তিন স্ত্রী, ২৪ সন্তান, বিপুল সম্পদের মালিক! কাতারকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির বর্ণময় জীবন

কাতারকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির বর্ণময় জীবন! কাতারের আধুনিক রূপকার হিসেবে পরিচিত শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি আর নেই। ৭৪ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন…

July 14, 2026
1 min read

কাতারকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির বর্ণময় জীবন!

কাতারের আধুনিক রূপকার হিসেবে পরিচিত শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি আর নেই। ৭৪ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন প্রাক্তন এই আমির। তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকও তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে।

১৯৫২ সালে জন্ম নেওয়া শেখ হামাদ ইংল্যান্ডের রয়্যাল মিলিটারি অ্যাকাডেমি স্যান্ডহার্স্টে প্রশিক্ষণ নেন। ১৯৭১ সালে কাতারের সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর ধীরে ধীরে দেশের প্রতিরক্ষা, তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস-সহ গুরুত্বপূর্ণ খাতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৯৫ সালে রক্তপাতহীন ক্ষমতা পরিবর্তনের মাধ্যমে তিনি তাঁর বাবা শেখ খলিফা বিন হামাদ আল থানির কাছ থেকে শাসনভার গ্রহণ করেন এবং ২০১৩ সাল পর্যন্ত কাতারের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তাঁর শাসনামলেই কাতার বিশ্বের অন্যতম ধনী ও প্রভাবশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়। বিশ্বব্যাঙ্কের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর নেতৃত্বে দেশের অর্থনীতি কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়। প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে বিপুল আয়কে কাজে লাগিয়ে ২০০৫ সালে গড়ে তোলা হয় কাতার ইনভেস্টমেন্ট অথরিটি (QIA), যা পরবর্তীকালে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী সার্বভৌম সম্পদ তহবিলে পরিণত হয়। এই তহবিলের মাধ্যমে বার্কলেস, ফোক্‌সভাগেন এবং লন্ডনের বিখ্যাত হ্যারডস ডিপার্টমেন্ট স্টোর-সহ বহু আন্তর্জাতিক সংস্থায় বিনিয়োগ করে কাতার।

বিপুল সম্পদের জন্যও শেখ হামাদ ছিলেন আলোচনায়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ কোটি মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় আনুমানিক ১৭ থেকে ২১ হাজার কোটি টাকার সমান। তুলনায় ব্রিটেনের প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫০ কোটি ডলার। অর্থাৎ ব্যক্তিগত সম্পদের নিরিখে শেখ হামাদ তাঁর চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি সম্পদের মালিক ছিলেন। তবে এই হিসাব শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সম্পদের, রাষ্ট্রীয় বা রাজকীয় সম্পদের নয়।

ব্যক্তিগত জীবনেও ছিল বড় পরিবার। শেখ হামাদ তিন বার বিবাহ করেছিলেন। তাঁর তিন স্ত্রীর ঘরে মোট ২৪ জন সন্তান— ১১ জন পুত্র এবং ১৩ জন কন্যা। এত বড় রাজপরিবারের প্রধান হয়েও ২০১৩ সালে তিনি স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়ে দেন। তাঁর চতুর্থ পুত্র শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির হাতে কাতারের শাসনভার তুলে দেন। পশ্চিম এশিয়ার রাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এমন শান্তিপূর্ণ ও স্বেচ্ছাসেবী ক্ষমতা হস্তান্তর বিরল বলেই মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

রাজকীয় জীবনযাপনের অন্যতম প্রতীক ছিল তাঁর বিলাসবহুল সুপারইয়ট ‘আল মিরকাব’। প্রায় ১৩৩ মিটার দীর্ঘ এই প্রমোদতরণীর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩০ কোটি ডলার। সুইমিং পুল, সিনেমা হল, স্পা, জিম, হেলিপ্যাড, ভিআইপি স্যুট-সহ আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধায় সজ্জিত এই ভাসমান প্রাসাদ বিশ্বের অন্যতম বিলাসবহুল ব্যক্তিগত ইয়ট হিসেবে পরিচিত।

কূটনৈতিক দূরদর্শিতা, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং বিশ্বমঞ্চে কাতারের অবস্থানকে শক্তিশালী করার জন্য শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানিকে আজও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী শাসক হিসেবে স্মরণ করা হয়।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *