ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডে থানায় ডেরেক!
ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের দফতরে অশান্তির ঘটনায় একের পর এক নেতা-পুলিশের মুখোমুখি হচ্ছেন। মঙ্গলবার শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজিরা দিয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বার বুধবার একই মামলায় থানায় গেলেন রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়।
পুলিশের নোটিস অনুযায়ী, বুধবার সকাল ১০টার মধ্যে শেক্সপিয়র সরণি থানায় পৌঁছন ডেরেক। টানা সাড়ে চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুপুর পৌনে ৩টে নাগাদ থানা থেকে বেরিয়ে যান তৃণমূল সাংসদ। বাইরে অপেক্ষারত সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করলেও কোনও উত্তর দেননি তিনি।
এর আগে সোমবার ডেরেককে থানায় হাজিরার জন্য নোটিস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সে দিন তিনি হাজির হননি। আইনজীবীর মাধ্যমে পুলিশকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছিলেন, নির্ধারিত দিনে তাঁর পক্ষে থানায় যাওয়া সম্ভব নয়। এর পর ফের নোটিস পাঠিয়ে বুধবার হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী নির্ধারিত সময়েই থানায় পৌঁছে যান ডেরেক।
একই মামলায় বুধবার তলব করা হয়েছিল অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কেও। দুপুর ১২টায় তাঁকে হাজির হতে বলা হয়েছিল। তার কিছু আগেই থানায় পৌঁছে যান সুমিত। ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনার তদন্তে তাঁর ভূমিকা নিয়েও পুলিশের প্রশ্ন রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতরের বাইরে থাকা একটি বিলবোর্ড খুলতে গিয়েছিলেন কলকাতা পুরসভার আধিকারিকেরা। পুরসভার দাবি, তৃণমূলের নাম লেখা ওই বিলবোর্ডটি অনুমতি ছাড়াই বসানো হয়েছিল এবং সেটি বিপজ্জনক ভাবে ঝুলছিল। তাই সেটি সরাতে গিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে পুর আধিকারিকেরা দফতরে ঢোকার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগ ওঠে, পুরকর্মীদের কাজে বাধা দেওয়া হয় এবং পুলিশ ও পুর আধিকারিকদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এমনকি মহিলা পুলিশকর্মীদের হেনস্থা এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগও দায়ের হয়েছে।
এই ঘটনায় শেক্সপিয়র সরণি থানায় মোট তিনটি এফআইআর হয়েছে। একটি পুরসভার এক আধিকারিকের অভিযোগের ভিত্তিতে, অন্যটি পার্ক স্ট্রিট থানার এক সার্জেন্টের অভিযোগে। সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, মারধর-সহ একাধিক অভিযোগে মামলা হয়েছে। এফআইআরে অভিষেক, ডেরেক-সহ একাধিক তৃণমূল নেতার নাম রয়েছে। তদন্তের অংশ হিসাবেই তাঁদের বাড়িতে নোটিস পাঠিয়ে থানায় ডেকে পাঠানো হয়।
মঙ্গলবার প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর থানা থেকে বেরিয়ে অভিষেক পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, একটি সাইনবোর্ড সরানোর জন্য বিপুল সংখ্যক পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, এর মাধ্যমে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধের চেষ্টা হচ্ছে। মহিলা পুলিশকর্মীদের হেনস্থার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। উল্টে তাঁর দাবি, তাঁদের ১৩ জন কর্মীকে ‘অবৈধ ভাবে’ গ্রেফতার করা হয়েছে এবং গ্রেফতারের ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হয়নি।
এ দিকে, তদন্তের পরবর্তী ধাপে বৃহস্পতিবার তলব করা হয়েছে তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়কে। তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকেও হাজিরার নোটিস পাঠিয়েছে পুলিশ। ফলে ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই একাধিক তৃণমূল নেতা ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির থানায় হাজিরা দেওয়ার পালা চলছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?