হালিশহরের পর খাস কলকাতায়ও মমতাকে ঘিরে ‘চোর চোর’ স্লোগান!!
হালিশহরের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এ বার খাস কলকাতায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ‘চোর চোর’ স্লোগান ওঠার অভিযোগ। মঙ্গলবার শ্যামবাজারের পাঁচ মাথার মোড়ে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন মমতা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
ক্ষুদিরাম বসুর ছবি হাতে নিয়ে শ্যামবাজারে পৌঁছেছিলেন মমতা। নেতাজির মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানানোর পর তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মরণ করেন। সেই সময়ই তাঁকে লক্ষ্য করে স্লোগান ওঠে বলে অভিযোগ।
ঘটনার জন্য সরাসরি বিজেপিকে দায়ী করেছে তৃণমূল। বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের দাবি, বিজেপি কর্মীরাই এই বিক্ষোভের নেপথ্যে ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পনা করেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে স্লোগান দেওয়া হয়েছে।
শ্রদ্ধা নিবেদনের পরে মমতা বলেন, ‘‘এই সংগ্রামীদের আমরা কোনও দিন ভুলব না।’’ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, মহাত্মা গাঁধী এবং মাতঙ্গিনী হাজরার প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি। মমতার বক্তব্য, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মরণে তাঁরা লোক দেখানো কোনও অনুষ্ঠান করেন না, বরং তাঁদের হৃদয় দিয়ে অনুভব করেন।
হালিশহরের ঘটনার পর ফের বিক্ষোভ
গত রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ায় পুলিশি হেফাজতে মৃত এক তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন মমতা। তাঁর গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। গাড়িতে কাদা এবং চটি ছোড়ার অভিযোগও ওঠে। সেই সময় ‘চোর চোর’ স্লোগান দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ।
ওই ঘটনা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ইতিমধ্যেই উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। এ বার শ্যামবাজারের ঘটনাকে ঘিরে সেই বিতর্ক আরও তীব্র হল। তৃণমূলের অভিযোগ, বিরোধীরা পরিকল্পিত ভাবে রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে। অন্য দিকে, বিরোধী শিবিরের দাবি, এই ধরনের প্রতিবাদ সাধারণ মানুষের ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ।
নেতাজিকে নিয়ে অনন্ত মহারাজের মন্তব্যেও বিতর্ক
এরই মধ্যে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজের মন্তব্যকে কেন্দ্র করেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নগেন রায় ওরফে অনন্ত মহারাজ প্রকাশ্য সভায় নেতাজির স্বাধীনতা আন্দোলনে ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, ভারতকে স্বাধীন করার ক্ষেত্রে নেতাজির কোনও অবদান ছিল না। এমনকি নেতাজিকে ‘দেশদ্রোহী’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনন্ত মহারাজের আরও দাবি, কোচবিহারের মানুষ এবং সেখানকার মহারাজা জগদীপেন্দ্রনারায়ণই ভারতকে স্বাধীন করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। নেতাজি কোথায় গিয়েছিলেন এবং তাঁর উদ্দেশ্য কী ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
থানায় অভিযোগ নেতাজি বাহিনীর
অনন্ত মহারাজের এই মন্তব্যের প্রতিবাদে শিলিগুড়ির নেতাজি বাহিনীর সদস্যেরা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানার পাশাপাশি পুলিশ কমিশনারেটেও অভিযোগ জানানো হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, নেতাজি সম্পর্কে করা মন্তব্যের তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। নেতাজি বাহিনীর সদস্য অভিজিৎ সান্যাল বলেন, শুধু অনন্ত মহারাজ নন, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং অনন্ত মহারাজের সংগঠনের সদস্যদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
একদিকে মমতাকে ঘিরে পর পর বিক্ষোভ, অন্য দিকে নেতাজিকে নিয়ে অনন্ত মহারাজের মন্তব্য— দুই ঘটনাকে ঘিরেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।