বিধানসভায় কুণালের খোঁচা!
রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে দলবদলের পরেও পুরনো সম্পর্কের রেশ যে পুরোপুরি কাটেনি, তারই এক ঝলক দেখা গেল বিধানসভা চত্বরে। সম্প্রতি বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দেওয়া কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রকে শুক্রবার হঠাৎই দেখা গেল কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়কদের কর্মসূচিতে। আর সেই উপস্থিতিকে ঘিরেই শুরু হল খুনসুটি, পাল্টাপাল্টি মন্তব্য এবং রাজনৈতিক জল্পনা।
শুক্রবার বিধানসভা চত্বরে নিট-কাণ্ডে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনশনরত সোনম ওয়াংচুকের সমর্থনে ধর্নায় বসেছিলেন কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়কেরা। ঠিক সেই সময় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কক্ষ থেকে বেরিয়ে মদন মিত্র সরাসরি ওই কর্মসূচির কাছে চলে আসেন। হালকা গেরুয়া পাঞ্জাবি পরিহিত মদনকে সেখানে দেখে অনেকেই বিস্মিত হন।
মাত্র দু’দিন আগেই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে ঋতব্রতের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছেন। ফলে তাঁর এই উপস্থিতি ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতেই কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ সুযোগ হাতছাড়া করেননি।
হাসতে হাসতেই কুণাল বলেন, “মদনদা শারীরিক ভাবে অন্য দিকে গিয়েছেন, কিন্তু মন এখনও আমাদের কাছেই রয়েছে। দু-চার দিন যা মন চায় বলুন। আমরা জানি, আমাদের একজন মানুষ ওদের মধ্যে রয়েছেন।” একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, মদনের পরিবারের সদস্যদের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নোটিস পাঠানো হয়েছে।
কুণালের এই মন্তব্যের সময় মদন মিত্রকে হাসিমুখেই সব শুনতে দেখা যায়। পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, আলিফা আহমেদ এবং অশোক দেবরার মতো নেতারাও। পরিবেশ ছিল সম্পূর্ণ হালকা মেজাজের।
এই সময় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে উদ্দেশ করে মদন মিত্র মজা করে বলেন, “আমি চাই শোভনদা আগামী ১০ বছর বিরোধী আসনে বসুন।” জবাবে শোভনদেবও হেসে বলেন, “১০ বছর বিরোধী আসনে বসব! এটা কী বললি? আবার আসিব ফিরে।”
পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মদন মিত্র স্পষ্ট করেন, তিনি শুধুমাত্র সৌজন্যের খাতিরেই ওই কর্মসূচির কাছে গিয়েছিলেন। এর সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের কোনও পরিবর্তনের সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
কুণাল ঘোষের মন্তব্যেরও পাল্টা জবাব দেন মদন। খানিক রসিকতার সুরেই তিনি বলেন, “আমার মনে হচ্ছে, কুণালের মন হারানোর সময় খুব তাড়াতাড়িই আসছে।”
পরিবারের সদস্যদের কেন্দ্রীয় সংস্থার তলব প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন তিনি। মদনের কথায়, “আমার স্ত্রী ও ছেলেকে তদন্তকারী সংস্থা ডেকেছে। তারা অবশ্যই যাবে। এর আগেও ডেকেছে। আমি যদি সত্যিই কোনও অন্যায় করে থাকি, তা হলে আইনের মাধ্যমে তার বিচার হওয়াই উচিত।”
রাজনৈতিক অবস্থান বদলালেও বিধানসভায় এই সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং হাসি-ঠাট্টার মুহূর্ত নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের মাঝেও ব্যক্তিগত সম্পর্ক যে অনেক সময় অটুট থাকে, শুক্রবারের ঘটনাই তার আর এক উদাহরণ হয়ে রইল।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?