ডেলিভারি বয় থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকার সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা! কুণাল শাহের উত্থানের গল্প

কুণাল শাহের উত্থানের গল্প! এক সময় সংসার চালাতে ডেলিভারির কাজ করতেন। কখনও ডেটা অপারেটর, কখনও সাইবার ক্যাফে কর্মী, আবার কখনও কম্পিউটার প্রশিক্ষক। সেই কিশোরই আজ ভারতের স্টার্টআপ জগতের অন্যতম পরিচিত…

June 25, 2026
1 min read

কুণাল শাহের উত্থানের গল্প!

এক সময় সংসার চালাতে ডেলিভারির কাজ করতেন। কখনও ডেটা অপারেটর, কখনও সাইবার ক্যাফে কর্মী, আবার কখনও কম্পিউটার প্রশিক্ষক। সেই কিশোরই আজ ভারতের স্টার্টআপ জগতের অন্যতম পরিচিত মুখ। কুণাল শাহের জীবনযাত্রা যেন এক অনুপ্রেরণার গল্প, যেখানে প্রতিকূলতাকে হারিয়ে সাফল্যের শিখরে পৌঁছনোর নজির রয়েছে।

মুম্বইয়ে জন্ম কুণালের। উইলসন কলেজে দর্শনশাস্ত্র নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন তিনি। পরিবারের ব্যবসা ধাক্কা খাওয়ার পর অল্প বয়সেই সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হয় তাঁকে। মাত্র ১৫ বছর বয়স থেকেই বিভিন্ন ছোটখাটো কাজ করে পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতাই পরবর্তীতে তাঁর ব্যবসায়িক ভাবনাকে আরও বাস্তবমুখী করে তোলে।

কলেজের পর এমবিএ-তে ভর্তি হলেও ডিগ্রি সম্পূর্ণ করেননি কুণাল। তাঁর বিশ্বাস ছিল, বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা অনেক সময় শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার থেকেও বেশি মূল্যবান। সেই ভাবনা থেকেই ব্যবসার জগতে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি।

২০১০ সালে সহকর্মী সন্দীপ টন্ডনের সঙ্গে মিলে একটি মোবাইল রিচার্জভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেন কুণাল। অভিনব ব্যবসায়িক মডেলের জোরে সংস্থাটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। কয়েক বছরের মধ্যেই সেটি দেশের অন্যতম বড় মোবাইল রিচার্জ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয় এবং পরে কয়েকশো কোটি ডলারের চুক্তিতে অধিগৃহীত হয়।

তবে সেখানেই থেমে থাকেননি কুণাল। বাজার পর্যবেক্ষণ করে তিনি বুঝতে পারেন, নিয়মিত ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধকারী গ্রাহকদের জন্য বিশেষ কোনও পুরস্কারভিত্তিক ব্যবস্থা নেই। সেই ভাবনা থেকেই ২০১৮ সালে জন্ম নেয় ‘ক্রেড’। ক্রেডিট স্কোর ভাল এমন গ্রাহকদের জন্য তৈরি এই প্ল্যাটফর্ম দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে। বর্তমানে ক্রেড ভারতের অন্যতম সফল ফিনটেক সংস্থা হিসেবে পরিচিত, যার মূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার।

কুণালের মতে, ব্যবসার মূল চাবিকাঠি প্রযুক্তি নয়, মানুষের আচরণ এবং প্রয়োজনকে বোঝা। তিনি বারবার বলেছেন, গ্রাহকের অভিজ্ঞতার প্রতি সহানুভূতিশীল না হলে দীর্ঘমেয়াদে সফল হওয়া সম্ভব নয়। এই দর্শনই তাঁকে অন্য অনেক উদ্যোক্তার থেকে আলাদা করেছে।

আইআইটি বা আইআইএমের ডিগ্রি ছাড়াই যে বিশ্বমানের সংস্থা গড়ে তোলা সম্ভব, কুণাল শাহ তার অন্যতম উদাহরণ। তাঁর জীবনকাহিনি প্রমাণ করে, সাফল্যের জন্য প্রয়োজন দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করার সাহস।

আজ তিনি শুধু একজন উদ্যোক্তা নন, বরং নতুন প্রজন্মের কাছে আত্মবিশ্বাস ও উদ্ভাবনী চিন্তার এক প্রতীক।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *