বিশ্বকাপ ফাইনালেই শেষ বাঁশি!!
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল পরিচালনার পরই রেফারিং কেরিয়ারের ইতি টানলেন স্লোভেনিয়ার অভিজ্ঞ রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ। বিশ্বকাপে ধারাবাহিকভাবে নিখুঁত পারফরম্যান্সের জন্য ‘সেরা রেফারি’র স্বীকৃতি পাওয়া ৪৬ বছর বয়সি এই ম্যাচ অফিসিয়াল আর আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনা করবেন না।
ভিনচিচ প্রথম বিশ্বকাপের ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পান ২০২২ সালে। এরপর ২০২৬ বিশ্বকাপে তিনি মোট ছ’টি ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেন, যার মধ্যে ছিল বহুল আলোচিত আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনালও। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাঁর নির্ভুল সিদ্ধান্ত ও শান্ত উপস্থিতি তাঁকে বিশ্বের অন্যতম সেরা রেফারির মর্যাদা এনে দেয়।
বিশ্বকাপের বাইরেও ইউরোপীয় ফুটবলে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন ভিনচিচ। ২০২৪ সালে রিয়াল মাদ্রিদ ও বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের মধ্যে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল পরিচালনা করেছিলেন তিনি। এছাড়াও ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ, বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব, উয়েফা ইউরোপা লিগ এবং উয়েফা নেশনস লিগের বহু হাই-প্রোফাইল ম্যাচে রেফারির দায়িত্ব পালন করেছেন।
তাঁর আন্তর্জাতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১২ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে, যেখানে তিনি ষষ্ঠ রেফারির দায়িত্বে ছিলেন। পরে ২০১৬ সালের ইউরোতেও একই ভূমিকায় দেখা যায় তাঁকে। শুধু ইউরোপেই নয়, ভারতের সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে তাঁর স্মৃতি। ২০১৭ সালে ভারতে আয়োজিত ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনা করেছিলেন ভিনচিচ, যা তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।
সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে ফাইনালের পাশাপাশি গ্রুপ পর্বে ব্রাজ়িল-মরক্কো এবং জর্ডন-আলজেরিয়া ম্যাচও পরিচালনা করেন তিনি। এছাড়া নকআউট পর্বে মেক্সিকো-ইকুয়েডর ম্যাচেও দায়িত্বে ছিলেন। এর আগে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-সৌদি আরব ম্যাচেও রেফারির দায়িত্ব পালন করেছিলেন, যেখানে লিয়োনেল মেসিদের দল অঘটনের শিকার হয়েছিল। এ বারও ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার হার হওয়ায় কাকতালীয়ভাবে ভিনচিচের পরিচালিত দুই বিশ্বকাপ ম্যাচেই জয় পায়নি আর্জেন্টিনা।
বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই আন্তর্জাতিক রেফারিং জগতের দুই পরিচিত মুখ বিদায় জানালেন। প্রথমে অবসরের ঘোষণা দেন ইংল্যান্ডের রেফারি অ্যান্থনি টেলর। এরপর একই পথে হাঁটলেন ভিনচিচও। টেলর অবসরের কারণ হিসেবে দীর্ঘদিনের মানসিক চাপের কথা জানালেও ভিনচিচ এখনও প্রকাশ্যে কোনও নির্দিষ্ট কারণ জানাননি।
তবে তাঁর বিদায়ের মাধ্যমে বিশ্ব ফুটবল হারাল এমন এক রেফারিকে, যিনি বহু বছর ধরে বড় ম্যাচে নির্ভুল সিদ্ধান্ত, পেশাদারিত্ব এবং স্থির মেজাজের জন্য খেলোয়াড়, কোচ ও সমর্থকদের আস্থা অর্জন করেছিলেন।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?