নবান্নে ‘বেসুরো’ দুই সাংসদ! এসআইআরে বৈধ ভোটারদের হয়রানি বন্ধ, মসজিদের মাইক নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে আর্জি তাহের-খলিলুরের

নবান্নে ‘বেসুরো’ দুই সাংসদ! ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর ঘিরে মুর্শিদাবাদে সাধারণ মানুষের হয়রানির অভিযোগ তুলে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হলেন এনসিপিআই-এর দুই সাংসদ আবু তাহের খান…

August 8, 2026
1 min read

নবান্নে ‘বেসুরো’ দুই সাংসদ!

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর ঘিরে মুর্শিদাবাদে সাধারণ মানুষের হয়রানির অভিযোগ তুলে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হলেন এনসিপিআই-এর দুই সাংসদ আবু তাহের খান ও খলিলুর রহমান। শনিবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ভোটার তালিকা সংশোধনের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় মসজিদ থেকে মাইক খুলে নেওয়ার বিষয়টিও তাঁরা তুলে ধরেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে নিজেদের বক্তব্য জানান দুই সাংসদ।

তাহেরের দাবি, এসআইআর নিয়ে মুর্শিদাবাদের মানুষের একাধিক সমস্যার কথা মুখ্যমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে। তাঁর কথায়, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া বহু মানুষ প্রথাগত শিক্ষার সুযোগ পাননি। ফলে প্রয়োজনীয় নথিপত্র বোঝা বা সময়মতো আবেদন করা তাঁদের পক্ষে কঠিন। এই পরিস্থিতিতে বৈধ ভোটারদের অযথা হয়রানি না করে আবেদনের সময়সীমা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

তাহের জানান, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় ২৭ লক্ষ নাম বাদ পড়ার বিষয়টি উঠে আসে। তাঁদের মধ্যে প্রায় সাত লক্ষ মানুষ আবেদন করেছেন বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন। বাকি ২০ লক্ষ মানুষের জন্য আরও সময় দেওয়ার আবেদন করেছেন তাঁরা। প্রয়োজনে মুর্শিদাবাদের প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষের হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানিয়েছেন তাহের। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে শুনেছেন এবং সরকারের তরফে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন।

দুই সাংসদের আরও দাবি, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া মানুষদের সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা থেকেও বঞ্চিত করা উচিত নয়। যদিও মুখ্যমন্ত্রী এর আগে জানিয়েছিলেন, যাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন, তাঁরাই সরকারি সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।

বৈঠকে মসজিদের মাইক খুলে নেওয়ার প্রসঙ্গও ওঠে। তাহেরের অভিযোগ, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন এলাকায় মসজিদ থেকে মাইক খুলে নেওয়া হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, তাঁরা সরকারি শব্দবিধি মানতে প্রস্তুত, কিন্তু নমাজের সময় যাতে কোনও সমস্যা না হয়, তা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে নিশানা না করে আইন সবার ক্ষেত্রে সমান ভাবে প্রয়োগের আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

তাহের আরও অভিযোগ করেন, কিছু ক্ষেত্রে পুলিশ পর্যাপ্ত সময় না দিয়েই মাইক খুলে নিচ্ছে। দু’দিন আগেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছেও একই বিষয় নিয়ে তাঁরা আবেদন করেছিলেন বলে জানান তিনি।

এ দিকে তাহের ও খলিলুরের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে মুর্শিদাবাদের সাংসদ ইউসুফ পঠানও দলের অবস্থান নিয়ে ‘বেসুরো’ কথা বলেছিলেন। তাঁরা স্পষ্ট করেছিলেন, নীতিগত ভাবে বিজেপির সঙ্গে না থাকলেও এলাকার মানুষের স্বার্থে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করবেন।

তাঁদের নবান্ন সফর নিয়ে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কটাক্ষ করেছেন। তাঁর প্রশ্ন, বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটে জিতে পরে কেন বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে বার বার দেখা করতে হচ্ছে?

অন্য দিকে, ধর্মীয় স্থান থেকে মাইক খোলার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধীরাও সরব। রাজ্য সরকারের দাবি, শব্দবিধি সংক্রান্ত ২০২০ সালের হাই কোর্টের নির্দেশ মেনেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। নবান্নের তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ধর্মীয় স্থান থেকে মোট ৫২৯৯টি মাইক খোলা হয়েছে। এর মধ্যে মসজিদ থেকে ৪২০৩টি এবং মন্দির থেকে ১০৯৬টি মাইক সরানো হয়েছে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *