বৈভবের মতো ক্রিকেটার তৈরি করা যায় না!
মাত্র ১৫ বছর বয়সেই ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা করে নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে বৈভব সূর্যবংশী। তাঁর প্রতিভা নিয়ে মুগ্ধ প্রাক্তন ভারতীয় কোচ Rahul Dravid। তাঁর মতে, বৈভবের মতো ক্রিকেটার কোনও নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে তৈরি করা যায় না, এমন প্রতিভা স্বাভাবিক ভাবেই আসে।
রাজস্থান রয়্যালসে বৈভবকে কাছ থেকে দেখেছেন দ্রাবিড়। আইপিএল নিলামে দু’বছর আগে তাঁকেই দলে নিয়েছিল রাজস্থান। গত আইপিএলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর জাতীয় টি-টোয়েন্টি দলে সুযোগ পাওয়ায় তরুণ ক্রিকেটারকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত দ্রাবিড়।
বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমরা সত্যিই এক অনন্য প্রতিভার দিকে তাকিয়ে রয়েছি। বলের গতি বোঝার ক্ষমতা, ক্রিকেটীয় বুদ্ধি এবং ভয়ডরহীন মানসিকতার এক অসাধারণ মিশ্রণ রয়েছে বৈভবের মধ্যে। ওর মতো ক্রিকেটার কোনও নিয়ম মেনে তৈরি করা যায় না।”
দ্রাবিড়ের মতে, শুধু প্রতিভা থাকলেই সাফল্য আসে না। বৈভবের পরিশ্রম এবং ক্রিকেটের প্রতি দায়বদ্ধতাও তাঁকে আলাদা করে তুলেছে।
তিনি বলেন, “কিছু বিষয় ওর মধ্যে জন্মগত। কিন্তু বাকিটা এসেছে কঠোর পরিশ্রম থেকে। ছোট বয়স থেকেই ও প্রচুর অনুশীলন করেছে। রাজস্থানে থাকার সময় সেটা কাছ থেকে দেখেছি।”
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বৈভবের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদী দ্রাবিড়। তবে একই সঙ্গে তরুণ ক্রিকেটারের উপর অতিরিক্ত চাপ না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
দ্রাবিড়ের কথায়, “নতুন এই যাত্রায় বৈভব যেন সব রকম সাহায্য পায়। ওর পাশে থাকা দরকার। এমন প্রতিভাকে আগলে রাখতে হয়। তবে নিয়ন্ত্রণটাও খুব সূক্ষ্ম হতে হবে। কখনও কখনও খেলোয়াড়কে নিজের মতো করে বেড়ে ওঠার স্বাধীনতাও দিতে হয়।”
ভনের চোখেও ‘বিশেষ’ বৈভব
বৈভবের প্রশংসা করেছেন ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক Michael Vaughan-ও। তাঁর মতে, বৈভবের সবচেয়ে বড় শক্তি হল বল পড়ার ক্ষমতা এবং শট খেলার বৈচিত্র।
ভন বলেন, “বল দেখার চোখ এবং ব্যাটের ব্যবহারই বৈভবকে আলাদা করে দেয়। ও খুব ভাল ভাবে বোলারদের পড়তে পারে। ফিল্ডিং দেখে বুঝে নিতে পারে, বোলার কী ধরনের বল করতে পারে। বড় ক্রিকেটারদের মধ্যে এই গুণ থাকে।”
তরুণ ব্যাটারের শটের বৈচিত্র নিয়েও মুগ্ধ ভন। তাঁর মতে, এক্সট্রা কভারের উপর দিয়ে, ডিপ স্কোয়ার লেগের উপর দিয়ে কিংবা থার্ড ম্যানের উপর দিয়েও ছক্কা মারার ক্ষমতা রয়েছে বৈভবের।
ভনের কথায়, “বোলারের লেংথ সামান্য এদিক-ওদিক হলেই বৈভব সেটাকে কাজে লাগাতে পারে। সত্যি বলতে, আমি ভাবছি টেস্ট ক্রিকেটে নামলে ও কী করবে!”
মাত্র ১৫ বছর বয়সে জাতীয় দলের দরজায় পৌঁছে যাওয়া বৈভবকে ঘিরে তাই প্রত্যাশা তুঙ্গে। তবে দ্রাবিড়ের মতো অভিজ্ঞদের মতে, প্রতিভার পাশাপাশি সঠিক পরিচর্যাই ঠিক করবে এই কিশোর তারকা কত দূর যেতে পারেন।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?