১৫ হাজার কোটি টাকার ইস্পাত প্রকল্পে মেজিয়ায় শিল্পের নতুন দিশা, ২০ হাজার কর্মসংস্থানের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

১৫ হাজার কোটি টাকার ইস্পাত প্রকল্পে মেজিয়ায় শিল্পের নতুন দিশা! পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর ভারী শিল্পের ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপের সাক্ষী থাকল বাঁকুড়ার মেজিয়া। শুক্রবার সেখানে একটি ইস্পাত শিল্প সংস্থার ১৫…

July 17, 2026
1 min read

১৫ হাজার কোটি টাকার ইস্পাত প্রকল্পে মেজিয়ায় শিল্পের নতুন দিশা!

পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর ভারী শিল্পের ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপের সাক্ষী থাকল বাঁকুড়ার মেজিয়া। শুক্রবার সেখানে একটি ইস্পাত শিল্প সংস্থার ১৫ হাজার কোটি টাকার কারখানা সম্প্রসারণ প্রকল্পের শিলান্যাস করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, এই প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হলে সরাসরি প্রায় ২০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। একই সঙ্গে শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় জানান, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মিলিয়ে প্রায় ৭৫ হাজার মানুষের জীবিকার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

মাত্র কয়েক দিন আগেই হুগলির ডানকুনিতে একটি হোসিয়ারি সংস্থার সম্প্রসারণ প্রকল্পের সূচনা হয়েছিল। তার পরেই মেজিয়ার এই বৃহৎ ইস্পাত প্রকল্পকে নতুন সরকারের শিল্পনীতির গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেছে রাজ্য সরকার।

অনুষ্ঠানে রিমোটের বোতাম টিপে প্রকল্পের শিলান্যাস করার পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তাঁর দাবি, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশের একাধিক বড় শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক শুরু হয়েছে এবং আগামী দিনে আরও বিনিয়োগ রাজ্যে আসবে।

শুভেন্দুর কথায়, “আমার সঙ্গে বড় বড় শিল্পগোষ্ঠীর বৈঠক শুরু হয়ে গিয়েছে। আরও কয়েকটি বৈঠক বাকি রয়েছে। আমরা চাই পশ্চিমবঙ্গ আবার শিল্পে এগিয়ে যাক।”

তিনি জানান, শুক্রবার রাতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যে আসছেন। তাঁর উপস্থিতিতে হাওড়ার ধুলাগড়ে একটি দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ কারখানার ভার্চুয়াল উদ্বোধন হওয়ার কথা। পাশাপাশি অগস্ট মাসে দুর্গাপুরে প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়া দাদনপাত্রহবাড়ের বন্দর প্রকল্পে আদানি গোষ্ঠীর আগ্রহ এবং একটি ব্যাটারি কারখানাসহ আরও দুটি শিল্প প্রকল্পে বিনিয়োগের আশ্বাস পাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। হরিণঘাটায় একটি ই-কমার্স সংস্থার বিনিয়োগের কাজ দুর্গাপুজোর আগেই শুরু হবে বলেও দাবি করেন।

শিল্পের জন্য জমি সংগ্রহের ক্ষেত্রে সরকারের নতুন নীতির কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, অতীতের মতো জোর করে জমি অধিগ্রহণ করা হবে না, আবার বিনিয়োগকারীদেরও নিজেদের উদ্যোগে জমি কিনতে হবে না। প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারই জমি সংগ্রহ করে শিল্প সংস্থার হাতে তুলে দেবে।

আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গেও কড়া বার্তা দেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, শিল্পাঞ্চলে কোনও ধরনের দাদাগিরি, সিন্ডিকেট বা কাটমানি বরদাস্ত করা হবে না। কারখানার কাজে বাধা দিলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

বক্তৃতায় পূর্বতন সরকারেরও সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন শিল্পোন্নয়ন ব্যাহত হয়েছিল এবং ‘বহিরাগত’ ইস্যু তুলে বিনিয়োগের পরিবেশ নষ্ট করা হয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি জানান, রাজ্যের শিল্প পরিকাঠামোকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিনিয়োগবান্ধব প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।

সরকারের আশা, মেজিয়ার এই বৃহৎ ইস্পাত প্রকল্প শুধু বাঁকুড়া নয়, গোটা পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *