প্যারাগুয়ের রক্ষণ ভেঙে শেষ আটে ফ্রান্স!
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েও জয় তুলে নিল ফ্রান্স। দুর্দান্ত লড়াই করা প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে কিলিয়ান এমবাপের পা থেকে, পেনাল্টি স্পট থেকে। এই গোলের সুবাদে চলতি বিশ্বকাপে সাত গোল করে সোনার বুটের দৌড়ে লিয়োনেল মেসির পাশে উঠে এলেন ফরাসি অধিনায়ক।
প্রথম থেকেই রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে মাঠে নামে প্যারাগুয়ে। কোচ গুস্তাভো আলফারো পাঁচ ডিফেন্ডার এবং চার মিডফিল্ডার নিয়ে এমন একটি রক্ষণ সাজান, যা দীর্ঘ সময় ধরে ফ্রান্সের তারকাখচিত আক্রমণকে আটকে রাখে। এমবাপে, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে ও ব্র্যাডলি বার্কোলারা বারবার অবস্থান বদল করেও পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেননি।
প্রথমার্ধে ফ্রান্স পাঁচটি শট নিলেও একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি। অন্যদিকে প্যারাগুয়ে পাল্টা আক্রমণে খুব বেশি সুযোগ না পেলেও শারীরিক ফুটবল ও আগ্রাসী রক্ষণে বারবার ছন্দ নষ্ট করে দেয় ফরাসিদের। গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলও দুর্দান্ত সব সেভ করে ম্যাচে দলকে টিকিয়ে রাখেন।
বিরতির পর আক্রমণের ধরন বদলায় ফ্রান্স। দূরপাল্লার শটের উপর জোর দেন কোচ দিদিয়ের দেশঁ। মানু কোনে ও আদ্রিয়েন রাবিয়ো একাধিকবার গোলের চেষ্টা করলেও গিলের দুরন্ত গোলকিপিংয়ের সামনে ব্যর্থ হন।
এরই মধ্যে বড় ধাক্কা খায় প্যারাগুয়ে। দলের প্রধান আক্রমণভাগের ভরসা হুলিয়ান এনসিসো এবং অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ওমর আলদেরেতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। সেই পরিবর্তনের পরই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়।
৭০ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা ডিজ়িরে দুয়ে দুরন্ত ব্যক্তিগত দক্ষতায় বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন। তাঁকে আটকাতে গিয়ে ফাউল করেন প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডাররা। প্রথমে রেফারি খেলা চালিয়ে দিলেও পরে ভিএআর দেখে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। স্পট-কিক থেকে কোনও ভুল না করে গোল করেন এমবাপে।
এই গোলের ফলে চলতি বিশ্বকাপে এমবাপের গোলসংখ্যা দাঁড়ায় সাত। সমান সাত গোল রয়েছে লিয়োনেল মেসিরও। পাশাপাশি বিশ্বকাপে মোট গোলের নিরিখে এমবাপে পৌঁছে গেলেন ১৯ গোলে, যা মেসির ২০ গোলের ঠিক এক ধাপ পিছনে। একই সঙ্গে মেসির মতো দু’টি আলাদা বিশ্বকাপে সাত বা তার বেশি গোল করার বিরল নজিরও গড়লেন তিনি।
গোল হজমের পরও হাল ছাড়েনি প্যারাগুয়ে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেলেও ফ্রান্সের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। সংযুক্তি সময়ে এমবাপে আরও দু’বার গোলের সুযোগ পেলেও অরল্যান্ডো গিল অসাধারণ সেভ করে ব্যবধান বাড়তে দেননি।
কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের সামনে অপেক্ষা করছে মরক্কো। শেষ ষোলোয় কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসে টগবগ করছে আফ্রিকার দল। প্যারাগুয়ের রক্ষণভিত্তিক লড়াই ফ্রান্সকে যথেষ্ট ভুগিয়েছে। তবে মরক্কো শুধু রক্ষণেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, পাল্টা আক্রমণেও সমান বিপজ্জনক। ফলে শেষ আটের এই মহারণে এমবাপেদের সামনে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?