বর্ষায় পায়ের দুর্গন্ধ, ছত্রাক ও ক্লান্তি দূরে রাখতে ঘরেই করুন!
বর্ষাকালে ত্বকের যত্নের কথা অনেকেই ভাবেন, কিন্তু সবচেয়ে বেশি অবহেলিত থাকে পায়ের যত্ন। অথচ কাদা, জল ও আর্দ্রতার সংস্পর্শে সবচেয়ে বেশি থাকে পায়ের পাতাই। ফলে এই সময় ছত্রাক, ব্যাক্টেরিয়া এবং দুর্গন্ধের সমস্যা দ্রুত দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি সারাদিন ভিজে জুতো পরে থাকলে ক্লান্তি, চুলকানি ও গোড়ালিতে অস্বস্তিও বাড়ে। তবে কয়েকটি সহজ উপায়ে বাড়িতেই করা যেতে পারে কার্যকর ‘ফুট ডিটক্স’, যা পা পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি আরামও দেবে।
কী ভাবে করবেন ফুট ডিটক্স?
১. ভালোভাবে পা পরিষ্কার করুন
বাইরে থেকে ফিরে শুধু জল দিয়ে পা ধুলেই হবে না। মৃদু অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল সাবান দিয়ে পায়ের পাতা, গোড়ালি এবং আঙুলের ফাঁক ভালো করে পরিষ্কার করুন। এতে কাদা, ধুলো ও জীবাণা দূর হবে।
২. ঈষদুষ্ণ জলে পা ভিজিয়ে রাখুন
একটি গামলায় গোড়ালি পর্যন্ত ঈষদুষ্ণ জল নিন। খুব গরম জল ব্যবহার করবেন না, কারণ তা ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমিয়ে দিতে পারে।
৩. এপসম সল্ট মিশিয়ে নিন
জলে দু’টেবিলচামচ এপসম সল্ট গুলে দিন। ম্যাগনেশিয়ামসমৃদ্ধ এই লবণ পায়ের ক্লান্তি কমাতে, ফোলা ভাব হ্রাস করতে এবং শক্ত হয়ে যাওয়া ত্বক নরম করতে সাহায্য করে।
৪. টি ট্রি অয়েল ব্যবহার করুন
জলের মধ্যে তিন থেকে চার ফোঁটা বিশুদ্ধ টি ট্রি এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে নিন। এর প্রাকৃতিক অ্যান্টিফাঙ্গাল ও অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল গুণ দুর্গন্ধের কারণ হওয়া জীবাণু কমাতে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি হ্রাস করতে সহায়ক।
৫. ১০ মিনিট আরামে বসুন
পা পুরোপুরি জলে ডুবিয়ে অন্তত ১০ মিনিট বিশ্রাম নিন। এতে পায়ের শক্ত চামড়া নরম হবে, আঙুলের ফাঁকে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার হবে এবং সারাদিনের ক্লান্তিও অনেকটাই দূর হবে।
৬. মৃত কোষ পরিষ্কার করুন
পিউমিস স্টোন বা নরম কাপড় দিয়ে গোড়ালি ও পায়ের তলা আলতোভাবে ঘষুন। এতে মৃত কোষ দূর হয়ে ত্বক আরও মসৃণ ও পরিষ্কার হবে।
৭. শেষে ময়েশ্চারাইজার লাগান
পা ভালোভাবে মুছে নিয়ে অ্যালোভেরা জেল বা হালকা, নন-গ্রিজি ময়েশ্চারাইজার লাগান। এতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকবে এবং পা থাকবে নরম ও সতেজ।
কেন উপকারী এই ফুট ডিটক্স?
বর্ষাকালে নিয়মিত ফুট ডিটক্স করলে পায়ের দুর্গন্ধ, ছত্রাক ও ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণের ঝুঁকি কমে। একই সঙ্গে ক্লান্তি ও ফোলা ভাবও অনেকটাই কমে যায়। সপ্তাহে এক থেকে দু’বার এই সহজ রুটিন মেনে চললে বর্ষার আর্দ্র আবহাওয়াতেও পায়ের স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অনেক সহজ হবে।
তবে যদি পায়ে তীব্র চুলকানি, ক্ষত, অতিরিক্ত লালভাব, পুঁজ বা দীর্ঘদিনের সংক্রমণের লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে ঘরোয়া উপায়ের উপর নির্ভর না করে দ্রুত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?