দু’দিনেই ১,৫২৫ খাবারের দোকানে অনিয়ম!!
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে খাবারের দোকান, রেস্তরাঁ, হোটেল ও খাদ্যপ্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে খাদ্যসুরক্ষা দফতরের অভিযান ঘিরে চাঞ্চল্য। মাত্র দু’দিনের অভিযানে ১,৭৩০টি ফুড সেন্টারে পরিদর্শন চালিয়ে ১,৫২৫টি জায়গায় অনিয়মের সন্ধান মিলেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। এর মধ্যে কয়েকটি নামী রেস্তরাঁও রয়েছে। কোথাও বাসি মাংস, কোথাও মেয়াদোত্তীর্ণ সামগ্রী, আবার কোথাও রান্নাঘরের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের অভিযোগ সামনে এসেছে।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে শারদ্বত জানান, প্রথম দিনে ৯০৬টি এবং দ্বিতীয় দিনে ৮২৪টি ফুড সেন্টারে অভিযান চালান আধিকারিকেরা। মোট ১,৫১৭টি প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১১টি দোকানে খাবার বিক্রি বন্ধ করা হয়েছে, পাঁচটির লাইসেন্স বাতিল এবং ১৩টি প্রতিষ্ঠান সিল করে দেওয়া হয়েছে। আরও ১৭টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি দু’দিনে ৯০১টি খাদ্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
কোথায় সবচেয়ে বেশি অনিয়ম?
স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি অনিয়ম ধরা পড়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। জেলায় মোট ২১৫টি প্রতিষ্ঠানে সমস্যা পাওয়া গিয়েছে। তার মধ্যে শুধু ডায়মন্ড হারবারেই ১৫৩টি দোকান রয়েছে।
এ ছাড়া উত্তর ২৪ পরগনায় ১২৮টি, পূর্ব বর্ধমানে ১২৯টি, কলকাতায় ৯৬টি, কোচবিহারে ৮৩টি, বসিরহাটে ৭৭টি, পশ্চিম বর্ধমানে ৬৫টি, নদিয়ায় ৬০টি এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে ৫১টি প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ধরা পড়েছে।
কলকাতা ও আশপাশে কোন কোন নাম উঠে এল?
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সল্টলেকের আরডিবি মলের ‘অ্যাবসলিউট বারবিকিউ নেশন’-এ বাসি খাবার মজুত এবং রান্নাঘরে পোকামাকড় থাকার অভিযোগ উঠেছে। সেক্টর ফাইভের নবদিগন্তে একটি কাঠি রোলের দোকানেও বিক্রি বন্ধ করা হয়েছে। সেখানে অপরিষ্কার ফ্রিজে নষ্ট মাংস, মাছ ও কাঁচা রান্না করা খাবার রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের স্টার মলে ‘রং দে বসন্তী’-র লাইসেন্স সাময়িক ভাবে স্থগিত করা হয়েছে। অভিযোগ, সেখানে বাসি মুরগির মাংস ও মাছ বিক্রি হচ্ছিল এবং মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া উপকরণ রান্নায় ব্যবহার করা হচ্ছিল। লঙ্কার গুঁড়োয় ছত্রাক পাওয়ার কথাও জানিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।
সল্টলেকের চৌরাসিয়া চাটসের লাইসেন্সও স্থগিত করা হয়েছে। সেখানে ‘মেটানিল ইয়েলো’ মজুত ও অস্বাস্থ্যকর খাবারের অভিযোগ রয়েছে। পানিহাটির চাকাওয়ালা, শীতল সুইটস অ্যান্ড স্ন্যাক্স এবং বহরমপুরের বিশ্বাস বেকারির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশ্বাস বেকারির বিরুদ্ধে মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যরং এবং প্যাকেজিংয়ে খবরের কাগজ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
মালদহেও একাধিক দোকানে ব্যবস্থা
মালদহের জ়াইকা রেস্তরাঁ ও শ্রীকৃষ্ণ সুইট শপকে আগে সতর্ক করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। ফের অনিয়ম ধরা পড়ায় সেগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইংরেজবাজারের ‘কলকাতা আর্সালান বিরিয়ানি’-তেও অস্বাস্থ্যকর মাংস ব্যবহারের অভিযোগে বিক্রি বন্ধ করা হয়েছে। রতুয়ার একাধিক জল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বৈধ খাদ্যসুরক্ষা লাইসেন্স না থাকার অভিযোগেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মেটানিল ইয়েলো নিয়ে সতর্কতা
খাদ্যসুরক্ষা আধিকারিকদের বক্তব্য, ‘মেটানিল ইয়েলো’ মূলত রং করার কাজে ব্যবহৃত হয়। অথচ সেটি খাবারে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কেই সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।
রাজ্যে বর্তমানে ৩০টি মোবাইল ফুড ল্যাব রয়েছে। কলকাতায় রয়েছে দু’টি অত্যাধুনিক ল্যাব। শুধু অভিযান নয়, খাদ্যসুরক্ষা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের সচেতন করাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
এ দিন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান অব্যাহত ছিল। হুগলি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ একাধিক জায়গায় বাসি ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবারের সন্ধান মিলেছে। উত্তরপাড়ার একটি মিষ্টির দোকানে দইয়ের পাত্রে মরা মাছি ও আরশোলা পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বকখালির হোটেল-রেস্তরাঁগুলিতেও বাসি খাবার ও ভেজাল সামগ্রী উদ্ধারের কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বার্তা, খাবারের গুণমান নিয়ে কোনও রকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। অভিযান এবং নমুনা পরীক্ষা আগামী দিনেও চলবে
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।