ইসরোয় আচমকা পদত্যাগের হিড়িক!!
ভারতের মহাকাশ গবেষণার অন্যতম ভরসা ইসরো (ISRO) সম্প্রতি এক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে। গত কয়েক মাসে ১০০-রও বেশি বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিকর্মীর পদত্যাগ সংস্থার অন্দরে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন গগনযান, চন্দ্রযান-৩, স্পেডেক্স এবং এলভিএম-৩-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে যুক্ত অভিজ্ঞ বিজ্ঞানীরাও। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে মহাকাশ বিভাগ (Department of Space) স্বেচ্ছাবসর ও পদত্যাগের নিয়ম আরও কঠোর করেছে।
কেন বাড়ছে পদত্যাগ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পিছনে কোনও একটি কারণ নয়, বরং একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করছে।
১. বেসরকারি মহাকাশ শিল্পের দ্রুত উত্থান
২০২০ সালে ভারতের মহাকাশ খাত বেসরকারি সংস্থার জন্য খুলে দেওয়ার পর স্কাইরুট অ্যারোস্পেস, অগ্নিকুল কসমস, পিক্সেল, বেলাট্রিক্স অ্যারোস্পেস, ধ্রুব স্পেস ও দিগন্তরার মতো স্টার্টআপ দ্রুত বিকশিত হয়েছে। এই সংস্থাগুলি অভিজ্ঞ ইসরো বিজ্ঞানীদের উচ্চ বেতন, স্টক অপশন এবং নেতৃত্বের সুযোগ দিয়ে আকৃষ্ট করছে।
২. বেতনের বড় ফারাক
প্রাক্তন ইসরো চেয়ারম্যান এস. সোমনাথ নিজেও একাধিকবার বলেছেন, ইসরোর বেতন কাঠামো এখন আর প্রতিযোগিতামূলক নয়। যেখানে দেশের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করা ছাত্রছাত্রীরা বেসরকারি সংস্থায় যোগ দিয়েই কয়েক লক্ষ টাকার বেতন পাচ্ছেন, সেখানে ইসরোয় বেতন তুলনামূলকভাবে অনেক কম। ফলে বহু মেধাবী গবেষক সরকারি সংস্থার বদলে কর্পোরেট বা স্টার্টআপের পথ বেছে নিচ্ছেন।
৩. উন্নত কর্মপরিবেশ ও দ্রুত উন্নতির সুযোগ
বেসরকারি সংস্থাগুলিতে তুলনামূলকভাবে দ্রুত পদোন্নতি, সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা, নমনীয় কর্মসংস্কৃতি এবং নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজের সুযোগ বেশি। ইসরোর মতো বৃহৎ সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অপেক্ষাকৃত ধীর হওয়ায় অনেক তরুণ বিজ্ঞানী বিকল্প পথ খুঁজছেন।
৪. গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের চাপ
গগনযান, চন্দ্রযান, উপগ্রহ উৎক্ষেপণ বা গভীর মহাকাশ মিশনের মতো প্রকল্পে দীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত চাপের মধ্যে কাজ করতে হয়। সেই তুলনায় আর্থিক ও পেশাগত স্বীকৃতি যথেষ্ট নয় বলেই মনে করছেন অনেক কর্মী।
সরকারের উদ্বেগ
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে কেন্দ্রীয় মহাকাশ বিভাগ নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। এখন থেকে গগনযান ও অন্যান্য জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে যুক্ত গ্রুপ ‘এ’-র বিজ্ঞানীদের পদত্যাগ বা স্বেচ্ছাবসরের আবেদন আগের মতো সহজে অনুমোদন করা হবে না। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের পরিচালকের সুপারিশের পর বিষয়টি সরাসরি মহাকাশ বিভাগের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।
কেন বিষয়টি উদ্বেগের?
ইসরোয় বর্তমানে প্রায় ১৪,৬০০ কর্মী রয়েছেন। সংখ্যার হিসেবে ১০০-১২০ জনের পদত্যাগ খুব বড় ক্ষতি না মনে হলেও, তাঁদের অধিকাংশই বহু বছরের অভিজ্ঞ বিজ্ঞানী। নতুন নিয়োগ দিয়ে শূন্যপদ পূরণ করা সম্ভব হলেও গগনযান, চন্দ্রযান বা স্পেডেক্সের মতো জটিল প্রকল্পে অভিজ্ঞতার বিকল্প তৈরি করা সহজ নয়।
২০১২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রায় ৭০০ জন বিজ্ঞানী ইসরো ছেড়েছেন। একই সময়ে প্রায় ১,০৫০টি পদ এখনও শূন্য রয়েছে। ফলে দক্ষ জনবল ধরে রাখা এখন সংস্থার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
শুধু নিয়ম কড়া করলেই কি সমাধান?
প্রাক্তন ইসরো আধিকারিকদের মতে, শুধুমাত্র পদত্যাগের নিয়ম কঠোর করলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। দীর্ঘমেয়াদে প্রতিভাবান বিজ্ঞানীদের ধরে রাখতে হলে বেতন কাঠামোর সংস্কার, কর্মপরিবেশের উন্নয়ন, গবেষণায় আরও স্বাধীনতা, দ্রুত পদোন্নতির সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক মানের পেশাগত স্বীকৃতি নিশ্চিত করাই সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে।
ভারতের মহাকাশ কর্মসূচি এখন গগনযান, ভবিষ্যতের চন্দ্রাভিযান এবং গভীর মহাকাশ অনুসন্ধানের মতো উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যের দিকে এগোচ্ছে। সেই সময়ে অভিজ্ঞ বিজ্ঞানীদের ধরে রাখা শুধু ইসরোর নয়, দেশের মহাকাশ গবেষণার ভবিষ্যতের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?