লিফট-সহ দুইতলা আলমারি!
আলমারি ভর্তি জামাকাপড় নিয়ে মেয়েদের উদ্দেশে মজার মন্তব্য নতুন নয়। কিন্তু জানেন কি, বিশ্বের সবচেয়ে বড় আলমারির মালিক কোনও মহিলা নন? বরং সেই বিরল রেকর্ড রয়েছে ভারতের হায়দরাবাদের ষষ্ঠ নিজ়াম নবাব মির মেহবুব আলি খানের নামে। তাঁর জন্য তৈরি হয়েছিল এমন এক বিশাল ওয়াক-ইন ওয়ার্ডরোব, যা আজ বিশ্বের বৃহত্তম আলমারি হিসেবে পরিচিত এবং বর্তমানে পর্যটকদের আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র।
হায়দরাবাদের ঐতিহাসিক পুরানি হাভেলি প্রাসাদের একটি বড় অংশ জুড়ে তৈরি হয়েছিল এই অনন্য আলমারিটি। উনিশ শতকে নির্মিত দুইতলা এই কাঠামো শুধু পোশাক রাখার জায়গা নয়, বরং নিজ়ামের বিলাসবহুল জীবনযাত্রার এক জীবন্ত সাক্ষ্য। সেগুন ও গোলাপ কাঠ দিয়ে তৈরি এই বিশাল ওয়ার্ডরোবের উচ্চতা প্রায় ১৭৬ ফুট বলে জানা যায়।
এই আলমারির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর পরিকল্পনা। মোট ১২৪টি পৃথক প্রকোষ্ঠ নিয়ে তৈরি হয়েছিল এই ওয়াক-ইন ওয়ার্ডরোব, যেখানে সহজেই ঢুকে প্রয়োজনীয় পোশাক বা সামগ্রী খুঁজে পাওয়া যেত। শুধু তাই নয়, দুইতলার আলমারিতে ওঠানামার জন্য ছিল একটি লিফট এবং একটি দৃষ্টিনন্দন পেঁচানো সিঁড়ি— যা সেই সময়ের স্থাপত্য ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার অনন্য নিদর্শন।
নবাব মির মেহবুব আলি খান ছিলেন অত্যন্ত শৌখিন। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, তিনি একই পোশাক বারবার পরতেন না। তাই তাঁর আলমারিতে ছিল বিভিন্ন উপলক্ষের জন্য আলাদা আলাদা পোশাক— রাজদরবারের জমকালো শেরওয়ানি, যুদ্ধের পোশাক, ঘরোয়া ব্যবহার্য পোশাক, এমনকি স্নানের পর পরার বিশেষ পোশাকও।
ওয়ার্ডরোবের অধিকাংশ পোশাক তৈরি হয়েছিল দামি সিল্ক, ভেলভেট ও ব্রোকেড কাপড়ে। সোনা ও রুপোর সুতোর সূক্ষ্ম কারুকাজ, মুক্তো ও মূল্যবান রত্নের অলঙ্করণ সেই পোশাকগুলিকে আরও সমৃদ্ধ করে তুলেছিল। শুধু ভারতীয় পোশাকই নয়, ইউরোপীয় স্যুট, ওভারকোট, চামড়ার বুট, টাই, রুপোর কাফলিং এবং পকেট ঘড়ির মতো নানা বিদেশি সামগ্রীও ছিল তাঁর সংগ্রহে।
পোশাকের পাশাপাশি নজর কেড়েছিল নিজ়ামের পাগড়ির সম্ভার। বহু পাগড়িতে বসানো ছিল হিরে, পান্নাসহ মূল্যবান রত্ন। এছাড়াও গোলাপ, চন্দন, জুঁই, মাস্ক ও অওধের মতো বিভিন্ন সুগন্ধির সংগ্রহও ছিল তাঁর ব্যক্তিগত ওয়ার্ডরোবের অংশ।
দীর্ঘদিন সংস্কারের জন্য বন্ধ থাকার পর ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে পুরানি হাভেলির এই ঐতিহাসিক অংশটি আবারও পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। এখন দর্শনার্থীরা বিশ্বের বৃহত্তম এই ওয়াক-ইন ওয়ার্ডরোব ঘুরে দেখে নিজ়ামি ঐশ্বর্য ও রাজকীয় জীবনযাত্রার এক অনন্য অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?