পাঠ্যবইয়ে শ্যামাপ্রসাদ, বাদ যাবে সিঙ্গুর আন্দোলনের অধ্যায়? বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

পাঠ্যবইয়ে শ্যামাপ্রসাদ! পশ্চিমবঙ্গের স্কুলের পাঠ্যসূচিতে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও অবদান অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে হওয়া সিঙ্গুর আন্দোলন এবং টাটা গোষ্ঠীর রাজ্য ছাড়ার প্রসঙ্গ পাঠ্যবই…

July 6, 2026
0 min read

পাঠ্যবইয়ে শ্যামাপ্রসাদ!

পশ্চিমবঙ্গের স্কুলের পাঠ্যসূচিতে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও অবদান অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে হওয়া সিঙ্গুর আন্দোলন এবং টাটা গোষ্ঠীর রাজ্য ছাড়ার প্রসঙ্গ পাঠ্যবই থেকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাবও সামনে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

সোমবার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী মিত্র ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা করেন তিনি। এই বিদ্যালয়ের সঙ্গে শ্যামাপ্রসাদের দীর্ঘ সম্পর্ক ছিল। তিনি এখানে ছাত্র ছিলেন এবং পরে পরিচালন সমিতির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছিলেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পাঠ্যবইয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান যথাযথভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। পাশাপাশি, যাঁদের আন্দোলনের ফলে টাটা গোষ্ঠী পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে চলে গিয়েছিল, তাঁদের সেই অধ্যায় পাঠ্যসূচিতে রাখার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, শেষ পর্যন্ত কোন বিষয় পাঠ্যক্রমে থাকবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবে সিলেবাস কমিটি। সরকার শুধু তাদের কাছে প্রস্তাব রাখবে।

এই প্রসঙ্গে তিনি জানান, ইতিমধ্যেই স্কুলশিক্ষামন্ত্রী, উচ্চশিক্ষামন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নতুন সিলেবাস কমিটি গঠিত হলে সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাব পাঠানো হবে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে তৎকালীন সরকার স্কুলের পাঠ্যবইয়ে সিঙ্গুর আন্দোলনের উল্লেখ অন্তর্ভুক্ত করেছিল। সেই অধ্যায়ের মধ্যেই টাটা গোষ্ঠীর ন্যানো প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গ থেকে সরে যাওয়ার প্রসঙ্গ রয়েছে। নতুন সরকারের উদ্যোগে সেই অংশ বাদ দিয়ে শ্যামাপ্রসাদের ভূমিকা যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে আগের সরকারের সমালোচনাও করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, শ্যামাপ্রসাদের অবদান দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মিত্র ইনস্টিটিউশন একটি ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান। রাজ্যে হেরিটেজ কমিশন গঠিত হলে এই ভবনকে হেরিটেজ তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করা হবে।

শ্যামাপ্রসাদের স্মৃতিরক্ষা নিয়েও একাধিক পরিকল্পনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, হুগলির জিরাটে জমি কিনে সেখানে তাঁর নামে একটি আধুনিক গ্রন্থাগার গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি, তাঁর ব্যবহৃত সামগ্রী ও স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের জন্য ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে রাজ্য সরকার। এই প্রকল্পের জন্য বাজেটে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

মিত্র ইনস্টিটিউশনের উন্নয়নের জন্য নিজের বিধায়ক তহবিল থেকে ২৫ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তার ঘোষণাও করেন শুভেন্দু অধিকারী।

এদিকে, শ্যামাপ্রসাদের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। কাঁথিতে শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে বিজেপি সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারীও পাঠ্যপুস্তকে শ্যামাপ্রসাদের অবদান অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। অন্যদিকে, তাঁর নাতি বাণীপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বলেন, পাঠ্যসূচি নির্ধারণ করা সম্পূর্ণ সরকারের বিষয়। তবে তাঁর আশা, শুধু শ্যামাপ্রসাদ নন, পরিবারের অন্য সদস্যদের অবদানও ইতিহাসে যথাযথ মর্যাদা পাবে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *