মহুয়ার জরুরি শুনানির আর্জি খারিজ হাই কোর্টে!
কলকাতা হাই কোর্টে মঙ্গলবার একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন ওঠে। একই দিনে সাংসদ মহুয়া মৈত্র, প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু এবং প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ তাঁদের নিজ নিজ মামলায় জরুরি বা দ্রুত শুনানির আবেদন জানান। আদালত সুজিত বসুর আবেদন গ্রহণ করলেও মহুয়া মৈত্রের আবেদন খারিজ করে দেয়। অতীন ঘোষের মামলার শুনানির সম্ভাবনা বৃহস্পতিবার।
মহুয়া মৈত্রের মামলাটি নদিয়ার কালীগঞ্জে তাঁর উপর হামলার অভিযোগকে ঘিরে। অভিযোগ, গত ১ জুলাই ২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতি সভায় যোগ দিতে গিয়ে তিনি ডিম, পোড়া বেগুন, ইট-সহ বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপের মুখে পড়েন। ওই ঘটনার পর তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়ে আইনি সুরক্ষা এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
এর আগে আদালত তাঁর মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছিল। মঙ্গলবার তাঁর আইনজীবী জরুরি ভিত্তিতে মামলার শুনানির আবেদন জানান। তবে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য সেই আবেদন গ্রহণ করেননি। শুনানির সময় বিচারপতি মন্তব্য করেন, “এই ধরনের মামলা গ্যালন গ্যালন দায়ের হচ্ছে।” তিনি জানান, নিয়ম মেনেই মামলা দায়ের হবে এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসারে পরবর্তী শুনানি হবে।
ঘটনার পর মহুয়া মৈত্র দাবি করেছিলেন, সভাস্থলে তাঁর উপর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি সমাজমাধ্যমেও ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
অন্যদিকে, রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর জামিন সংক্রান্ত মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন আদালত মঞ্জুর করেছে। বর্তমানে তিনি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর হেফাজতে রয়েছেন। তাঁর আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি আদালতের কাছে দ্রুত শুনানির আবেদন করলে তা গ্রহণ করা হয়। আদালত জানায়, মঙ্গলবার দুপুর ২টাতেই মামলার শুনানি হবে।
একই দিনে জমি দুর্নীতিকাণ্ডে আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করেন প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষও। তাঁর পক্ষ থেকেও দ্রুত শুনানির অনুরোধ জানানো হয়। তবে বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত জানান, আদালতে বহু সাধারণ মানুষের মামলাও দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় রয়েছে। সেই কারণেই অতীনের মামলায় অবিলম্বে শুনানি সম্ভব নয়। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার মামলাটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হতে পারে।
একই দিনে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মামলার শুনানি ঘিরে আদালতে ব্যস্ততা তৈরি হলেও প্রতিটি মামলার ক্ষেত্রে আদালত পৃথকভাবে পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোথাও জরুরি শুনানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে, আবার কোথাও নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?