অনন্যা পাণ্ডের মন্তব্য ঘিরে প্রশ্ন!
ঘুমের সঙ্গে কোনও আপস করতে রাজি নন বলিউড অভিনেত্রী অনন্যা পাণ্ডে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, কাজ যতই ব্যস্ত হোক না কেন, টানা ১২ ঘণ্টা ঘুম তাঁর চাই-ই চাই। অভিনেত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে— সুস্থ থাকতে কি সত্যিই এতটা ঘুমের প্রয়োজন?
সাক্ষাৎকারে অনন্যাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, যদি ভোর ৫টা পর্যন্ত শুটিং করার পর সকাল ৭টায় জিমে যেতে হয়, তা হলে তিনি কী করবেন? উত্তরে অভিনেত্রী স্পষ্ট বলেন, ঘুমের সঙ্গে তিনি কোনও রকম আপস করতে পারবেন না। তাঁর কথায়, প্রয়োজনে সকালেই জিম সেরে পরের দিন ভোর পর্যন্ত কাজ করা সম্ভব, কিন্তু তারপর অন্তত ১২ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম দরকার। না হলে শরীর আর সাড়া দেবে না।
অনন্যার বক্তব্য হয়তো অনেকের কাছে অবাক করার মতো। তবে চিকিৎসকদের মতে, পর্যাপ্ত ঘুম সুস্থ জীবনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। শুধু বিশ্রাম নেওয়ার জন্য নয়, ঘুমের সময় শরীরে নানা গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক প্রক্রিয়া চলতে থাকে। এই সময় কোষের মেরামতি হয়, পেশি পুনর্গঠিত হয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সক্রিয় থাকে এবং মস্তিষ্ক সারাদিনের তথ্যকে গুছিয়ে সংরক্ষণ করে।
পর্যাপ্ত ঘুম না হলে তার প্রভাব দ্রুতই শরীরে পড়তে শুরু করে। মনোযোগ কমে যায়, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হতে পারে, মেজাজ খিটখিটে হয়ে ওঠে এবং দীর্ঘদিন ঘুমের ঘাটতি চলতে থাকলে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও হৃদ্রোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
তবে তাই বলে সবার জন্য ১২ ঘণ্টা ঘুম জরুরি— এমনটা একেবারেই নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমই যথেষ্ট। অবশ্য ব্যক্তিভেদে এই প্রয়োজন কিছুটা কম-বেশি হতে পারে। কারও শরীর ৭ ঘণ্টাতেই সতেজ হয়ে ওঠে, আবার কেউ ৯ বা ১০ ঘণ্টা ঘুমালে বেশি স্বস্তি পান। তাই অনন্যার ব্যক্তিগত অভ্যাসকে সবার জন্য আদর্শ হিসেবে ধরা ঠিক হবে না।
ঘুমের দৈর্ঘ্যের পাশাপাশি তার মানও সমান গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় বিছানায় কাটালেও যদি বারবার ঘুম ভেঙে যায় বা গভীর ঘুম না হয়, তা হলে শরীর প্রয়োজনীয় বিশ্রাম পায় না। বরং একটানা, নিরবচ্ছিন্ন ও আরামদায়ক ঘুমই শরীর ও মনের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী।
তারকাদের জীবনযাত্রা অনেক সময়ই অনুরাগীদের প্রভাবিত করে। কিন্তু তাঁদের কোনও অভ্যাস অন্ধভাবে অনুসরণ না করে নিজের শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী জীবনযাপন করাই বুদ্ধিমানের কাজ। অনন্যা পাণ্ডের ১২ ঘণ্টার ঘুমের অভ্যাস সবার জন্য প্রয়োজনীয় না হলেও তাঁর একটি বার্তা স্পষ্ট— কাজ যতই থাকুক, সুস্থ থাকতে ঘুমকে কখনও অবহেলা করা উচিত নয়।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?