অনশন ভাঙার ছবি প্রকাশে প্রতিশ্রুতি ভাঙার অভিযোগ ওয়াংচুকের, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

অনশন ভাঙার ছবি প্রকাশে প্রতিশ্রুতি ভাঙার অভিযোগ ওয়াংচুকের! দিল্লিতে অনশন ভাঙার প্রায় দুই সপ্তাহ পরে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিলেন শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তাঁর অভিযোগ, অনশন…

August 6, 2026
1 min read

অনশন ভাঙার ছবি প্রকাশে প্রতিশ্রুতি ভাঙার অভিযোগ ওয়াংচুকের!

দিল্লিতে অনশন ভাঙার প্রায় দুই সপ্তাহ পরে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিলেন শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তাঁর অভিযোগ, অনশন প্রত্যাহারের সময় যে সমঝোতা হয়েছিল, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা তা মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ভেঙে দেন। বিশেষ করে, অনশন ভাঙার ছবি প্রকাশ না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা রক্ষা করা হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি।

নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায়ে তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে অনশনে বসেছিলেন ওয়াংচুক। ২০ দিন পর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ২৬ দিন পরে গুরুগ্রামের হাসপাতালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংহ-এর হাত থেকে তরল খাবার গ্রহণ করে তিনি অনশন ভাঙেন। সেই সময় প্রকাশ্যে আসা ছবিকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

এক সাক্ষাৎকারে ওয়াংচুক জানিয়েছেন, অনশন ভাঙার আগে তিনি স্পষ্টভাবে শর্ত দিয়েছিলেন যে, বিরোধী নেতা ও আন্দোলনরত ছাত্রদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে যৌথভাবে ঘোষণা করার আগে কোনও ছবি বা খবর প্রকাশ করা যাবে না। তাঁর দাবি, দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সেই শর্তে সম্মত হয়েছিলেন এবং বৈঠকে উপস্থিত গোয়েন্দা সংস্থার আধিকারিকেরাও বিষয়টির সাক্ষী ছিলেন।

ওয়াংচুকের কথায়, মন্ত্রীরা নিজেদের ফটোগ্রাফার নিয়ে এসেছিলেন। তিনি আইবি-র আধিকারিকদেরও অনুরোধ করেছিলেন, সব পক্ষের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত যেন কোনও ছবি বাইরে না যায়। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, অনশন ভাঙার মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই টেলিভিশন চ্যানেলগুলিতে সেই ছবি সম্প্রচার শুরু হয়ে যায়। পরে এক আইবি আধিকারিক এসে তাঁকে বিষয়টি জানান বলেও দাবি করেন তিনি।

ওয়াংচুক বলেন, লাদাখের সংস্কৃতিতে সরকার দাবি মেনে নিলে আধিকারিকদের হাত থেকে স্যুপ বা ফলের রস খেয়ে অনশন ভাঙার রীতি রয়েছে। কিন্তু সেটিকে শুধুমাত্র শাসকদলের নেতাদের উপস্থিতিতে দেখানো হলে ভুল বার্তা যায়। তাঁর অভিযোগ, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ঘটনায় রাজনৈতিক নেতৃত্বের উপর তাঁর আস্থা নষ্ট হয়েছে।

অনশন প্রত্যাহারের পর থেকেই ওয়াংচুক ও আন্দোলনকারী সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র নেতৃত্বের মধ্যে দূরত্ব স্পষ্ট হয়। সংগঠনের নেতারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকেন। পরে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ হলেও, হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর ওয়াংচুকের সঙ্গে সিজেপি নেতাদের আর দেখা যায়নি। এমনকি রাজঘাট সফরেও তাঁকে একাই দেখা যায়।

পরে আন্দোলনের সাফল্য উদ্‌যাপন নিয়ে ওয়াংচুক প্রকাশ্যে মন্তব্য করে বলেন, এমন পরিস্থিতিতে সংযম ও বিনয়ের সঙ্গে উদ্‌যাপন করা উচিত। তাঁর এই মন্তব্যের পর আন্দোলনের নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্ব আরও বেড়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

কেন্দ্রের সঙ্গে কোনও গোপন সমঝোতার অভিযোগও উড়িয়ে দিয়েছেন ওয়াংচুক। তাঁর বক্তব্য, যদি সমঝোতাই করতে চাইতেন, তা হলে ২৬ দিন অনশন চালিয়ে যাওয়ার কোনও প্রয়োজন ছিল না। তাঁর দাবি, আন্দোলনের উদ্দেশ্য ও অবস্থান থেকে তিনি কখনও সরে আসেননি।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *