টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসকে বিদায়, বোনোর নৈপুণ্যে শেষ ষোলোয় মরক্কো

টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসকে বিদায়! বিশ্বকাপে আরও একটি চমক। জার্মানির পর বিদায় নিল ইউরোপের আর এক শক্তিশালী দল নেদারল্যান্ডস। রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের শেষে টাইব্রেকারে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে…

June 30, 2026
1 min read

টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসকে বিদায়!

বিশ্বকাপে আরও একটি চমক। জার্মানির পর বিদায় নিল ইউরোপের আর এক শক্তিশালী দল নেদারল্যান্ডস। রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের শেষে টাইব্রেকারে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিল মরক্কো। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে ম্যাচ ১-১ সমতায় শেষ হলেও টাইব্রেকারে নায়ক হয়ে উঠলেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনো।

ম্যাচের শুরু থেকেই নেদারল্যান্ডস রক্ষণাত্মক কৌশল নেয়। পাঁচ ডিফেন্ডার নিয়ে খেলতে নামায় কোচ রোনাল্ড কোম্যানের দল। ফলে আক্রমণভাগে প্রয়োজনীয় সমর্থন পাননি কোডি গাকপো ও তাঁর সতীর্থরা। অন্যদিকে, হাকিমি, ব্রাহিম দিয়াজ ও ইসমাইল সাইবারিদের নেতৃত্বে একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে মরক্কো। প্রথমার্ধেই কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করলেও গোল পায়নি আফ্রিকার দল।

দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নামিয়ে আক্রমণে গতি আনার চেষ্টা করেন কোম্যান। সেই সিদ্ধান্তই কিছুটা কাজে দেয়। ৭২ মিনিটে উইট উইঘর্স্টের হেড থেকে বল পেয়ে কোডি গাকপো দুর্দান্ত শটে নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে দেন। গোলের পর আবেগ সামলাতে পারেননি ডাচ তারকা। সম্প্রতি অনাগত সন্তানকে হারানোর ব্যক্তিগত শোকের মধ্যেই বিশ্বকাপ খেলতে নেমেছেন তিনি। তাই গোলের পর তাঁর চোখের জল ছুঁয়ে যায় সতীর্থদেরও।

কিন্তু লিড ধরে রাখতে পারেনি নেদারল্যান্ডস। ম্যাচের শেষদিকে মরক্কোর কোচ মহম্মদ উয়াহাবি সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে সেন্টার-ব্যাক ইসা দিয়পকে স্ট্রাইকারের ভূমিকায় তুলে দেন। সেই কৌশলই সাফল্য এনে দেয়। সংযুক্তি সময়ে ডান প্রান্ত থেকে ভেসে আসা ক্রসে হেড করে সমতা ফেরান দিয়প।

অতিরিক্ত সময়ে দুই দলই সুযোগ পেলেও গোল করতে পারেনি। রহিমির সামনে ম্যাচ জেতার সুবর্ণ সুযোগ এলেও তিনি তা নষ্ট করেন। এরপর খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে।

টাইব্রেকারে শুরুটা ভালো করেছিল নেদারল্যান্ডস। তবে দ্বিতীয় শটেই জাস্টিন ক্লুইভার্ট পোস্টে মারেন। পরে কুইন্টন টিম্বারও সুযোগ হাতছাড়া করেন। শেষ পর্যন্ত সামারভিলের শট অসাধারণ দক্ষতায় আটকে দেন ইয়াসিন বোনো। এরপর ইসমাইল সাইবারি সফল স্পট-কিকে মরক্কোর জয় নিশ্চিত করেন।

ডাচদের বিদায়ের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে তাদের অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক কৌশল। গ্রুপ পর্বে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও নকআউটে সেই ছন্দ দেখা যায়নি। মাঝমাঠে লোকসংখ্যা কম থাকায় রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে যোগাযোগও বারবার ভেঙে পড়ে। শেষদিকে ফ্রাঙ্কি ডি ইয়ং ও গাকপো মাঠ ছাড়ায় টাইব্রেকারেও অভিজ্ঞ শট নেওয়ার ফুটবলার কমে যায়।

অন্যদিকে, মরক্কো আবারও প্রমাণ করল তারা শুধু চমক দেওয়ার দল নয়। দলগত সমন্বয়, শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ এবং সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতায় তারা ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারিয়ে চলেছে। আগের বিশ্বকাপে স্পেন ও পর্তুগালকে বিদায় দেওয়ার পর এ বার নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে আরও একবার নিজেদের সামর্থ্যের পরিচয় দিল আফ্রিকার দেশ।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *