রং থেকে গবেষণা, শিল্প থেকে সমাজসেবা!
বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি জানাতে ‘বছরের বেস্ট ২০২৬’ সম্মান প্রদান করা হল সমাজের নানা প্রান্তে কাজ করে চলা ন’জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে। শিল্প, বিজ্ঞান, ব্যবসা, সাহিত্য, শিক্ষা, চলচ্চিত্র ও সঙ্গীত— প্রতিটি ক্ষেত্র থেকেই এমন মানুষদের বেছে নেওয়া হয়েছে, যাঁরা নিজ নিজ কাজের মাধ্যমে শুধু সাফল্যই অর্জন করেননি, সমাজেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছেন।
এ বছরের সম্মানপ্রাপকদের তালিকায় রয়েছেন শিল্পী কিংশুক সরকার, বিজ্ঞানী রূপমঞ্জরী ঘোষ, শিল্পপতি হরিমোহন বাঙুর, গায়িকা নিখিতা গাঁধী, শিক্ষক ও সমাজকর্মী তারক চন্দ্র, অভিনেত্রী কাজল, অনুবাদক অরুণাভ সিংহ এবং চলচ্চিত্র পরিচালক অন্নপূর্ণা। প্রত্যেকেই তাঁদের কর্মজীবনে আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছেন।
শিল্পী কিংশুক সরকার শান্তিনিকেতনের শিল্পচর্চাকে নতুনভাবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরছেন। জাপানি শিল্পভাবনা ও ঐতিহ্যকে আধুনিক বাংলার শিল্পের সঙ্গে মিশিয়ে তিনি তৈরি করছেন নতুন দিগন্ত। নিজের হাতে কাগজ ও রং তৈরি থেকে শুরু করে পরীক্ষামূলক শিল্পচর্চা— সব ক্ষেত্রেই তিনি অনন্য।
বিজ্ঞানী রূপমঞ্জরী ঘোষের গবেষণার মূল বিষয় কোয়ান্টাম বিজ্ঞান ও আলোর বৈশিষ্ট্য। আন্তর্জাতিক গবেষণার পাশাপাশি দেশে বিজ্ঞানচর্চা এবং বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, বিশেষত মেয়েদের বিজ্ঞানমুখী করে তুলতেও তিনি নিরন্তর কাজ করে চলেছেন।
ব্যবসার ক্ষেত্রে সম্মানিত হয়েছেন শিল্পপতি হরিমোহন বাঙুর। পশ্চিমবঙ্গে শিল্প ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী এই উদ্যোক্তা আগামী দিনে আরও বড় অঙ্কের বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন।
সঙ্গীতের জগতে স্বীকৃতি পেয়েছেন বলিউডের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী নিখিতা গাঁধী। বাংলা থেকে শুরু করে হিন্দি, তামিল, তেলুগু, ইংরেজি ও আরবি— একাধিক ভাষায় গান গেয়ে তিনি নিজের আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। অনুষ্ঠানে তিনি তাঁর জনপ্রিয় গানও পরিবেশন করেন।
সমাজসেবার জন্য বিশেষ সম্মান পেয়েছেন দৃষ্টিহীনদের জন্য কাজ করা শিক্ষক তারক চন্দ্র। তিনি অডিয়ো লাইব্রেরি তৈরি করে অসংখ্য দৃষ্টিহীন পড়ুয়ার কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁর উদ্যোগে বহু পাঠ্যবই এখন শ্রুতিপুস্তকের মাধ্যমে সহজলভ্য হয়েছে।
চলচ্চিত্র জগত থেকে সম্মানিত হয়েছেন অভিনেত্রী কাজল। বাংলা সিনেমায় এখনও অভিনয় না করলেও ভবিষ্যতে সেই ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বাংলা সংস্কৃতির প্রতি নিজের আবেগও প্রকাশ করেন।
বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সম্মানিত হয়েছেন অনুবাদক অরুণাভ সিংহ। বাংলা ভাষার বহু গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম ইংরেজিতে অনুবাদ করে তিনি আন্তর্জাতিক পাঠকের কাছে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছেন।
চলচ্চিত্র পরিচালনায় স্বীকৃতি পেয়েছেন অন্নপূর্ণা। সমাজের বাস্তব সমস্যাকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে তুলে ধরার জন্য তাঁর কাজ ইতিমধ্যেই প্রশংসিত। তাঁর মতে, শিল্প ও বাণিজ্যের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই ভালো সিনেমা দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
‘বছরের বেস্ট ২০২৬’ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রের এই নবরত্নদের সম্মান জানিয়ে বাংলা সমাজের সৃজনশীলতা, মেধা এবং মানবিকতার বহুমাত্রিক পরিচয়ই আরও একবার তুলে ধরা হল।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?