মৃত্যুদণ্ডের মুখেও দেশে ফেরার ঘোষণা শেখ হাসিনার, ডিসেম্বরেই আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা

মৃত্যুদণ্ডের মুখেও দেশে ফেরার ঘোষণা শেখ হাসিনার! বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই তিনি দেশে ফিরতে চান এবং আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। ২০২৪ সালের অগস্টে গণআন্দোলনের…

July 10, 2026
1 min read

মৃত্যুদণ্ডের মুখেও দেশে ফেরার ঘোষণা শেখ হাসিনার!

বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই তিনি দেশে ফিরতে চান এবং আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। ২০২৪ সালের অগস্টে গণআন্দোলনের জেরে ক্ষমতা ছেড়ে ভারত চলে আসার পর এই প্রথম তিনি প্রকাশ্যে দেশে ফেরার নির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা জানালেন। তাঁর দাবি, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বা মৃত্যুদণ্ডের আশঙ্কা থাকলেও নিজের দেশের মাটিতেই আইনি লড়াই লড়তে চান।

এক সাক্ষাৎকারে হাসিনা বলেন, দেশে ফিরলেই তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে, এমনকি প্রাণহানির আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তিনি। তবুও তাঁর বক্তব্য, দলের নেতা-কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে নানা মামলার মুখোমুখি এবং দমন-পীড়নের শিকার। তাই তাঁদের পাশে দাঁড়াতে এবং বিচারব্যবস্থার সামনে নিজেকে হাজির করানোই তাঁর কর্তব্য।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে হাসিনা বলেন, যদি মৃত্যুই তাঁর ভাগ্যে লেখা থাকে, তবে সেটি যেন নিজের দেশের মাটিতেই আসে। তাঁর বাবা-মায়ের সমাধিস্থল, তাঁদের স্মৃতিবিজড়িত ভূমিতেই জীবনের শেষ মুহূর্ত কাটাতে চান বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। একই মামলায় প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কমলও দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তবে হাসিনা শুরু থেকেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং দাবি করছেন, তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা করা হয়েছে।

শুধু একাই নন, আওয়ামী লীগের দেশছাড়া একাধিক নেতাকেও সঙ্গে নিয়ে দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন তিনি। তাঁদের পরিকল্পনা, আদালতে আত্মসমর্পণ করে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা। হাসিনার বিশ্বাস, বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হলে মামলাগুলির প্রকৃত চরিত্র দেশের মানুষের সামনে স্পষ্ট হবে।

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, দেশে ফেরার বিষয়ে তিনি ঢাকার সঙ্গে কোনও গোপন আলোচনা করেননি। তাঁর মতে, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোনও গোপন সমঝোতার বিষয় হতে পারে না। এসব বিষয়ে শেষ সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার বাংলাদেশের জনগণেরই।

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর ক্ষমতা হারিয়ে ভারত চলে আসেন হাসিনা। পরবর্তীতে বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয় এবং পরে নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসে। এদিকে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ায় তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। তবুও ভারতে অবস্থান করেও দলকে সক্রিয় রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন হাসিনা। অনলাইন বৈঠক, অডিয়ো বার্তা এবং সংগঠনকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছেন তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কেও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ তাঁর প্রত্যর্পণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই কূটনৈতিক আলোচনা চলছিল।

ডিসেম্বরে সত্যিই শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফেরেন কি না, তা এখন সময়ই বলবে। তবে তাঁর এই ঘোষণায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *