ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ইউরোপের চাপ বাড়ছে!
বিশ্বকাপ চলাকালীনই নতুন বিতর্কে জড়াল ফিফা। সংস্থার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন ইউরোপের একাধিক আইনপ্রণেতা। বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড এবং পরে তাঁর শাস্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত।
বালোগুন লাল কার্ড দেখার পর তাঁকে দু’ম্যাচের জন্য নির্বাসিত করা হয়েছিল। পরে সেই শাস্তি এক বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়, ফলে তিনি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই দাবি করেন, তিনি এই বিষয়ে ইনফান্তিনোর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন। যদিও ফিফা সভাপতি জানিয়েছেন, সেই ফোনালাপের সঙ্গে শাস্তি স্থগিতের সিদ্ধান্তের কোনও সম্পর্ক নেই।
তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় ইউরোপের একাংশ। কারণ, একই ধরনের অপরাধে ইংল্যান্ডের জ্যারেল কোয়ানসাকে দু’ম্যাচের নির্বাসন ভোগ করতে হচ্ছে। তাঁর ক্ষেত্রে শাস্তি স্থগিতের সুযোগ তো দূরের কথা, আপিলের ক্ষেত্রেও বিশেষ সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এই দুই ঘটনার তুলনা টেনেই প্রশ্ন উঠছে, সব দেশের ক্ষেত্রে কি একই নিয়ম প্রযোজ্য হচ্ছে?
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৭২ জন সদস্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশের ফুটবল সংস্থার সভাপতিদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকেও আলাদা করে একই আহ্বান জানানো হয়েছে। তাঁদের দাবি, বালোগুনের শাস্তি স্থগিতের নেপথ্যে রাজনৈতিক চাপ বা বিশেষ প্রভাব কাজ করেছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ফুটবলের প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও সমতা বজায় রাখতে নিয়ম সকলের জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করা জরুরি। কোনও ব্যতিক্রম হলে তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা এবং প্রয়োজন হলে জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর যোগাযোগও তদন্তের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এটি প্রথম নয়। এর আগেও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রায় ৫০ জন সদস্য সরাসরি ইনফান্তিনোর কাছে চিঠি লিখে বালোগুনের শাস্তি স্থগিতের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। এবার সেই প্রতিবাদ আরও বিস্তৃত আকার নিচ্ছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ফুটবল প্রশাসনকে একজোট করে ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব খতিয়ে দেখার দাবি জোরালো হচ্ছে।
বিশ্বকাপের মতো সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখা ফিফার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তাই এই বিতর্কের পর ফিফা কী পদক্ষেপ নেয় এবং তদন্তের দাবি কতটা গুরুত্ব পায়, সেদিকেই এখন নজর ফুটবল বিশ্বের
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?