চাঁদে আছড়ে পড়তে চলেছে স্পেসএক্সের পরিত্যক্ত রকেট, নতুন গহ্বর তৈরির আশঙ্কা, বাড়ছে মহাকাশ-বর্জ্য নিয়ে উদ্বেগ

চাঁদে আছড়ে পড়তে চলেছে স্পেসএক্সের পরিত্যক্ত রকেট চাঁদের বুকে আগামী ৫ অগস্ট একটি বিরল মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছেন বিজ্ঞানীরা। স্পেসএক্সের একটি পরিত্যক্ত রকেট ঘণ্টায় প্রায় ৮,৭০০ কিলোমিটার বেগে চাঁদের…

August 2, 2026
1 min read

চাঁদে আছড়ে পড়তে চলেছে স্পেসএক্সের পরিত্যক্ত রকেট

চাঁদের বুকে আগামী ৫ অগস্ট একটি বিরল মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছেন বিজ্ঞানীরা। স্পেসএক্সের একটি পরিত্যক্ত রকেট ঘণ্টায় প্রায় ৮,৭০০ কিলোমিটার বেগে চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই সংঘর্ষে চাঁদের মাটিতে একটি নতুন গহ্বর তৈরি হতে পারে। যদিও এতে পৃথিবী বা চাঁদের তাৎক্ষণিক কোনও বড় ক্ষতির আশঙ্কা নেই, তবু মহাকাশ-বর্জ্য এবং চন্দ্রপৃষ্ঠের ভবিষ্যৎ সংরক্ষণ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে উৎক্ষেপিত ওই রকেটটি দুটি বাণিজ্যিক লুনার ল্যান্ডারকে নির্ধারিত পথে পাঠানোর পর তার মূল কাজ শেষ করে। এরপর সেটির কাছে পৃথিবীতে ফিরে আসার মতো পর্যাপ্ত জ্বালানি ছিল না। দীর্ঘদিন মহাকাশে অনিয়ন্ত্রিতভাবে কক্ষপথ পরিবর্তন করতে করতে শেষ পর্যন্ত রকেটটি চাঁদের মাধ্যাকর্ষণের টানে ধরা পড়েছে। বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাস, খুব শীঘ্রই সেটি চাঁদের মাটিতে আছড়ে পড়বে।

এই ঘটনাকে গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবেই দেখছেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। তাঁদের লক্ষ্য থাকবে, সংঘর্ষের ফলে চাঁদের মাটি বা রেগোলিথ কীভাবে ছিটকে ওঠে, কতটা গভীর গহ্বর তৈরি হয় এবং ধুলিকণার বিস্তার কত দূর পর্যন্ত ঘটে, তা বিশদে পর্যবেক্ষণ করা। প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, ২০ থেকে ৩০ মিটার গভীর একটি গর্ত তৈরি হতে পারে।

চাঁদে পৃথিবীর মতো ঘন বায়ুমণ্ডল না থাকায় সেখানে একবার কোনও চিহ্ন তৈরি হলে তা দীর্ঘ সময় ধরে অক্ষত থাকে। অ্যাপোলো অভিযানের মহাকাশচারীদের রেখে যাওয়া পদচিহ্নও এখনও চন্দ্রপৃষ্ঠে অক্ষুণ্ণ রয়েছে। সেই কারণেই বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই রকেটের আঘাতে তৈরি হওয়া গহ্বরও বহু বছর ধরে থেকে যাবে এবং ভবিষ্যতের গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।

তবে এই ঘটনাকে ঘিরে আরেকটি বড় প্রশ্ন উঠে এসেছে— চাঁদে মহাকাশ-বর্জ্য ফেলে রাখার অধিকার আদৌ কার? ভবিষ্যতে যদি আরও পরিত্যক্ত রকেট বা মহাকাশযানের অংশ চাঁদের বুকে আছড়ে পড়তে থাকে, তবে তা ভবিষ্যতের বৈজ্ঞানিক গবেষণা, সম্ভাব্য মানব বসতি কিংবা কক্ষপথে থাকা উপগ্রহগুলির জন্য সমস্যার কারণ হতে পারে। কিছু গবেষকের আশঙ্কা, অতিরিক্ত ধুলিকণা ছড়িয়ে পড়লে ঐতিহাসিক অ্যাপোলো অভিযানের পদচিহ্নের মতো অমূল্য নিদর্শনও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বর্তমানে বিশ্বের একাধিক মহাকাশ সংস্থা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন, খনিজ সম্পদের অনুসন্ধান এবং ভবিষ্যতে মানুষের স্থায়ী বসতি গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। সেই প্রেক্ষাপটে চন্দ্রপৃষ্ঠকে দূষণমুক্ত রাখা এবং মহাকাশ-বর্জ্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

১৯৬৭ সালের আউটার স্পেস চুক্তি অনুযায়ী কোনও দেশ চাঁদের উপর সার্বভৌম অধিকার দাবি করতে পারে না। তবে চাঁদের পরিবেশ রক্ষা বা মহাকাশ-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সেই চুক্তিতে স্পষ্ট নির্দেশিকা নেই। ফলে কোনও দেশের মহাকাশযান বা বেসরকারি সংস্থার রকেট চাঁদে আছড়ে পড়লে তার দায় সংশ্লিষ্ট দেশের উপরই বর্তায়। এই ক্ষেত্রে স্পেসএক্স আমেরিকান সংস্থা হওয়ায় বিষয়টি নিয়েও আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীর কক্ষপথ ও গভীর মহাকাশে ক্রমবর্ধমান মহাকাশ-বর্জ্য ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। পরিত্যক্ত রকেট, উপগ্রহ কিংবা ধ্বংসাবশেষের সঙ্গে কার্যকর মহাকাশযানের সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ছে। তাই মহাকাশ অনুসন্ধানের পাশাপাশি মহাকাশ-বর্জ্যের নিরাপদ নিষ্পত্তির জন্য আন্তর্জাতিক নীতিমালা তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও জোর দিয়ে তুলে ধরছেন বিজ্ঞানীরা।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *