থিতির জন্য ক্রিকেটাররা নিজেদের প্রস্তুত করেন।
ব্যক্তিগত ২৭০ রান নিয়ে না ভেবে দলের স্কোর কী ভাবে আরও বাড়ানো যায়, সেটাই তাঁর মাথায় ছিল। ৪০০ রান পেরিয়ে যাওয়ার পর ৪৫০, তার পর ৫০০—এ ভাবে ধাপে ধাপে দলের লক্ষ্য ঠিক করে এগিয়েছেন তিনি। ঈশানের মতে, নিজের বদলে দলের কথা মাথায় রেখে খেললে ব্যক্তিগত সাফল্যও অনেক সময় আপনাআপনি চলে আসে।
দক্ষিণাঞ্চলের পেসাররা যখন লেগ সাইডে ফিল্ডার রেখে বার বার শর্ট বল করতে শুরু করেন, তখনও বিচলিত হননি ঈশান। এই ধরনের বলের বিরুদ্ধে নিয়মিত অনুশীলন করেন বলে কোন শর্ট বল ছাড়তে হবে আর কোনটি আক্রমণ করতে হবে, তা নিয়ে তাঁর স্পষ্ট ধারণা ছিল।
তবে মহম্মদ সিরাজের ক্ষেত্রে আলাদা পরিকল্পনা নিয়েছিলেন তিনি। ঈশানের মতে, সিরাজের শর্ট বল তুলনামূলক ভাবে বেশি বিপজ্জনক। তাই তাঁর বিরুদ্ধে সামনের পায়ে প্রস্তুত থেকে শর্ট বল ছেড়ে দেওয়াই ছিল পরিকল্পনা। অযথা ঝুঁকি না নিয়ে বড় জুটি গড়াই ছিল পূর্বাঞ্চলের লক্ষ্য।
ঈশানের ২৭০ রানের ইনিংস শুধু ব্যক্তিগত মাইলফলক নয়, অধিনায়ক হিসেবে পরিস্থিতি বুঝে ব্যাটিং করারও বড় উদাহরণ হয়ে থাকল। শর্ট বল থেকে শুরু করে পুরনো বল—প্রতিটি পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে ইনিংস গড়েছেন তিনি।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।